আমায় ডুবাইলি রে, আমায় ভাসাইলি রে

সৌম্য ব্যানার্জি এখন কি করছে জানি না তবে সেইদিন দুপুরে আমার সঙ্গে ব্যাটিং করছিল।

ইন্ট্রা কলেজ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সেমি ফাইনাল। আমাদের থার্ড য়িয়ার বনাম কচি কাঁচাদের ফার্স্ট য়িয়ার। পঁচিশ ওভারের খেলা হতো। উত্তেজনা থাকত বেশি, আয়োজন তার চেয়ে ঢের কম। শীতের নরম দুপুরের রোদে ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় জমত খেলার মাঠে। আম্পায়ার নিরপেক্ষ – যে দল খেলছে না তাদের থেকে দুজন। স্কোর রাখা নিয়েই হত মুশকিল। যুধ্ধুমান দুই দলই নিজেদের স্কোরার বসাতো – যাতে কারচুপি না হতে পারে। সেই প্রথম আমি স্কোরে জল মেশানো ব্যাপারটা জেনেছিলুম (পরে সেই পদ্ধতিতে বার্ষিক সেলস কোটায় জল মেশাতে চেষ্টা করেছি – উইথআউট এনি সাকসেস)

যাক, ম্যাচের কোথায় ফেরা যাক। পুটকেগুলো প্রথমে ব্যাট করে বেশ বেধরক ঠেঙিয়ে গুচ্ছের রান বাগিয়ে বসলো। সব থেকে বেশি প্যাদানি খেয়েছিল আমাদের লীড পেসার – সৌম্য ব্যানার্জি। ওর বোলিং তো মার খেয়েছিলই – তার থেকে বেশি মার খেয়েছিলো ওর প্রেস্টিজ। সবে কেমিস্ট্রির রেশমীর সাথে প্রেমটা অঙ্কুরিত হচ্ছে – বাস স্টপ থেকে বাড়ির দুয়ার অবধি এগোনোর সাহস সঞ্চয় হয়েছে। সেই রেশমী বাউন্ডারির বাইরে বসা আর তার সামনেই ফার্স্ট য়িয়ারের ছোড়া কিনা পর পর তিন বলে তিন চার চাবকে দিল? আর করবি তো কর বল করতে নেমে পটা পট আমাদের চার ব্যাটসম্যান নামিয়ে দিল সামান্য রানের বিনিময়? প্রেস্টিজ তখন রালি সিং এর ফালুদার মত কুচি কুচি।

আমি বরাবরই সর্ব ঘটে কাঠালির মত – স্লিপে ফিল্ডিং, হালকা স্পিন বল আর মিডিল অর্ডার নুন আনতে পান্তা টাইপ ব্যাট। আমার ওপর কিনা এসে বর্তালো এই রানের মহাসাগর পার। তবে কিনা আমিও তখন খানিক দেস্পো। থার্ড য়িয়ার হয়ে গিয়েছে, মেয়েরা স্রেফ এসে আঁক কষিয়ে ফুটে যায় – বেশ বুঝতে পারছিলাম ওই এক্সট্রা কারিকুলারএর ছিপেই খেলিয়ে তুলতে হবে কিছু একটা। এন্ড হওয়াই ওয়েস্ট সাচ এন অপ্পরচুনিটি? ক্রিকেটে দলের পিঠে দেয়াল – সামনে ফাইনালের হাতছানি আর রানের পাহাড়। এদিকে হাথে উইকেট বেশি নেই। পরে অবিশ্যি ওই একই থিমে আমির খান গ্রেসী সিংহ আর এক মেমসাহেবকে এক ছিপে গেঁথে তুলেছিল। তবে সেইদিন কলকাতার বুকে চলছিল মহারণ। আমি যত পাগলা মনটাকে বেঁধে মন দিয়ে খেলার চেষ্টা করি, সৌম্য ততই “ফাইট” “ফাইট” বলে প্রায় প্রতি বলের পরেই বক্সারের মতো হাথ ছোড়ে। বাঁকা চোখ রেশমীর দিকে। যাই হোক, কিছু কোদাল চালিয়ে, কিছু তানপুরা বাজিয়ে আমরা রান সংগ্রহে মন দিলাম।

এইবারে স্কোর রাখার ব্যাপারটা বলি। আমাদের হয়ে স্কোর রাখছিল শুভাশীষ। উঠতি গায়ক। কলেজ ফেস্টে মাইক খোলা পেয়ে গিটারিয়া দেবুকে বার খাইয়ে হয়েত তোমারি জন্য গেয়ে দারুন নাম করেছে। আর ওদের – মানে ফার্স্ট য়িয়ারের হয়ে স্কোর রাখছিলো অর্পিতা। শুভো আর অর্পিতা দুজনেই বাগবাজার অঞ্চলে থাকে – সুভোর পুরোদস্তুর নজর আছে অর্পিতার ওপর। স্কোর রাখা হত খাতায় আর একটা ওভার শেষ হতেই – বা দরকার পড়লে তার মধ্যেও – চিত্কার করে স্কোর বলা হত খেলোয়ারদের জন্যে। “আর বাকি দশ ওভার, দরকার সত্তর রান” – এই ধরনের। সুভাশিষের গানের গলা (গণসঙ্গীত নয়) – তাই অর্পিতার গলাটাই পাচ্ছিলাম বেশি। ব্যাট করতে করতে তো আর রান গোনা যায় না, কিন্তু যতই ঠেঙিয়ে রান তুলি না কেন, আস্কিং রেট্ যেন আর নামতে চায় না। আর সৌম্যও ফাইট এর ডেসীবেল বাড়িয়ে তুললো। কিন্তু সেই যাই হোক, শেষ রক্ষা হলো না। ঠিক মনে নেই, কিন্তু এই খানিক দশ বারো রানে আমাদের হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেল ফার্স্ট য়িয়ার।

কিছুদিন পরে ফাইনালের দিন জানতে পারলাম এই স্ক্যাম অফ দ্য সেঞ্চুরি র ব্যাপারে (নব্বই’এর দশক, তাই সেঞ্চুরি সম্বন্ধে একটা ভালো ধারণা হয়ে গিয়েছে। এই স্ক্যাম বোফর্স কেও হার মানায়) প্রথম সন্দেহ হলো অর্পিতাকে স্কোর রাখতে না দেখে। আমার বাড়ির গলিতেই থাকে ফার্স্ট য়িয়ারের সুগত – লাড্ডু নামেই বেশি পরিচিত। চেপে ধরলুম আর লাড্ডু হড় হড় করে উগরে দিল সেই কারচুপির গপ্প। সেইদিন দুপুরে আমাদের ব্যাটিং শুরু হতেই নাকি অর্পিতা সুভাশীষদার প্রতি প্রেম রসে চুপচুপে কিছু মান্না দের গান শুনতে চেয়ে আবদার করে। কেন শোনাবে না শুভো? ঘাড় একটু সোজা করে চোখ বন্ধ করে শুভো গান ধরলো “ঘর ও সংসার সবাই তো চায়” ও পরে “লতিতা ওকে আজ চলে যেতে বলনা” র মত কালজয়ী গান। প্রেমরসে ভারী হয়ে উঠলো পরিবেশ। এর মধ্যেই সৌম্য মারলো এক অনবদ্য কভার ড্রাইভ – হাক পাক করে দৌড়ালাম তিন রান। শুভ গান থামিয়ে জিজ্ঞেস করলো “কত হলো?” “এক রান শুভদা, তুমি গানটা শেষ কর দেখি!”, বলল অর্পিতা। এই ভাবেই চলল স্কোর রাখা। সৌম্য’র ফাইট কে তলিয়ে চলছে “তুমি অনেক যত্ন করে আমায় দুঃখ দিতে চেয়েছ, দিত পারনি” – ঠিক যেন বানর আর তৈলাক্ত বাঁশ। শেষে যখন “যেদিন লব বিদায় ধরা ছাড়ি প্রিয়ে ধুয়ো লাশ আমার লাল পানি দিয়ে” তখন আমাদের অবস্থা সেই বটগাছতলায় দেবদাসের মত। খেল খতম।

গত কাল ইহলোক ত্যাগ করেছেন মান্না বাবু – ওনার গান আমাদের ডুবিয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগেই!

Advertisements

দুগ্গা পুজোর দশ

পূজোর আর মাত্র কয়েক দিন ঘন্টা বাকি। মোহনবাঁশি রুদ্র পাল পাঞ্জাবির হাতা ঠিক করে নিতে নিতে নিজেকে প্রশ্ন করছেন – হ্যাভ আই মেড ইট লার্জ? মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির দুঁদে ভাইস প্রেসিডেন্ট সান ফ্রান্সিসকোর কন কল ক্যানসেল করে দিচ্ছেন আলোকসজ্জা ফাইন টিউন করবেন বলে। কোন্দোমিনিউম এর কমুনিটি হল থেকে ভেসে আসছে “শুভ্র শঙ্খ রবে” এর কোরাস। কতক লজ্জা কতক কোমরের ঘের পেছনে ঠেলে রেবা, অর্পিতা, দেবযানী, দীপালি বৌদিরা পা মেলাচ্ছেন তালে তালে। মোদ্দা কথা হলো দা ফেস্টিভাল ইজ ইন দা এয়ার। কিন্তু আপনি? আপনি তৈরী তো? টু টেক দা বুল – মানে থুড়ি মহিষাসুর – বাই দা হর্ন? চট করে দেখে নিন আপনার দশভূজার দশটি মোক্ষম অস্ত্র। এইগুলি না নিয়ে মাঠে নেমেছেন কি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর মতো কচু কাটা হয়েছেন (দরকার পড়লে একটা প্রিন্ট নিয়ে সঙ্গে রাখুন)

পুদিন হারা: অথবা রানট্যাক। বাগবাজারে জমিয়ে সিঙ্গারাটা খেলেন যে, গাড়ি যতক্ষণে পাঁচ মাথার মোড় আসবে তখন গোল বাড়ির কষা মাংসের গন্ধ কি ভ্যারেন্ডা ভাজবে নাকি? আর যদি মানিকতলা এড়িয়ে সেন্ট্রাল এভিনিউ ধরেন তাহলে গিন্নী কি চাট দেখে হতভম্ব কুইজারের মত “পাস” বলবেন? সঙ্গে রাখুন ছোট্ট সবুজ বড়ি – টুক করে চালিয়ে দিন। দেখবেন যতক্ষণে সব ঘাটের জল খেয়ে বেদুইনে পৌছেছেন ততক্ষণে পেটে গণেশের ইঁদুর ডিস্কো করছে। ঝাঁপিয়ে পড়ুন মশাই – ডরনেকা নেহি, পুদিন হারা খানেকা

ব্যান্ড এইড: হেঁটে যদি ঠাকুর না দেখলেন তো করলেন কি? ঔক্কে, মে মাসে কেনা আই টেন টা নিয়ে বেরোবেন? যেখানে পার্কিং করবেন সেখান থেকে বালিগঞ্জ কালচারাল প্রচুর দূর। আর পায়ে নির্ঘাত নতুন টাটকা শ্রী লেদার্স? ওই যে নরম সরম জেলি মার্কা জিনিষটা গোড়ালির কাছে উঁকি দিছে ঐটে খেয়াল করেছেন? একডালিয়া র দত্ত মেডিকেল বন্ধ। করবেন কি? নেংচে মরে পালিয়ে যাবার রাস্তা ধরবেন? তৌবা তৌবা। ঘাবড়াও মত পদাতিক – পকেট থেকে ব্যান্ড এইড বের করুন, লাগান আর হাজার বছর ধরে পথ হাঁটুন পৃথিবীর বুকে

খুচরো টাকা: বিশেষ করে যদি গাড়ি নিয়ে বেরোন। পার্কিংএর ছোকরা কে একশো ধরিয়েছেন কি কোথায় ধা হয়ে যাবে নেতাজীর মতো – আর টিকিও দেখতে পাবেন না। নেমে যে চেইজ করবেন প্রখর রুদ্রর মতো সেও সম্ভব নয় – পেছনে গাড়ি হর্ন এবং গলা বের করে হুড়ো – দুই ই দিতে শুরু করেছে। বুক পকেটে খুচরো টাকা রাখুন – ভুলবেন না। আজকে থেকে অটো অন্ধকারে যে কাটা দশগুলো গছিয়ে দিয়েছিল সেইগুলি জমিয়ে রাখুন।

পাতি নোকিয়া ফোন: মনে পরে সেই খুদে বিতিকিচ্ছিরি দেখতে ফোনটিকে? মাই ডিয়ার ফ্রেন্ড, এই পুজোয় ঐটিকে বের করুন, আর একটা প্রি পেইড সিম ভরুন। আরে বাবা জানি, আপনার কাছে কাম্পানি প্রভাইডএড আই ফোন ফাইভ আছে, নিয়ে বেরোবেন। কিন্তু যতবার মায়ের সামনে হাথ ওঠাবেন ভক্তিতে সেই ফাঁকে টুক করে একটা ছবি কি তুলবেন না? আর ছবি ই যদি তুললেন সেইটে কি টুইটার বা ফেসবুকে দেবেন না? আর দিলেনই যদি, কটা রি টুইট বা লাইক পেলেন ঘন ঘন দেখবেন না? মশাই, এই করতে করতে কলেজ স্কোয়ার থেকে মহম্মদ আলী পার্ক পৌছাতে পারবেন না ব্যাটারির চৌদ্দটা না বাজিয়ে। তখন সরলা মাসীকে কালকে বেলা করে আসতে বলার ফোনটা করবেন কথথেকে শুনি? বের করুন নোকিয়া, লাগান নাম্বার। ইউ আর অল সেট

এইচ এম টি ঘড়ি: ছাড়ুন মশাই ওই সব ট্যাগ হোগার, বউম মের্সিয়ার আর ওমেগা। সন্তোষ মিত্র স্কোঅরের লাইনের ভিড় ভুলে গেছেন? মানুষের স্রোতে আপনি স্রেফ একটি খরকুটো। ভেসে চলেছেন। কার হাথ ধরছেন টাল সামলাতে, কে আপনাকে খিমছে ধরছে কিছুই বুঝতে পারবেন না। বৌবাজারের মোড়ে এসে যখন “কটা বাজে রে?” বলে কব্জি ঘুরিয়েছেন ততক্ষণে মাল ফাঁকা। গেলো তো, গত বছরের বোনাস? ওই রাস্তাও মাড়াবেন নি (ধুর মশাই, নেবুতলা পার্ক যাবেন, বারণ করছি না) – কিন্তু হাতে রাখুন এইচ এম টি অশোক। যেমন নাম তেমন কাম – চলে গেলেও পস্তাবেন না। পরের মাসে পাঁঠার মাংস থেকে বিরত থাকুন – দেখবেন ঘড়ির দাম উঠে এসেছে। কলেস্টলও কম।

হাথ পাখা: আরে না বাবা – রথের মেলায় যে শক্ত ডাঁটি ওয়ালাগুলো পাওয়া যায় সেগুলি নয়। বেশ হাল ফ্যাশনের ফোল্ডিং পাখা। দেখতে মাউথ অর্গানের মতো কিন্তু খুলে ধরলে যেন সাওয়ান কা মাহিনা তে বানওয়া নাচে মাউর। সুক্ষ কারুকাজ করাও পাওয়া যায় – দাম একটু বেশি পড়বে। বগলে ডিও স্প্রে করা হয়ে গেলে এক পোঁচ খুশবু এইটেতেও মেরে দিন। ঝলকে ঝলেক গন্ধ ছড়াবে, পলকে পলকে পুলক। কি বললেন, কেন নিয়ে বেরোবেন? ও হরি – তা নেবেন না তো গাড়ির পেছনের সীটে বসে কি সেদ্ধ হবেন নাকি? এ সি চালাবেন? মশাই আশি টাকা পেট্রল – বাপের জমিদারী না শ্বশুরের মিনিস্টারি – কোনটা আছে? এ ছাড়া যখন কাকুড়গাছির হানি দা ধাবাতে ডিনার খাবার লাইনে বসে থাকবেন তখন মৃদু মন্দ হওয়া খেতে পারবেন – খিদেটা চনমনে পাবে, মেজাজ কন্ট্রোলে থাকবে।

ছাতা: নাক সিটকোবেন না – একদম না। এই রাজ্যে ওনারা সংখ্যায় কমতে থাকলেও বিধির কিন্তু বাম হতে এক সেকন্ডও লাগে না। মুদিয়ালির মোড়ে আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি এলে করবেনটা কি? গাড়িবারান্দার নিচে কতক্ষণ দাড়াবেন? সঙ্গে ছাতা থাকলে নির্ভয়ে রাসবিহারীর দিকে হাঁটা দিতে পারবেন পথে এবার নামো সাথী পথেই হবে পথ চেনা গুনগুন করতে করতে। আবার নাক সিটকোচ্চেন? আরে মশাই স্টাইলের সাথে কে কম্প্রমাইজ করতে বলেছে? বার্গান্ডি রঙের কুর্তার সঙ্গে রং মিলিয়ে কিনুন না হালকা অ্যাশ কালারের ছাতা। দেখবেন ম্যাডক্সএর ভিজে সুন্দরীরা কেমন ঈর্ষার চোখে তাকাবে।

ডি এস এল আর: ছাড়ুন তো মশাই আপনার স্যামসাং এস থ্রির আট মেগাপিক্সেল। চাঁদে আর পোঁ … যাগ্গে। কম আলোয় তুলবেন শিব মন্দিরের প্রতিমার ছবি, কলেজ স্কোঅরের আলোর প্রতিবিম্ব জলের মধ্যে, শ্রীভূমির দুর্গার হাথে ঘুর্ণীয়মান চক্র, এক্সটেন্ডেড এক্সপোজারএ একডালিয়ার বয়ে যাওয়া ঝাপসা জনস্রোত। তখন ডি এস এল আর ছাড়া কিছুই পোষাবে না। মনে রাখবেন আপনি টেস্ট ম্যাচের খেলোয়াড় – আনতাবরি বিশ-বিশ এর জুয়াড়ি নন। ফেসবুকেই জীবন শেষ নয় – বিজয়ার অতিথি আপ্যায়ন আছে। কুচো নিমকি, নারকেল নাড়ু আর সিঙ্গেল মল্ট এগিয়ে দিয়ে টেবিলে ছড়িয়ে রাখবেন তোলা ছবিগুলো। দেখবেন মিসেস ঘোষ আপনাকে টোটালি অন্য চোখে দেখতে শুরু করবেন।

রুমাল: দুটো। মিনিমাম। পারলে একটা একটু টার্কিশ তোয়ালে গোছের। মনে রাখবেন এইটে দুর্গোত্সব – ক্রিসমাস নয়। গরম থাকবে – ভ্যাপসা ধরনের। কপালের দুই দিক দিয়ে পদ্মা গঙ্গা বয়ে যাবে। নাকের ডগায় ঝুলে থাকবে টলটলে ঘামের ফোঁটা। ঘাড়ের থেকে ডাউনস্ট্রিম নেমে ভিজিয়ে দেবে আপনার আনন্দ থেকে কেনা ডিজাইনার তসর পাঞ্জাবি। এই সবের কিছুই হবে না যদি মনে করে সঙ্গে রুমাল রাখেন। অঙ্কুরেই বিনাশ করুন ঘামকে। মুখ, ঘাড় আর মন – তিনটিই ফুরফুরে থাকবে।

১০ পুজো স্পিরিট: এইটে কিন্তু না নিয়ে বাড়ি থেকে একদম বেরোবেন না। ঠিক আছে – আপনি এমনিতে হায়াত ছাড়া বাইরে খান না – কিন্তু অষ্টমীর রাতে লেকটাউনের ফুঠপাথে যদি ডাবল এগ মটন রোল খেয়ে চোয়া ঢেকুর না তোলেন তো কল্লেন কি স্যার? এমনিতে ভিড় পছন্দ করেন না – অপরিচিতের গা ঘেষাঘেষি একদম নো নো। আরে বাবা, রোজ করতে তো বলছি না – পুজোর সময় কমন ম্যানের কাঁধে কাঁধ মেলান না – দিব্ব্যি লাগবে। মনে গুনগুন করে সলিল চৌধুরী ভাজুন – আরো বেটার ফীল করবেন। সসিয়ালিসম’এর প্রতি বিশ্বাসটা দেখবেন ফের অঙ্কুরিত হয়ে উঠছে।

কিছু মিস করে গেলুম নাকি? মারুন মারুন কমেন্ট মারুন জলদি।

বোলো দুগ্গা মাইকি – জয়!

Sachin Tendulkar Retires

If you can read bangla, please stop right here. Click on the picture below and you are all set

No bangla? No problem. This is a pretty rough translation of the original bangla piece that appeared in the Anandabazar Patrika dated 16th September, 2012 (and what travesty – no mention of the author’s name?).

In a maneuver reminiscent of Back To The Future, we bring you the news – tragic news – splashed all over the country in solid melancholic black. The date – 1st September, 2049…

 

Sachin Tendulkar has announced retirement from international cricket. Coming at only seventy six years of age, the news has stunned cricket followers and pundits all over the world. The President of India first spoke to him on telephone and later paid a personal visit to Sachin’s home (to request that he at least considered continuing to play T10s and T5s) but the little master unequivocally stated that he has never played for himself and he wanted to step down immediately and make room for like-aged colleagues. TV channels across the country are showing on loop immortal images of Sachin walking out with a bat and a walking stick – visuals that have emotionally swept the country for his last 144 innings. Also being shown are footage of Sachin walking out to open the innings with his grandson at Lords (at which the entire stadium stood up and applauded for two hours and forty five minutes, forcing the umpires to call for lunch without a single ball bowled in the session), visuals of him spraining his lower-back during mid-pitch celebrations completing three million runs are also being widely shown on TV. There were concerns that Mumbai could get flooded from the combined tears of all Maharashtrians when they hear this news. Sachin Tendulkar proactively donated seventy seven crores to the Chief Minister’s Relief Fund – his entire endorsement earnings from hearing-aid advertisements last year – to benefit the would-be flood victims. Fevicol and Wisden has jointly announced that no Sachin Tendulkar record will ever be allowed to be broken. If such a situation happens, the records shall immediately be restored to their original state. Planchette experts immediately contacted Late Sunil Gavaskar for his comments on this historic event and he….

 

মঙ্গল হোক, তার মঙ্গল হোক

উরিস্লা – এ কোথায় এনে ফেললি রে বাপ! আবে ডেরাইভার – চোখে ন্যাবা হয়েছে? এত রাস্তা ছায়াপথ দিব্বি পেরিয়ে এলি ফিফথ গিয়ারে আর লাস্ট মাইলে ধেরিয়ে দিলি রাস্কেল? কোথায় বললাম কলকাতা যাব তা সেখানে না এনে পেড়ে ফেললি আর্জেন্টিনা তে? আর তুই কিনা মঙ্গলগ্রহের চাম্পিয়ন ড্রাইভার – “ড্রাইভ মঙ্গল ড্রাইভ” কনটেস্টএর এস এম এস বিজয়ী বীর? কে বলেছিল বাপধন ইন্টার গ্যালাক্টিক ভেহিকেল এর মিউসিক সিস্টেমে আরতি মুকুজ্জের “হারিয়ে যেতে যেতে” বাজাতে? এখন ঠেলা সামলাও! কিন্তু বস একটু যেন গন্ডগোল ঠেকছে? চারদিকে নীল সাদার সমুদ্র ঠিকই কিন্তু ওই উত্তুঙ্গ রক্তমগজ জিনিষটা মনুমেন্ট না? আর ঐতো – গুন্টারএর মর্মরীয় দুঃস্বপ্ন – ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল | তাহলে তো ঠিকই এসেছি! উরিম্মা – ওই দিকে দেখ! কি লোক জমেছে মাইরি – কি হচ্ছে রে? সেই ভাত দাও গো, ফ্যান দাও গো কেস নাকি রে আবার? কি বললি – শহীদ দিবস? আবার কে টপকালো মাইরি? ও হো – বামফ্রন্ট ক্যালানো পঞ্চত্ব প্রাপ্ত দের জন্যে কালেকটিভ ক্রন্দন – বুয়েছি| ওই যে মহিলা কচ্ছে  খেলা হাথ পা নেড়ে স্টেজের পরে উল্লাসে উনি কি সেই নাকি রে? আবে আস্তে কর না  স্লা চোদনা – এট্টু ভালো করে দেখি | কোনো কথা হবে না মাওয়া – লেজেন্ডারি লেডি | স্লা কি গলা মাইরি – মঙ্গলে তোর বৌদিও নির্ঘাত শুনতে পাচ্ছে | নামা নামা, এই এইখানেই সাইড করে নামা | উফ, দেশ বটেক এই শহর কলকাতা | মোড়ে মোড়ে যত না রোলের দোকান তার থেকে বেশি পোয়েটিক ক্যারেকটারস | চল একটু পায়ে হেঁটে এক্সপ্লোর করে আসি | ভেহিকেলটা লক করে দিস বাবা – নয়েতো ফিরে এসে দেখবি ভেতরের মালপত্তর হওয়া! দিয়েছিস? চল চল উর্ধ গগনে মাদল বেজে গেছে এইবার এই উতলা ধরনীতলটা একটু ঘুরে আসি – এতটা পথ শুদু তোর থোবড়া দেখে দেখে স্লা বোর হয়ে গেছি – একটু কোয়ালিটি সোশাল ইন্টারএকশন না করলে মনটা ভালো হবে না …

(মঙ্গলদার কলকাতা ভ্রমন কেমন হয়েছিল? উনি কার কার সঙ্গে দেখা করেছিলেন? সেখানে সঠিক কি ঘটেছিল? এর পরের অংশটা আমরা শুনব মঙ্গলদার হিডেন রেকর্ডিং ডিভাইস এর থেকে | সময় হয়েছে একটা ছোট্ট বিরতির – ফিরে আসব এখুনি | চোখ রাখুন টিভির পর্দায় – আমি কুমন আর আপনারা দেখছেন গুলবাজার পত্রিকা টি ভি য়ানিকি জিবিপি আনন্দ)

মমতা ব্যানার্জি : হু ইউ? আপনি কে? হুইচ হরিদাস? মঙ্গল গ্রহের রং লাল আমি জানি আর এও জানি যে আপনারা সিক্রেটলি মাওবাদীদের প্রতি সহানভুতিশীল | ইউ আর দা মাওবাদী? ত়া না হলে নিশ্চই সি পি এম? কে পাঠিয়েছে – গৌতম দেব? দেখে নেব সবকটাকে পঞ্চায়েত ভোটে – এই স্যাল কচুকাটা দেম | সঙ্গে ওই ক্রীতদাস মুন্সীটাকেও | আর মশাই বলুন তো – আপনি ফর এফ ডি আই না এগায়ন্স্ট , আঁ? আপনারা তো কিছুদিন আগেই আমেরিকার একটা যান কে নামতে দিয়েছেন আপনাদের দেশে | নিশ্চই সাম ডীল হাস টেকেন প্লেস – এফ ডি আই এর হয়ে তদ্বির করতে এসেছেন? শুনে রাখুন মিস্টার মঙ্গল – নো এফ ডি আই ইন বেঙ্গল (মদন, ছড়াটা টুকে রাখো তো)| টাইম মেগাজিন যতই আমায় গ্যাস খাওয়াক – আমি নড়ছি না | গ্যাস এর কথায় মনে পড়ল – আপনাদের ওখানে সাবসিডিতে বছরে কটা সিলিন্ডার দেয়?

সৌরভ গাঙ্গুলী : আপনাদের মঙ্গল প্রিমিয়ার লীগটা ঠিক কি ফর্মাট এ হয়? কোচ, কাপ্টেন, ওপেনিং ব্যাট, ওপেনিং বল – এই রকম কোনো রোল আছে আপনাদের লীগে? মালিকরা টিমের ব্যাপারে নাক গলায় ? কি বললেন – আপনাদের ফোকাস ইস অন ইয়ং প্লায়ের্স ? যত্ত ঢপের চপ – শুনুন, এই বয়েস ফয়েস টা কোনো ব্যাপারী নয় | কুড়ি ওভারের খেলা – চব্বিশটা বল করতে হবে আর গোটা দশেক স্লগামী – এইত কেস? আররে বস, জ্যোতিবাবু বেঁচে থাকলে উনিও পারতেন | যত্ত সব…(হ্যা হ্যা … সাহারাশ্রী কে বলে দে দাদা বাড়ি নেই…)

ঋতুপর্ণ ঘোষ : দেখুন আপনাকে প্রথমেই জানিয়ে রাখি যে চিত্রাঙ্গদা – ফর গডস সেক – ওয়াস ব্রট আপ লাইক আ ম্যান | এইটা আপনাকে বুঝতে হবে আধুনিক যৌনতা কেন্দ্রিক সেক্সুয়ালিটির উর্ধে উঠে – না না আপনাকে মাটি থেকে উঠে যেতে হবে না | নেমে আসুন নেমে আসুন – আমাদের সাউথ সিটি থেকে লোকজন আজকাল খুব ঝাপ দিচ্ছে | ছবিতে ফিরে আসি – “ছি ছি কুত্সিত কুরূপ সে” বলছে এক জায়গায় রবীন্দ্রনাথ – “কুরুপা” বলছে কি? বলছে না | উফ, না – যে মদন এর বরে সে সুরূপা হলো তিনি মদন মিত্র নন | আর আমি ডাইরেক্ট করব না অভিনয় করব সেইটা বলার লোক পোসেনজিত কে? আপনাদের মঙ্গলে কটা স্ক্রীনে রিলিস করেছে ছবিটা? ওখানকার কিছু পসিটিভ রিভিউ আছে যেটা আমি রি-টুইট করতে পারি?

গৌতম দেব: প্রথমেই জানতে চাই যে আপনি এই যে কুড়ি তারিখের ধর্মঘট – সেই ধর্মঘটের সময় এলেন কেন? আপনি কি বনধ বিরোধী? আপনি কি ওই মা-মাটি-ম্লেচ্ছ দের দলের লোক নাকি? এক প্রতিক্রিয়াশীল দেশ আপনাদের দূত পাঠালো আর আপনারা কোনো শ্রেণী-সংগ্রাম না করেই তাদের রেড কার্পেট পেতে দিলেন? এইটা কি মগের মুলুক না সিঙ্গুর? আমাদের দেশের এখন ঘোর বিপত্তি – লোকজন ওয়াল মার্ট এ জিনিস কিনতে চাইছে – চাষীরা মেট্রো ক্যাশ এন্ড ক্যারি কে মাল বেচতে চাইছে – হাসতে কাতুরি, ইয়ে মানে কাস্তে হাতুড়ির তলায় কেউ আসতে চায় না | এইটা চলতে পারে না – আপনাদের মডেল টা কি ? রাস্তায় বস্তা পেতে পটল বিক্রি করতে হলে লোকাল কমিটিকে কত দিতে হয় আপনাদের ওখানে?

অঞ্জন দত্ত : “টি ভির এন্টেনা বাঁচিয়ে আস্তে করে…নেমে এলো বড় বড় চোখ! অঞ্জন একজন সাদামাঠা টাকমাথা লোক” | অনেক আগে লিখেছিলাম বুঝলেন খানিকটা গৌতমদার থেকে ঝেড়ে – আজকে আপনার জন্যে একটু পাল্টে দিলাম | সেই স্ট্যানলি বোস বলল – “পাল্টে দেবার স্বপ্ন আমার এখনো গেল না” – সেই থেকে পাল্টাই| গান থেকে সিনেমায় পাল্টালাম – ওফ বাবা – রঞ্জনা করে সে কি গঞ্জনা শুনতে হলো | দুটো ব্যোমকেশ করলাম…এই একদম…ওই মানিকদার চিড়িয়াখানার থেকে অনেক বেটার, জানেন – কিন্তু এই আজকালকার পাগলু পাবলিক খেলো না | মঙ্গলে জীবনমুখীর বাজারটা কিরকম? ধরুন “হরিপদ আজ অনেক আলোকবর্ষ দূরে” বলে যদি একটা ছবি করি – চিত্রনাট্য, সঙ্গীত, পরিচালনা সব আমার – কেমন চলবে বলতে পারেন?

(চলতে থাকবেন মঙ্গল দা….যদি আপনারা আশির্বাদ করেন | আর মাওবাদী বলে গ্রেপ্তার করে যদি শিলাদিত্য বানিয়ে না দেন)