School Bus

Poor Naveen was late

It was the day to get back after an extended weekend. A weekend that also involved the Durga Puja, which unfailingly means heaps of fun. Naveen was not a Bengali (for who the festival is real big) but had lived a couple of years at Durgapur, a town some one hundred miles west of Kolkata, built around a steel plant. The time, though short, was enough to indoctrinate him to the five days of sheer fun that Durga Puja was. It was this morning-after, however, that Naveen dreaded the most. The alarm clock would blare its gut even when the winter solstice sun barely peeped out to say hello. The mind was still groggy from the sweets of the previous evening. An inevitable shrill lady voice would announce shortly – Naveen you are late. The mad scramble then to get ready for yet another day

Naveen, short and not really very well built, now started to walk briskly to reach his bus-stop just outside the gate of the community where they lived. The bus arrives precisely at 7:10 am – and the driver (who in his past life must have been an army fellow) was least likely to wait that extra minute in case someone was late. Naveen noticed the door to Manish’s home was ajar – shit, Manish then must have already made it to the bus stop. Usually Naveen met Manish at his gate and chatted their final few meters to the bus stop. Clutching his shoulder slung bag to reduce swing, Naveen now broke into a run. Actually he had wanted to reach the bus stop early today. To take his chances of sitting next to Alpana, the drop-dead beautiful Bengali girl with large bewitching eyes. Alpana usually got great sweets the day after Dussehra – or Bijoya as she keeps referring to the festival. More than the sweets, it was Alpana’s fragrance mixed with the light petrol smell of the bus that Naveen felt was a heady olfactory concoction early in the morning. Taking the sharp turn at the clubhouse, Naveen could now see the gate and as he puffed his heart out he remembered he had forgotten his tiffin box on the dining table. For a moment he froze, trying to make the decision whether to rush back. He could visualize the lonely Tupperware “dabba” sitting atop the dining table. The digital watch on his wrists said 7:07. Ditch – he decided! On the day when everyone at lunch time will be hunched up at the desks hogging and exchanging dussehra goodies, Naveen will have to walk down to buy some food. But that is better than missing the bus. And Alpana. The bus, goddamn it, was already at the bus stop. The engine was running and it was just about to move – without Naveen – when Alpana sitting next to a window saw him running. Alpana half raised herself from her seat and gesticulated. The bus stalled and the driver put his flailing arm out to rush Naveen – as if he needed the hustle. Ahmed, the driver, was always in a hurry. Naveen barely had any breath left in his lungs or force in his legs as he pushed himself up the three steps and hauled himself and his bag onto the bus cabin. He was greeted with the usual cheer from his mates. The cheer of congratulations in making it to the bus combined with the good-to-see-you-again cheer after the extended weekend. Naveen slid the bag from his shoulder and noticed the seat next to Alpana was taken. Flopping down on a seat next to Gurdeep, Naveen gulped his own saliva to soothe the dry throat. Gurdeep turned towards Naveen, thrust his hand out and said, “Oye, happy dusserah yaar. How was last quarter for you? Targets met?”

The company bus, having picked up its final passenger, started the one hour drive towards Electronic City.

One cannot call this a short story. It is a mere chronicle of an incident involving office-going adults; parts of an event I often witness in my mornings. My memories take me back to my school days and it is impossible to not notice the sheer similarity of circumstances. Did a giant black hole devour the intervening years or are we destined to relive our pasts no matter how much we have walked ahead along the sands of time?

Advertisements

দুগ্গা পুজোর দশ

পূজোর আর মাত্র কয়েক দিন ঘন্টা বাকি। মোহনবাঁশি রুদ্র পাল পাঞ্জাবির হাতা ঠিক করে নিতে নিতে নিজেকে প্রশ্ন করছেন – হ্যাভ আই মেড ইট লার্জ? মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির দুঁদে ভাইস প্রেসিডেন্ট সান ফ্রান্সিসকোর কন কল ক্যানসেল করে দিচ্ছেন আলোকসজ্জা ফাইন টিউন করবেন বলে। কোন্দোমিনিউম এর কমুনিটি হল থেকে ভেসে আসছে “শুভ্র শঙ্খ রবে” এর কোরাস। কতক লজ্জা কতক কোমরের ঘের পেছনে ঠেলে রেবা, অর্পিতা, দেবযানী, দীপালি বৌদিরা পা মেলাচ্ছেন তালে তালে। মোদ্দা কথা হলো দা ফেস্টিভাল ইজ ইন দা এয়ার। কিন্তু আপনি? আপনি তৈরী তো? টু টেক দা বুল – মানে থুড়ি মহিষাসুর – বাই দা হর্ন? চট করে দেখে নিন আপনার দশভূজার দশটি মোক্ষম অস্ত্র। এইগুলি না নিয়ে মাঠে নেমেছেন কি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর মতো কচু কাটা হয়েছেন (দরকার পড়লে একটা প্রিন্ট নিয়ে সঙ্গে রাখুন)

পুদিন হারা: অথবা রানট্যাক। বাগবাজারে জমিয়ে সিঙ্গারাটা খেলেন যে, গাড়ি যতক্ষণে পাঁচ মাথার মোড় আসবে তখন গোল বাড়ির কষা মাংসের গন্ধ কি ভ্যারেন্ডা ভাজবে নাকি? আর যদি মানিকতলা এড়িয়ে সেন্ট্রাল এভিনিউ ধরেন তাহলে গিন্নী কি চাট দেখে হতভম্ব কুইজারের মত “পাস” বলবেন? সঙ্গে রাখুন ছোট্ট সবুজ বড়ি – টুক করে চালিয়ে দিন। দেখবেন যতক্ষণে সব ঘাটের জল খেয়ে বেদুইনে পৌছেছেন ততক্ষণে পেটে গণেশের ইঁদুর ডিস্কো করছে। ঝাঁপিয়ে পড়ুন মশাই – ডরনেকা নেহি, পুদিন হারা খানেকা

ব্যান্ড এইড: হেঁটে যদি ঠাকুর না দেখলেন তো করলেন কি? ঔক্কে, মে মাসে কেনা আই টেন টা নিয়ে বেরোবেন? যেখানে পার্কিং করবেন সেখান থেকে বালিগঞ্জ কালচারাল প্রচুর দূর। আর পায়ে নির্ঘাত নতুন টাটকা শ্রী লেদার্স? ওই যে নরম সরম জেলি মার্কা জিনিষটা গোড়ালির কাছে উঁকি দিছে ঐটে খেয়াল করেছেন? একডালিয়া র দত্ত মেডিকেল বন্ধ। করবেন কি? নেংচে মরে পালিয়ে যাবার রাস্তা ধরবেন? তৌবা তৌবা। ঘাবড়াও মত পদাতিক – পকেট থেকে ব্যান্ড এইড বের করুন, লাগান আর হাজার বছর ধরে পথ হাঁটুন পৃথিবীর বুকে

খুচরো টাকা: বিশেষ করে যদি গাড়ি নিয়ে বেরোন। পার্কিংএর ছোকরা কে একশো ধরিয়েছেন কি কোথায় ধা হয়ে যাবে নেতাজীর মতো – আর টিকিও দেখতে পাবেন না। নেমে যে চেইজ করবেন প্রখর রুদ্রর মতো সেও সম্ভব নয় – পেছনে গাড়ি হর্ন এবং গলা বের করে হুড়ো – দুই ই দিতে শুরু করেছে। বুক পকেটে খুচরো টাকা রাখুন – ভুলবেন না। আজকে থেকে অটো অন্ধকারে যে কাটা দশগুলো গছিয়ে দিয়েছিল সেইগুলি জমিয়ে রাখুন।

পাতি নোকিয়া ফোন: মনে পরে সেই খুদে বিতিকিচ্ছিরি দেখতে ফোনটিকে? মাই ডিয়ার ফ্রেন্ড, এই পুজোয় ঐটিকে বের করুন, আর একটা প্রি পেইড সিম ভরুন। আরে বাবা জানি, আপনার কাছে কাম্পানি প্রভাইডএড আই ফোন ফাইভ আছে, নিয়ে বেরোবেন। কিন্তু যতবার মায়ের সামনে হাথ ওঠাবেন ভক্তিতে সেই ফাঁকে টুক করে একটা ছবি কি তুলবেন না? আর ছবি ই যদি তুললেন সেইটে কি টুইটার বা ফেসবুকে দেবেন না? আর দিলেনই যদি, কটা রি টুইট বা লাইক পেলেন ঘন ঘন দেখবেন না? মশাই, এই করতে করতে কলেজ স্কোয়ার থেকে মহম্মদ আলী পার্ক পৌছাতে পারবেন না ব্যাটারির চৌদ্দটা না বাজিয়ে। তখন সরলা মাসীকে কালকে বেলা করে আসতে বলার ফোনটা করবেন কথথেকে শুনি? বের করুন নোকিয়া, লাগান নাম্বার। ইউ আর অল সেট

এইচ এম টি ঘড়ি: ছাড়ুন মশাই ওই সব ট্যাগ হোগার, বউম মের্সিয়ার আর ওমেগা। সন্তোষ মিত্র স্কোঅরের লাইনের ভিড় ভুলে গেছেন? মানুষের স্রোতে আপনি স্রেফ একটি খরকুটো। ভেসে চলেছেন। কার হাথ ধরছেন টাল সামলাতে, কে আপনাকে খিমছে ধরছে কিছুই বুঝতে পারবেন না। বৌবাজারের মোড়ে এসে যখন “কটা বাজে রে?” বলে কব্জি ঘুরিয়েছেন ততক্ষণে মাল ফাঁকা। গেলো তো, গত বছরের বোনাস? ওই রাস্তাও মাড়াবেন নি (ধুর মশাই, নেবুতলা পার্ক যাবেন, বারণ করছি না) – কিন্তু হাতে রাখুন এইচ এম টি অশোক। যেমন নাম তেমন কাম – চলে গেলেও পস্তাবেন না। পরের মাসে পাঁঠার মাংস থেকে বিরত থাকুন – দেখবেন ঘড়ির দাম উঠে এসেছে। কলেস্টলও কম।

হাথ পাখা: আরে না বাবা – রথের মেলায় যে শক্ত ডাঁটি ওয়ালাগুলো পাওয়া যায় সেগুলি নয়। বেশ হাল ফ্যাশনের ফোল্ডিং পাখা। দেখতে মাউথ অর্গানের মতো কিন্তু খুলে ধরলে যেন সাওয়ান কা মাহিনা তে বানওয়া নাচে মাউর। সুক্ষ কারুকাজ করাও পাওয়া যায় – দাম একটু বেশি পড়বে। বগলে ডিও স্প্রে করা হয়ে গেলে এক পোঁচ খুশবু এইটেতেও মেরে দিন। ঝলকে ঝলেক গন্ধ ছড়াবে, পলকে পলকে পুলক। কি বললেন, কেন নিয়ে বেরোবেন? ও হরি – তা নেবেন না তো গাড়ির পেছনের সীটে বসে কি সেদ্ধ হবেন নাকি? এ সি চালাবেন? মশাই আশি টাকা পেট্রল – বাপের জমিদারী না শ্বশুরের মিনিস্টারি – কোনটা আছে? এ ছাড়া যখন কাকুড়গাছির হানি দা ধাবাতে ডিনার খাবার লাইনে বসে থাকবেন তখন মৃদু মন্দ হওয়া খেতে পারবেন – খিদেটা চনমনে পাবে, মেজাজ কন্ট্রোলে থাকবে।

ছাতা: নাক সিটকোবেন না – একদম না। এই রাজ্যে ওনারা সংখ্যায় কমতে থাকলেও বিধির কিন্তু বাম হতে এক সেকন্ডও লাগে না। মুদিয়ালির মোড়ে আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি এলে করবেনটা কি? গাড়িবারান্দার নিচে কতক্ষণ দাড়াবেন? সঙ্গে ছাতা থাকলে নির্ভয়ে রাসবিহারীর দিকে হাঁটা দিতে পারবেন পথে এবার নামো সাথী পথেই হবে পথ চেনা গুনগুন করতে করতে। আবার নাক সিটকোচ্চেন? আরে মশাই স্টাইলের সাথে কে কম্প্রমাইজ করতে বলেছে? বার্গান্ডি রঙের কুর্তার সঙ্গে রং মিলিয়ে কিনুন না হালকা অ্যাশ কালারের ছাতা। দেখবেন ম্যাডক্সএর ভিজে সুন্দরীরা কেমন ঈর্ষার চোখে তাকাবে।

ডি এস এল আর: ছাড়ুন তো মশাই আপনার স্যামসাং এস থ্রির আট মেগাপিক্সেল। চাঁদে আর পোঁ … যাগ্গে। কম আলোয় তুলবেন শিব মন্দিরের প্রতিমার ছবি, কলেজ স্কোঅরের আলোর প্রতিবিম্ব জলের মধ্যে, শ্রীভূমির দুর্গার হাথে ঘুর্ণীয়মান চক্র, এক্সটেন্ডেড এক্সপোজারএ একডালিয়ার বয়ে যাওয়া ঝাপসা জনস্রোত। তখন ডি এস এল আর ছাড়া কিছুই পোষাবে না। মনে রাখবেন আপনি টেস্ট ম্যাচের খেলোয়াড় – আনতাবরি বিশ-বিশ এর জুয়াড়ি নন। ফেসবুকেই জীবন শেষ নয় – বিজয়ার অতিথি আপ্যায়ন আছে। কুচো নিমকি, নারকেল নাড়ু আর সিঙ্গেল মল্ট এগিয়ে দিয়ে টেবিলে ছড়িয়ে রাখবেন তোলা ছবিগুলো। দেখবেন মিসেস ঘোষ আপনাকে টোটালি অন্য চোখে দেখতে শুরু করবেন।

রুমাল: দুটো। মিনিমাম। পারলে একটা একটু টার্কিশ তোয়ালে গোছের। মনে রাখবেন এইটে দুর্গোত্সব – ক্রিসমাস নয়। গরম থাকবে – ভ্যাপসা ধরনের। কপালের দুই দিক দিয়ে পদ্মা গঙ্গা বয়ে যাবে। নাকের ডগায় ঝুলে থাকবে টলটলে ঘামের ফোঁটা। ঘাড়ের থেকে ডাউনস্ট্রিম নেমে ভিজিয়ে দেবে আপনার আনন্দ থেকে কেনা ডিজাইনার তসর পাঞ্জাবি। এই সবের কিছুই হবে না যদি মনে করে সঙ্গে রুমাল রাখেন। অঙ্কুরেই বিনাশ করুন ঘামকে। মুখ, ঘাড় আর মন – তিনটিই ফুরফুরে থাকবে।

১০ পুজো স্পিরিট: এইটে কিন্তু না নিয়ে বাড়ি থেকে একদম বেরোবেন না। ঠিক আছে – আপনি এমনিতে হায়াত ছাড়া বাইরে খান না – কিন্তু অষ্টমীর রাতে লেকটাউনের ফুঠপাথে যদি ডাবল এগ মটন রোল খেয়ে চোয়া ঢেকুর না তোলেন তো কল্লেন কি স্যার? এমনিতে ভিড় পছন্দ করেন না – অপরিচিতের গা ঘেষাঘেষি একদম নো নো। আরে বাবা, রোজ করতে তো বলছি না – পুজোর সময় কমন ম্যানের কাঁধে কাঁধ মেলান না – দিব্ব্যি লাগবে। মনে গুনগুন করে সলিল চৌধুরী ভাজুন – আরো বেটার ফীল করবেন। সসিয়ালিসম’এর প্রতি বিশ্বাসটা দেখবেন ফের অঙ্কুরিত হয়ে উঠছে।

কিছু মিস করে গেলুম নাকি? মারুন মারুন কমেন্ট মারুন জলদি।

বোলো দুগ্গা মাইকি – জয়!

The Lonely Cuisine

There was a time, about a decade and a half back, when I would hear a lot of this. “You know, in a lot of ways, they are like us”. This was a Bengali seeking the comfort of commonality with a Gujarati. Drilling down on the point would reveal that the resemblance stopped at a mutual affinity for the sweet taste. “They put so much sugar in their cooking, you know”, would be the next gush of coyness. Desperation of a culture in seeking a bedfellow (that too in one that is perched at the other end of the country’s map) is perhaps the first sign of debilitation. But then we Bengalis have so often prided ourselves on our self proclaimed loneliness on a self anointed cultural peak. “We are different, baba, bujhbe na (you won’t understand)”. We allow a single political party – Communists – to rule our state for more than three decades, drive a marquee car factory out of the state (to Gujarat, no less), support South Africa when a Sourav Ganguly-less Indian team plays at the Eden Gardens – we are indeed different, baba, bujhbe na. So frenzied has been our zeal to not be bracketed with the “bourgeoisie” and “decadent cultures” that slowly the world has happily left us alone in our cubbyholeDraupadi Hotel

Hence it does not come as a surprise when Bengali cuisine gets the same treatment and is allowed cessation from the culinary milieu of India. “Bengali food” is an institution by itself and in a way has meandered away from the mainstream (as you can see from the photograph that adorns this post. This was taken at Puri, Odhisa). The divergence starts right from the mustard oil that is used as the cooking medium (until recently before clever marketing moved the dial a bit towards the vegetable and sunflower oils. Actually, I have this thumb rule of determining a higher concentration of Bengalis in a given Bangalore locality – check the shelves of the local Foodworld for Dhara mustard oil). And goes right down to the Ravi Shastri wire when the venerable (and hence by definition lonely) mishti-doi is served after the meal. Loneliness is fine so long as others are aspiring to reach that vaulted spot, but that clearly wasn’t what was happening with Bengalis. We got left behind and elements of our culture never made it past the Bengal-Jharkhand border. The story was the same with Bengali cuisine, until chains like “Oh, Calcutta” and “6 Ballygunje Place” did their bits as culinary ambassadors, reaching out to metros other than Calcutta (though, I must confess, a large part of their clientele are Bengalis residing in those metros)

Richness of the Bengali cuisine is accentuated by the fact that it is also an international culmination of two very culturally rich heritages – that of East Bengal (now Bangladesh) and the traditional West Bengal (immortalized in popular parlance as “bangal” and “ghoti” owing allegiance to East Bengal and Mohun Bagan respectively in club football). It really has no reason to go around looking for vague similarities and extend shameless “friend” requests – to use a Facebook metaphor – eking out frivolous culinary similarities in other cultures. Cultural exchanges, including culinary ones, happen out of a feeling of mutual respect – not condescension.

Perhaps the revolution can start at Puri.
————————————————————————————————–
Wouldn’t it be poetic if the said “Draupadi Hotel” specialized in five cuisines and not three?

 

চশমান্বেষী

choshmaপুজোর উপন্যাস লেখা সমাপ্ত হইয়াছে – গত সপ্তাহে প্রকাশকের জিম্মায় ছাড়িয়া হাঁফ দিয়া বাচিয়াছি। আজকাল অকালবোধনের কতটা প্রাক্কালে কে পূজাবার্ষিকী প্রকাশ করিবে তার জমজমাট রেষারেষি শুরু হইয়াছে। বাঙালি পূজা মন্ডপে পূজার নুতন লেখার পর্যালোচনা করিতে পারিবার অঢেল সময় পায়। ব্যোমকেশের হাতে কোন বড় কাজ নাই। সরকার বাহাদুরের পুলিশ অত্যন্ত পারদর্শিতার সহিত দুশমন দমন করিতেছে – ব্যোমকেশ কে বিরক্ত করার কারণ তাহাদের ঘটে নাই। ব্যোমকেশকে কয়েক মাস পূর্বে ইষৎ তিক্ততার সহিত সাধারণ নাগরিকের পুলিশ ভক্তির কটাক্ষ করিতে শুনিয়াছি। তবে গত হপ্তায় বার দুয়েক ব্যোমকেশের ফোন আসে এবং ও দিনের বেলায় বেশ কিছুক্ষণ বাড়ির বাহিরে কাটায়। আমার অসমাপ্ত উপন্যাসের নায়ককে সংসারের জটিল ও কুটিল পথ হইতে সিধে রাস্তায় অবতরন করাইতে ব্যাস্ত থাকায় আমার ব্যোমকেশের সঙ্গ দেয়া হয়ে ওঠে নাই। এদিকে কলকাতা শহরে গত তিন দিন ধরিয়া অবিশ্রান্ত বৃষ্টি হইয়াছে – পথ ঘাট কর্দমাক্ত। তাই বিশেষ দরকার ছাড়া গৃহের বাহিরে যাইবার তাগিদও অনুভব করি নাই। সত্যবতীও খিচুরী, ডিম ভাজা, বেগুনি ইত্যাদি লোভনীয় খাদ্য সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমানে রান্ধিয়া আমাদের গৃহে থাকিবার কারণের পাল্লা ভারী করিয়া তুলিয়াছে। তদসত্তেও ব্যোমকেশ বার দুয়েক ছাতা বগলে করিয়া বাহিরে গিয়াছে। প্রথম দিন সত্যবতী জানিতে চাহিয়াছিল কি এমন কর্ম ব্যোমকেশের যাহা না সম্পন্ন করিলে মহাভারত অশুদ্ধ হইবে তবে সঠিক কোন জবাব না পাইয়া হাল ছাড়িয়া দেয়। দ্বিতীয় দিন ব্যোমকেশ বাহির হইবার উপক্রম করিতেই শুনিলাম রান্নাঘর থেকে সত্যবতী গুন গুন করে গান ধরিল – গহন কুসুম কুঞ্জ মাঝে, মধুর মধুর বংশী বাজে। বুঝিলাম সংসারে নামক রণভূমিতে যুদ্ধ জিতিবার জন্যে সরাসরি আক্রমণই এক মাত্র অস্ত্র নহে।

যুগপৎ স্বামীর অভাব ও তার প্রতি বিরুপতার কারণে সত্যবতী উপুরজুপরি চায়ের সরবরাহ ও চিঁড়ে ভাজা, পোস্তর বড়া ইত্যাদির মাত্রা বাড়াইয়া তুলিল। দুপুর গড়িয়ে যেতেও যখন ব্যোমকেশের পাত্তা পাইলাম না, তখন আমরা দুইজন মধ্যাহ্ন ভোজন সারিয়া পান মুখে দিয়া গল্প করিতে বসিলাম। কয়েক বৎসর যাবত ব্যোমকেশের গল্প লইয়া ছবি বানাইবার হিড়িক পরিয়াছে। আমরা এই সব ছবির চিত্ররূপ লইয়া চায়ের পেয়ালায় পর্যাপ্ত তুফান তুলিয়াছি। ছবিতে ব্যোমকেশের শানানো, ছিপ ছিপে চেহারার পাশে আমার ঈষৎ স্থুল ও জড়ভরত চরিত্রায়নের পরিহাস করিতে ব্যোমকেশ ছাড়ে নাই। শেষে একটা ছবিতে সত্যবতীর আবির্ভাবে গৃহে শান্তি পরিস্থাপিত হয় – বিবাহিত নায়কের স্ত্রীচরিত্র বর্জিত চিত্ররূপ নাটকীয়, সংসারীয় ও নানা বিস্তর কারণে একেবারেই কাম্য নহে। যাই হোক, ব্যোমকেশের আর একটি কীর্তি অবলম্বনে একটি নূতন ছবি মুক্তি পাইবার দোরগোড়ায়। পাড়ায় পাড়ায় দেয়ালে হ্যান্ডবিল সাঁটানো হইয়াছে – দৈনিক কালকেতুর পাতায়ও ছবির কিছু স্থিরচিত্র ছাপানো হইয়াছে। সেই সূত্র ধরিয়াই আমি ও সত্যবতী আলোচনা করিতেছিলাম যে  ব্যোমকেশের কোন কীর্তি লইয়া এক নাটকীয় ছবি করা যাইতে পারে, এবং তাহার নায়ক নায়িকা চরিত্রে কাহাদের অভিনয় করা সমীচীন হইবে  বাহিরে বৃষ্টি থামিলেও বিদ্যুৎ ও বাজ পরিবার বহর দেখিয়া অনুমান করা যায় দুর্যোগ এখনো সরিয়া যায় নাই। ঠিক এমন সময় হুড়মুড় করিয়া দরজা ভাঙ্গিয়া ফেলার উপক্রম করিয়া ব্যোমকেশের প্রবেশ! চটি কর্দমাক্ত, কাপড়ে কাদার ছিটে – কিন্তু মুখে একগাল হাসি। “ওহে কপোত কপোতী, তোমাদের প্রেমালাপে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্যে ক্ষমা চাইছি!”, বলিয়া মিটি মিটি হাসিয়া দাঁড়াইল – তার ভাবসাব একদমই ক্ষমাপ্রার্থীর নহে। “জামা জুতো ছেড়ে আসছি অজিত, তারপর দারুন গপ্পো শোনাব। ওগো প্রিয়ে, এক কাপ চা হবে কি খানিক আদার কুচি দিয়ে?”, ব্যোমকেশকে মুখে মুখে ছড়া কাটতে বহুদিন শুনি নাই। সত্যবতী মুখ টিপিয়া উঠিয়া রান্নাঘরের দিকে গেল। খানিক পর শুনিলাম গান ভাসিয়া আসিতেছে – বধু এমন বদলে তুমি কোথা । বিরহী যক্ষ কখনো মেঘ, কখনো সঙ্গীতকে প্রেমের হাতিয়ার করে।

আরামকেদায় বসিয়া, আমার টিন হইতে সিগারেট ধরাইয়া একরাশ ধোঁয়া ছাড়িয়া ব্যোমকেশ শুরু করিল। “অপরাধের মহামারি, মক্কেলের মহামারি এই সবের মধ্যে যখন একটা সামান্য কেস আসে, সেইটাই খড় কুটোর মতো আঁকড়ে ধরতে হয়, বুঝলে অজিত। কর্নওয়ালিস স্ট্রিটে দুর্জয় ঘোষের বাড়িতে যখন চুরি হল, উনি আমাকে ডাকলেন স্রেফ এই কারণে যে পুলিশ তার অতি পুরনো ও বিশ্বস্ত চাকর নলেনকে ধরে নিয়ে গিয়ে হাজতে ভরে রেখেছে”।

“কি চুরি গেল?”

“বাড়ির দলিল। দুর্জয় ঘোষের শ্যামবাজারে একটা বাজারের আংশিক মালিকানা আছে। বিস্তর আয় হয় সেখান থেকে। সেই মালিকানার দলিল। থাকতো যে সিন্দুকে সেইটা থেকে নলেন নাকি পূর্বে কয়েকবার তার বাবুর জন্যে কাগজ বের করে দিয়েছে – তাই তার পক্ষে সিন্দুকের বাকি জিনিষের হদিশ জানা সহজ ছিল। বরাট দারোগার তাই মত”।

“দুর্জয় ঘোষ তো বিষয় সম্পত্তির রাঘব বোয়াল – তার সিন্দুক থেকে দলিল চুরি করলে আংশিক মালিকানার কেন? অংশীদারদের সঙ্গে মেলা হ্যাপা করতে হবে না?”

চা আসিয়াছিল ও তাহাতে আদার সুগন্ধ পাইয়া বুঝিয়াছিলাম বাহিরে মেঘ ঘনীভূত হইলেও ঘরের আকাশে রোদের ঝিলিক খেলিয়াছে। চায়ের পেয়ালা টানিয়া লইয়া তাহাতে লম্বা চুমুক দিয়া ব্যোমকেশ কহিল “শুধু কি তাই নাকি? ওই দলিল নিয়ে নলেন করবেটা কি? বরাটের ধারণা ও বাকি অংশীদারদের ওই দলিল মোটা টাকায় বিক্রি করার ধান্দা ফাঁদছিল। কিন্তু সেই যুক্তিতেও বিস্তর গলদ। যতই শহুরে হোক না কেন, আদতে গ্রাম্য নলেনের পক্ষে চুরির পর এই জটিল কাণ্ড ঘটানো প্রায় অবাস্তব”।

“নলেনের ওপর সন্দেহ পড়ল কি করে গা?”, সত্যবতী স্টোভ নিভাইয়া দিয়া বৈঠকখানায় ফের আসিয়া বসিয়াছিল।

“চশমা”

“চশমা?”, আমি ও সত্যবতী যুগপৎ প্রশ্ন করিলাম

“হ্যাঁ, চশমা। অকৃতদার দুর্জয় বাবু বাড়িতে একলাই থাকেন। চুরির সেই রাত্তিরে উনি বাজ পড়ার আওয়াজে জেগে যান ও রাস্তার ল্যাম্প পোস্টের আলোয় চোরের চেহারা খানিক দেখতে পান। সবটা ভালো না দেখলেও এইটে পরিষ্কার দেখেন যে চোরের চোখে চশমা আছে। একে তো বাড়িতে আর কেউ নেই আর নলেন চশমা পরে। ব্যাস, মারে হরি রাখে কে – সোজা বরাটের শ্রীগৃহে “।

“আহারে, বেচারা হয়েত সত্যি চুরি করেনি। তা তুমি এই সবের মধ্যে কি করলে গা?”

ব্যোমকেশ ত্রিপয়ের উপর পা তুলিয়া দিয়া কহিল “আমি সত্যান্বেষী – সত্য খুঁজে বের করা আমার কাজ। তাই করলুম”।

“সেই সত্য কি কর্নওয়ালিস স্ট্রিটেই ঘোরা ফেরা করছিল নাকি?”, প্রশ্ন করিলাম

“কর্নওয়ালিস নয় অজিত, সে অনেক দূর। সত্যের নিবাস লোয়ার সার্কুলার রোডে!”

“হেঁয়ালি না করে বলবে একটু খুলে”

“দুর্জয় ঘোষের পুরনো বন্ধু নীলাঞ্জন দত্ত – থাকেন লোয়ার সার্কুলার রোডে। পেশায় চিত্রপরিচালক – বেশ কিছু জনপ্রিয় ছবি তৈরি করেছেন যার কিছু তোমরা পয়সা খরচা করে হলে দেখতেও গিয়েছ। ইদানিং তার দুর্দিন শুরু হয়েছে – গোয়েন্দা গল্পের ছবি করবেন কিন্তু প্রযোজক হাথ উল্টো করতে নারাজ। নীলাঞ্জন দুর্জয়কেও অনুরোধ করেছিল ছবি তৈরির পয়সা দিতে, কিন্তু দুর্জয় রাজি হয় নি। মন্দার সময় চলছে তার ব্যবসায় – এই কারণে। পরে নীলাঞ্জন জানতে পারে যে এই দুর্জয় কিছুদিন আগে গোপনে এক পরিচালককে আর্থিক সাহায্য করে সেই একই গোয়েন্দা ছবি তৈরি করতে। ক্রোধে এই নীলাঞ্জনই সেই রাত্তিরে দুর্জয়ের সিন্দুক থেকে দলিল চুরি করে”।

“বাবা, তা তুমি ধরলে কি করে?”

“চোরের মন বোঁচকার দিকে, অজিত। আমার প্রথমেই মনে হয়েছিল চশমাটা রেড হেরিং – ওইটা যুক্তিকে বিপথে চালাবার জন্যে ব্যবহার করা হয়েছে। সেইদিন বিকেলে দেখি নীলাঞ্জন দত্ত হাজির দুর্জয়ের বাড়িতে। যিনি চশমা পরেন না অথচ চশমাকে কুকীর্তির জন্যে ব্যবহার করবেন সে কিন্তু কিছুদিন চশমা চোখে ঝালিয়ে নেবে নিজেকে সড়গড় করতে। অনভ্যাসের চশমা – তায় পুরু কাঁচ। নীলাঞ্জন দত্ত কে লক্ষ্য করে দেখলাম উনি মাঝে মাঝেই চোখ ছোট বড় করছেন – যেন চোখে কোন সমস্যা আছে। জিগ্যেস করাতে এড়িয়ে গেলেন। তারপর কাছ থেকে দেখি নাকের দুই পাশে, চোখের নিচে অল্প ছড়ে যাবার দাগ। পরিষ্কার বুঝলাম যে ইনি কোন কারণে ইদানিং হটাতই চশমা ব্যবহার শুরু করেন ও অনভ্যাসের দরুন ভারি চশমায় চামড়ায় কাটাকুটি”।

“বাঃ, এই তো সব মিলে যাছে। নীলাঞ্জন চশমার জন্যে চুরির সময় ঠিক দলিল না নিয়ে একটা আংশিক মালিকানার দলিল চুরি করলেন আর ফাঁসাবার জন্যে বেছে নিলেন বেচারা নলেনকে”

ব্যোমকেশের সিগারেট পুড়িয়া ইঞ্ছিখানিক মাপের ছাইয়ের ডাণ্ডায় পর্যবসিত হইয়াছিল। সামনে ঝুঁকিয়া আমার টিন হইতে আরেকটি সিগারেটে অগ্নিসংযোগ করিয়া ব্যোমকেশ কহিল, “সাবাস, অজিত। তুমি ছেঁদো প্রেমের উপন্যাস ছেড়ে গোয়েন্দা গল্প লেখ দেখি – পাঠকরা অনেক বেশি খাবে! যাইহোক, আজকে নীলাঞ্জন যখন আমার আর দুর্জয়ের সঙ্গে দুর্জয়ের বাড়িতে তখন বরাট নিলাঞ্জনের লোয়ার সার্কুলার রোডের বাড়ি তল্লাশ করে সেই দলিল ও চশমা উধহার করেছে। নীলাঞ্জন এখন বরাটের জিম্মায় – ব্যাটা সব কবুল করেছে”।

“বাবা, চশমার চমৎকার – কি বল?”

ব্যোমকেশ মুচকি হাসিয়া পকেট হইতে একটা মোটা ফ্রেমের চশমা বাহির করিয়া ত্রিপয়ের উপর রাখিল।

“এইটে কি? পারিশ্রমিক?”, এক প্রিয় ছবির শেষ দৃশ্যে শোনা এক সংলাপ কে ব্যোমকেশের দিকে ছুঁড়িয়া দিয়া প্রশ্ন করিলাম। সত্যবতী খানেক হতভম্ব খাইয়া বসিয়া রহিল।

ব্যোমকেশ টেবিলের ওপর পড়ে থাকা  দৈনিক কালকেতুটি টানিয়া লইয়া সেই পাতাটি মেলিয়া ধরিল যাহাতে তাহার কীর্তির মুক্তি-আসন্ন ছবির নায়ক নায়িকাদের কিছু স্থিরচিত্র ছাপা হইয়াছে। মূল ছবিটিতে নায়কের খানিক উদাস চাহুনি – ডিটেকটিভ হিসাবে অনুপযুক্ত হইলেও দৃষ্টির প্রখরতা মনের ভাবকে খানিক বুদ্ধিদীপ্ত করিতে সক্ষম হইয়াছে। নায়কের প্রাজ্ঞ ভাব ফুটাইয়া তুলিতে পরিচালক তাহার নাকের ওপর একটি মোটা ফ্রেমের চশমা আঁটিয়া দিয়াছেন। ব্যোমকেশ মুখায়বে খানিক তিক্ততা, খানিক ব্যাঙ্গ মিশাইয়া চশমার ডাঁটি দিয়া সেই ছবিটির দিকে ধরিয়া কহিল, “আমাকে কখনো চশমা পড়তে দেখেছ?”

মানিতে বাধ্য হইলাম যে নেহাত ছদ্মবেশ ধারণ করা ব্যাতিত ব্যোমকেশকে কখনো চশমা ব্যবহার করিতে দেখি নাই। তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষুরধার – বরং রাত জাগিয়া লেখালেখি করিতে করিতে আমার মাঝে মাঝে চোখ ব্যথা করিয়া থাকে।

“তাহলে?”, এইবার ব্যোমকেশকে বেশ উত্তেজিত দেখিলাম। সদ্য জ্বালানো সিগারেট টি চায়ের কাপে ডুবাইয়া সে কহিতে লাগিল। সত্যবতী দেখিলাম আঁচলের আড়ালে মুখ লুকাইয়া হাসির দমক চাপার চেষ্টা চালাইতেছে।

“কেন বল দেখি, চশমার সঙ্গে বুদ্ধির এই বেয়াড়া যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা? এই চশমাটাই এই ছবির নষ্টের মূল। দুর্জয় ঘোষের পয়শায় তৈরি এই ছবি আর এই সেই উদ্ভট চশমা। বাংলা চিত্র পরিচালকরা যে হারে আমাকে চশমা পরাতে শুরু করেছেন অজিত, তাতে আমাকে – বা আমার গল্পের ছবির নাম – সত্যান্বেষী না রেখে চশমান্বেষী রাখতে পারত”।

সত্যবতী আর পারিল না, উছস্বারে হাসিয়া উঠিল। আমি স্থাণুবৎ বসিয়া রহিলাম। দেখিলাম ব্যোমকেশ তাহার আক্রোশ ফলাইয়া চশমাটির ডাঁটি ভাঙ্গিয়া বস্তুটিকে অকেজো করিয়া তুলিল। “বাঁশ না থাকলে দেখি কানুর বাঁশি বাজে কি করে”।

“পারিশ্রমিকের এমন অপচয় করতে আছে? বাঁটুল সর্দারকে দিয়ে দিলে চোর বাজারে বিক্রি করে নাহক কিছু টাকা তো উদ্ধার করা যেত?”, আমার বৈষয়িক মন আমাকে তাহার চেনা পথে টানিয়া লইয়া গেল।

“পারিশ্রমিক ওইটে নয় – এইটে”, বলিয়া ব্যোমকেশ জামার পকেট হইতে দুইটি মোটা ছাপা কাগজের ফালি বাহির করিল। কোন খানদানি অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ পত্র বোধকরি।

“এইগুলি কি গা”, সত্যবতী প্রশ্ন করিল

“দুর্জয় ঘোষের ছবি দেখার অগ্রিম নিমন্ত্রণ। আগামি শুক্রবার রিলিজ করছে ছবিটা আর বিস্যুদবার বিকেলে কিছু গন্যমান্য লোকদের চিত্রবাণী হলে অগ্রিম দেখানো হবে ছবিটা। চোর ধরে দেবার এই পারিশ্রমিক দিলেন দুর্জয় ঘোষ”।

“কিন্তু দুটো কেন – ঠাকুরপো যাবে না আমাদের সাথে?”

আরামকেদারায় মাথা পেছন হেলাইয়া, কণ্ঠে ভারি বর্ষার একরাশ ক্লেদ লইয়া ব্যোমকেশ কহিল “ঠাকুরপোই যাবে। আমি না। আমি সেইদিন আমার গল্পের ছবি দেখতে যাব যেদিন আমার সত্যি সত্যি চশমার প্রয়োজন হবে!”

বুঝিলাম সত্যান্বেষীর অন্ন্যেষণ এর ধ্রুবতারা হইল সত্য, সেই সত্যের কোন নাটকীয় রুপ সত্যান্বেষীর মোহ আকৃষ্ট করে না।

Traffic Nirvana

I have witnessed car drivers do a wide variety of chores stuck in the infamous Bangalore traffic. Conference callers are easy to spot. The moment you think someone has lost it, shouting or smiling or as is mostly the case – smirking – at oneself, you will notice the tiny hint of something sticking out of the ear. Hail our early morning time-zone conqueror! These days cars have built-in bluetooth, which makes it impossible to distinguish a mental case from a corporate go-getter (and you’ll argue the dividing line was blurry to start with). Ladies who have to rush in the mornings use their jam-time to powder their noses. Curling their lips to a near kiss on the rear-view mirror (and stopping heart beats of many a male driver in the trailing vehicle) they bring out vibrant color sticks to brighten their days. Once, I saw a lady sit up straight and do her eye lining while chomping on a piece of toast.

sleepToday I witnessed something different and definitely more pragmatic. Stuck in a half-a-km-in-half-an-hour traffic, I was scanning the rearview when I noticed this gentleman. I was aware of the derisive “asleep at the wheel” as a corporate leadership epithet but had never seen its origin in action. Our man had pulled down his seat to a recline and tilting his head back he took heavy odds that Old Madras Road will not clear up in a hurry. He was fast asleep. Suddenly the road (of a kind you may find on Mars) opened a patch in front and I, like a drive-deprived carnivore ate up the space with first gear glee. I then looked back at the rear-view. Our man took slim interest in such territorial aggression – he was still fast asleep. Soon the driver in the goods truck behind him started shouting for him to go conquer the 10m space between his car and mine. Our man woke up. Slowly he brought his seat upright, fired his engine and holding out a hand that blessed no one in particular, restarted his journey towards nirvana

শাপমোচন

শেষ বয়েসে বেশ কিছু বছর আমার দিদিমা আমাদের সঙ্গে থাকতেন। তখনও অহর্নিশি টেলিভিশনের যুগ শুরু হয়েনি। স্বাভাবিক ভাবেই অনেক বিকেল ছটায় কৃষি দর্শন না দেখে আমার দিদিমা সন্ধে দিয়ে আমাকে একটা অনুরোধ করতেন। শাপমোচন শোনাতে।

Shapmochonরবীন্দ্রনাথের গীতিনাট্য “শাপমোচন”: আর সেইটে শোনা হত গ্রামোফোন রেকর্ডে। ছোট্টবেলা থেকে আমাদের বাড়িতে প্রচুর গ্রামোফোন রেকর্ড দেখে এসেছি। কিছু রেকর্ড খুব পুরনো – কিছুর সামান্য ঐতিহাসিক মূল্য আছে হয়েতো (যেমন আমাদের পড়শী টিকুর মাসি পূর্বা দাম – যাকে আমরা শিশুসুলভ বালখিল্যে “গুড় বাদাম” বলতাম – এর সই করা একটা রেকর্ড) “রেকর্ড” নামক রচনা লিখতে দিলে হয়েত পড়ুয়ারা শুরু করবে – রেকর্ড তিন প্রকার – এই বলে। ঠিকই। তেত্তিরিশ, পয়তাল্লিশ আর আটাত্তর – এই হলো রেকর্ডের কাস্ট সিস্টেম। এইগুলি রোটেশন পার মিনিট – এক মিনিট সময়ে চাকতিগুলি এতগুলি চক্কর কাটত। আর একটা ছোট্ট পিন রেকর্ডের গায়ে ঘষটে বের করত আওয়াজ। আটাত্তরে দু পিঠে দুটি গান – অথবা তখনকার দিনের খুব চলতি – একটা গানের দুটি অংশ। এই অংশ ভাগ করে গান ব্যাপারটা আমার দিব্যি লাগতো। বেশ মাথা খরচা করে তৈরী হত এই গানগুলি। রেকর্ডের পিঠ পরিবর্তন মানে গানের ভাবের বা গল্পেরও একটা দিক পরিবর্তন। একপিঠে তার প্রিয়তমার সঙ্গে সাতটি বছর আগের প্রথম দেখার স্মৃতি মেলে ধরলেন জগন্ময় মিত্র। আর অন্য পিঠে সময়কে এগিয়ে নিয়ে গেলেন সাতটি বছর, ফিরে গেলেন সেই মালতী তলে “যেখানে দাড়ায়ে প্রথম, বলেছিলে ভালবাসি”। সেই মালতী তলায় আজও ফুল ফোটে, বাঁশী বাজে – কিন্তু সেই প্রিয়তমা আর নেই। হয়েত মৃত্যু তাকে কেড়ে নিয়ে গিয়েছে তার প্রিয়র কাছ থেকে। দুঃখ যেমন সুখের অন্য পিঠ বই কিছু না তেমনি একটা রেকর্ডে ধরা থাকত জীবন গল্পের দুটো পিঠ। ঠিক একই ভাবে সলিল চৌধুরী রেকর্ডের এক পিঠে রচনা করলেন ঘুঘু ডাকা ছায়ায় ঢাকা গ্রামের শান্ত ছবি আর অন্য পিঠে শোনালেন দূর্ভিক্ষের ডাকিনী যোগিনীদের উদ্দাম মরণ নৃত্যের কথা।

এইরকম ভাবে ভাঙ্গা হত রবীন্দ্রনাথের গীতিনাট্যগুলোকে। সঙ্গীত পরিচালক বেশ কায়দা করে কাজটি করতেন – ভিনাইল রেকর্ডের খাঁজ আর ঘোরবার গতি, এই দুই ভেরিয়াবেল নিয়ে তৈরী হতো গান আর কথায় সমৃদ্ধ মোটামুটি এক ঘন্টার অনুষ্ঠান। শাপমোচন রেকর্ডটি বেশ চোস্ত ভাবে তৈরী – অযথা শিল্পীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েনি। অরুনশ্বরের গান গাইছেন হেমন্ত মুখার্জী আবার উনিই অরুনশ্বরের সংলাপ বলছেন। দরাজ ভরাট গলায় সূত্রধরের ভূমিকায় নজরুল পুত্র কাজী সব্যসাচী। গল্পের প্রথম ভাগে – বা রেকর্ডের প্রথম পিঠে অরুনেশ্বর ও মধুশ্রী স্বর্গ থেকে বিতরিত হলেন, মর্ত্যে এলেন ও বিবাহ বন্ধনে বাঁধা পড়লেন। বধূর পতিগৃহে যাত্রা দিয়ে আনন্দের প্রথম পিঠ শেষ হয়। ভালবাসার উল্টো পিঠে সংঘাত – কাব্যেও তাই ও রেকর্ডেও তাই। সন্তোষ সেনগুপ্তের সঙ্গীত পরিচালনায় জীবন্ত হয়ে উঠলো জীবন কাব্য।IMG_20130817_141428

গাড়ি চালাতে চালাতে তো আর ভিনাইল রেকর্ড শোনা যায় না – আর আজকাল আবার রিমেকের দৌরাত্য। তাই সহজলভ্য সি ডি তে কিনলুম নতুন শাপমোচন। দৈর্ঘ্যে পুরোনোটার থেকে বড় – পুরনোটাতে যেমন সময়কে মাথায় রেখে অরুনেশ্বর “আনমনা আনমনা” গানটি পুরোটি গাননি – কিন্তু নতুনটিতে যেন শ্রোতার অঢেল অবসর। আর যেহেতু সি ডির পিঠ হয়না তাই গীতিনাট্যটাও কেমন জানি সিধে রাস্তায় চলে – নাটকীয় মোড় গুলি নেই বললেই চলে।

অনলাইনে খুঁজে পুরোনো শাপমোচন পেলাম – সি ডি তে। বার্ন করে নিতেই কয়েক জি বি তে নেমে এলো কৈশোরের সঙ্গীতময় সন্ধের স্মৃতি। কিন্তু কিছু জিনিস তো ফিরবে না। যেমন দিদু ধীর পায়ে এসে বলবে না “ভাই, রেকর্ডের পিঠটা বদলাইয়া দিবা?”

ব্রাউন সাহেবের বাড়ি

দুহাজার সালে বোম্বাই শহরের পাট গুটিয়ে রওনা হলাম ব্যাঙ্গালোর পানে। মন খুব খুশি। বোম্বাই শহরটা ঠিক ধাতে পোষায় নি – খানিক রবীন্দ্রনাথের খাঁচার পাখির মতো নিজেকে বোঝানোর প্রবোধ দিয়ে টিঁকে ছিলুম। ব্যাঙ্গালোর সম্বন্ধে শোনা ছিল সামান্য কিছু: সামান্য হলেও কিন্তু সেইগুলি আমাদের কাছে ছিল বেশ জরুরি। সুন্দর আবহওয়া, মাঝারি মাপের শহর, চোখ চাইলে সবুজ প্রলেপ আর জীবনের গতি একশো মিটার দৌড়ের মত না। শহরের ভূগোল বলতে জানা ছিল স্রেফ দুটি অঞ্চল – ইনফ্যান্টট্রি রোড – আমার হবু অফিস আর ফ্রেজার টাউন।

যে যাই বলুক না কেন আমার পুরনো সাহেবী নাম ছেটানো শহর দিব্বি লাগে। তার লেখা পড়ে বড় হয়েছি ঠিকই কিন্তু ক্যামাক স্ট্রিটকে অবনীন্দ্রনাথ সরণী বললেই কেমন জানি কৌলিন্য চলে যায়। ক্যামাক স্ট্রিট নাম থাকলে মনে হয় যেন ঠিক মত ঝাড়ু পড়বে, খানা খন্দ বোজানো হবে, পথের ধারের গাছগুলি বেশি সবুজ থাকবে – সবাই সম্ভ্রমের চোখে দেখবে। আমার দাদু সব সময় নিউ মার্কেটকে হগ মার্কেট বলতো – শুনেই কেমন জানি কেক পেস্ট্রির গন্ধ আসত নাকে। এই সব কারণে ফ্রেজার টাউন নামটা ভীষণ মনে ধরেছিল – আর ধরেছিল একদম ক্ষুদে বয়েসে। সত্যজিত রায়ের “এক ডজন গপ্পো” র একটা ছিল “ব্রাউন সাহেবের বাড়ি” – একদম গায়ের লোম খাড়া করা গল্প। সেই গল্পের পটভূমি ব্যাঙ্গালোর আর অকুস্থল ফ্রেজার টাউনের এক পোড়ো বাংলো বাড়ি – যেখানে মরা সাহেবের ডায়রীর রহস্য উদঘাটন হয় আর ফিরে আসে মৃত সাইমন। এক মার্জার – বেড়াল – সাহেবের পোষা আর নাম সাইমন। সেই ফ্রেজার টাউন – ছোট্ট বেলার স্মৃতির একটা কোনা আঁকড়ে ধরে আসা ব্যাঙ্গালোরে।

IMG_20130810_162550আর হলো গিয়ে এক অবাক কান্ড – আমার অফিস আমাদের বাসা ঠিক করে দিল বেনসন টাউনের এক ফ্ল্যাটে। ব্যাঙ্গালোরের পূব দিকে (তখন সবাই পূব বলতো – এখন পুরো অঞ্চলটাই মধ্য ব্যাঙ্গালোর হয়ে গিয়েছে। ভৌগলিক পূব আর শহুরে পূবের মধ্যে গড়ে উঠেছে অনেক মাইলের দুরত্ব!) এই বেনসন টাউন। বাড়ির পাশ বরাবর একটা রেল লাইন আর রেল লাইনের উল্টোদিকের অঞ্চলটাই সেই ছোট্ট বেলার ফ্রেজার টাউন। বড় দোকানপাট বলতে সবই ওই ফ্রেজার টাউনে – তাই হামেশাই রেল লাইন পেড়িয়ে যেতে হত ফ্রেজার টাউনে। সুন্দর ছবির মতো সাজানো এই অঞ্চলে হটাতই একদিন দেখলাম বাড়িটাকে। প্রমেনএড রোড আর সন্ডার্স রোডের সংযোগ স্থলে বাড়িটা যেন বেওয়ারিশ পড়ে আছে। পরিতক্ত কতদিন কে জানে। অনেকটা জায়গা নিয়ে বেশ একটা বড় মাপের বাংলো বাড়ি। সামনের বাগানে – মানে এক কালে যেখানে বাগান ছিল – এখন আগাছার জঙ্গল। পাঁচিল দিয়ে ঘেরা বাড়িটার বিশাল মাপের জানলাগুলি কয়েকটা ভেঙ্গে পড়েছে, সামনের বারান্দায় অবর্জনার স্তুপ। পিরামিডের মতো টালির ছাদ – সেটি বিলকুল অক্ষত আছে। না – ঢোকার একটা গেট থাকলেও সেই গেটের বাইরে “এভারগ্রীন লজ” কথাটা লেখা নেই। সত্যি বলতে কি – কিছুই লেখা নেই। কিন্তু একটা ফলক গোছের কিছু যে ছিল সেইটে দাগ দেখে পরিষ্কার বোঝা যায়। একদিন সন্ধে বেলায় ওই বাড়িটার সামনে, একটা টিমটিমে ল্যাম্প পোস্টের (তখনও ব্যাঙ্গালোরে হ্যালোজেন আলোর দৌরাত্ব শুরু হয়েনি) নীচে দাঁড়িয়ে আমার আর সন্দেহ রইলো না যে এইটেই ব্রাউন সাহেবের বাড়ি। ইষৎ লালচে আকাশের গায়ে কালো ভুতুড়ে ভাবে মেলে আছে নিজেকে। আর গাছগুলো থেকে যে কালো কালো জন্তুগুলি উড়ে যাচ্ছে ইতি-উতি সেইগুলো যে বাদুড় তা বলে দিতে হয় না। একটা কোনো পাখি বিকট ক্যা-ক্যা করে দেকে উঠছে থেকে থেকে। আমার সাহস একটু কম – হয়েত খানিক্ষণ দাঁড়ালে শুনতে পেতাম বুড়ো ব্রাউন তার প্রিয় বেড়ালকে ডাকছেন – “সাইমন, সাইমন – কাম হিয়ার”।

IMG_20130810_162603আর তারপর দেখুন কান্ড – গত বছর যখন সত্যজিতের ছেলে সন্দীপ এই গপ্পটা নিয়ে ছবি করলে তখন তার খোল নলচে এমন বদলে গেল যে ব্যাঙ্গালোর হয়ে গেল উত্তরবঙ্গের চা বাগান! বেচারা ব্রাউন সাহেবের বাড়ি – মানে আমার ব্রাউন সাহেবের বাড়ি – সেই একলাটি ই রয়ে গেল। আগাছা অনেক বেড়ে গিয়েছে, বাড়ির গায়ের চলটা উঠে গিয়েছে বেশ কয়েক জায়গায় – হটাত করে যেন বয়েস বেড়ে গিয়েছে বাড়িটার। ওই অঞ্চলের পাট গুটিয়ে আমিও কেটে পড়েছি অন্য পাড়ায়। তবে মাঝে মাঝেই আসা যাবার পথে দেখে যাই আমার ব্রাউন সাহেবের বাড়ি। একটু বেশি পথ হলেও বাড়িটার পুরোটা ঘুরে যাই – নাহ, এখনো কোনো প্রমোটারের বোর্ড লাগেনি। বুড়ো ব্রাউন বুক পেতে ধরে রেখেছে তার প্রিয় বেড়ালের স্মৃতি বিজরিত আধ ভাঙ্গা বাড়িটা। কোনো অন্ধকার রাতে এখনো মখমলের আরাম কেদারায় হয়েত ঘুমোতে আসে সেই কালো বেড়ালটা – আর সেই সুখেই ভরে ওঠে বুড়ো ব্রাউনের বুক।

ICANN Launches Special dot mafia Domains

After repeated requests from several quarters, the Internet Corporation for Assigned Names and Numbers, ICANN, has decided to launch internet domains with the dot mafia extension. Spokesperson from ICANN, who chose not to be named, confessed that they have received copious requests for allowing the use of that domain. The person confessed that a couple of request letters had US Dollar notes (several of them later detected as fake) stapled to them while some had generous sprinkling of anthrax. “The pressure was mounting and then we decided that, hell, let everyone make some money”, the spokesperson said with a touch of exasperation

The announcement was greeted with deafening sounds of gunfire in several locations across India and hurriedly arranged cultural programs by organizations that curiously were all into community welfare activities. “Ours is a country of technology savvy people. This (allowing dot mafia domains) will not only let us build our own brand equity but will also allow people to discover and participate in different schemes that we launch time to time”, exalted Mutthubhai Bhattikatti, also known as “Pandi” Bhatti for his unlicensed activities around handling pigs and pork. Originally a rowdy sheeter from Mangalore, he explained his tech-strategy that included adding Andriod apps to provide an experience continuum across devices to his clients. “We are seriously planning a industry-platform focused around group-deals and micro-mafias. Imagine a road-rage situation where you need to immediately eliminate the other fellow. Just login to the mobile app, find services in your vicinity, place a request and your supari will be completed. That simple”, explained Jaggu Kalia, who for several formative years worked for a Noida based BPO company before joining the more attractive and less stressful local sand mafia. “Talent attraction has been a big issue for us. Using razor focused web strategies we will better reach out to gain access to both national and international talent”, said Sabu Alem, long known as a scout operating in the hinterlands of the cow belt in India

Though ICANN confirmed they have not yet opened bookings of domains, insiders from the association say domains like sand.mafia, liquor.mafia, garbage.mafia have already been booked under a pre-booking scheme. Some ICANN insiders have expressed surprise at inquiries coming in for domain names like middaymeals.mafia, religiousgurus.mafia and cleanchits.mafia. “Very strange”, a person familiar with these developments said. “We have gotten in touch with the Indian government as almost 90% of these requests have been coming from there”

Official spokesperson for the government, veteran politician Parhad Shawar confirmed that the government will not tolerate anyone from its party owning dot mafia domains. Receiving a call on his mobile phone, he hurriedly excused himself from the interview. On his way out he was overheard negotiating a bulk domain booking deal with the customer service department of popular web domain registrar Godaddy

বালেশ্বর

নামের সঙ্গে কাজের এমন অদ্ভুত মিল খুব কম দেখা যায়।

একটু পিছিয়ে যাই আমার শৈশবে। শিল্পনগর বার্নপুরে কেটেছিল জীবনের প্রথম পনেরোটি বছর। ছোট্ট, ছবির মত সাজানো উপনগর। এইরকম উপনগরীতে যেমনটি হয় ঠিক তেমনই সব দোকানপাট আঁকড়ে ছিল রেল ষ্টেশনকে। ষ্টেশন রোডের দোকানের মধ্যে চুল কাটাবার সেলুনও ছিল কিন্তু সেখানে আমাদের অবাধ গতিবিধি ছিল না। সেখানে যেতেন আমাদের বাবা কাকারা – বড়রা। আমাদের মধ্যে কচিদ-কদাচিৎ কারুর ভাগ্য হয়েতো শিকেয় ছিঁড়ত – তারা যেত সেই সেলুনে চুল কাটাতে। ফিরে এসে তারা গপ্পো বলত স্প্রে করে ঘাড়ে জল ছেটাবার আর গদি দেয়া নরম চেয়ারএর। আমাদের সে সুযোগ বিশেষ হত না। তাই আমাদের জন্যে ছিল ঘরে এসে চুল কেটে দেয়ার নাপিত। একজন নাপিতই ছিল পুরো অঞ্চলটায়। নাম বালেশ্বর। নামের সঙ্গে কাজের অদ্ভুত মিল।

বালেশ্বরকে কোন দিন ধুতি- শার্ট ছাড়া কিছু পড়তে দেখিনি। আর সেইটে থাকতো ধবধবে সাদা। শীতকালে একটা জহর কোট। পায়ে কালো পাম্প শু আর কাঁচা পাকা চুল পাট করে ব্যাকব্রাশ আঁচড়ানো (আমরা মাঝে মাঝে আমাদের খুদে মনে আলোচনা করতাম – “বালশ্বরের চুল কে কেটে দেয়?”)।. বালেশ্বরের হাথে থাকতো একটা ছোটো আলুমিনিয়ামের বাক্স তার মধ্যে থাকতো চিরুনি, কাঁচী, ক্লিপ ইত্যাদি। অক্লান্ত বালেশ্বর হেঁটে যেত উপনগরীর এক প্রান্ত থেকে আর এক প্রান্ত (তখন আমাদের উপনগরীতে সাইকেল রিক্সা ছাড়া আর কোন যানবাহন ছিল না)।, কোনো বাড়ি থেকে ডাকলে সেই বাড়িতে ঢুকে চুল ছেঁটে দিত বালেশ্বর – বেশির ভাগই খুদে খদ্দের মিলত, কখনো বাবা কাকারাও ছাঁটিয়ে নিতেন বালেশ্বরের কাছে। একটা ছোট টুল বাগানে পেতে, খবরের কাগজের ওপর, বালশ্বর কাজ শুরু করত। শুরুর ঠিক আগে মা এসে চিরাচরিত নির্দেশ দিয়ে যেতেন – “ছোট করে কাটবে বালেশ্বর!” বালেশ্বর শুধু একটা কথায় উত্তর দিত – সত্যি বলতে কি, আমি বালেশ্বরকে কখনো আর কোন বাড়তি কথা বলতে শুনিনি – একটু গম্ভীর গলায়, সামান্য মুচকি হেসে বালেশ্বর বলত – “বেশ”।,ব্যাস, ওই একটাই কথা। বেশ। আমরা একটু বড় হলে, সাহস করে মা’র হুমকি অগ্রাহ্য করে যদি বলতাম “বালেশ্বর, ওপরটা একদম কদম ছাঁট করে দিও না!” তারও জবাব আসতো – “বেশ”।,চুল ছাঁটা হয়ে গেলে,পয়সা নিয়ে নিজের সরঞ্জাম আলুমিনিউমের বাক্সে গুছিয়ে আবার চলা শুরু করত বালেশ্বর।

কালের নিয়মে হয়েত বালেশ্বর মারা গিয়েছেন। সেই সঙ্গে প্রায় মারা গিয়েছে পাড়ার নাপিতরা। তাদের আর দেখা যায়না। মধ্য কলকাতার রোয়াকে বসে একগাল ফেনা নিয়ে কেউ বিশ্বনাথের স্কোয়ার কাটের আলোচনা আর করেন না। সবার বড্ড তাড়া। শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে এখন সপরিবারে চুল কাটতে যাওয়াই রেওয়াজ। আজকাল শুনি আগে থেকে ফোন করে গেলে ভালো হয় – অপেক্ষা করতে হয় না। সেই গড্ডালিকা প্রবাহে আমিও গা ভাসিয়েছি। তবু সেলুনের চেয়ারে বসে কেন জানি মনে হয় – এই যদি বলি “বালেশ্বর, ওপরের চুল একদম পাতলা হয়ে গিয়েছে, বেশি ছেঁটো না” হয়েত একটা গম্ভীর গলায় পেছন থেকে শুনতে পাব – “বেশ”।

কে বলে গো সেই প্রভাতে নেই আমি

“দাদু আপনার নেবু চা আর দুটো লেড়ে বিস্কুট – টোটাল হবে আঠারো টাকা। খুচরো দেবেন।”

লেকের ধারে মেলা ভিড়। তাই আমি একটু অন্যদিকে প্রাতঃ ভ্রমণ সেরে একটা চায়ের দোকানের বেঞ্চে বসে একটু জিরিয়ে নিচ্ছিলুম এমন সময় দোকানদারের ছুঁড়ে দেয়া কথাটা কানে গেল। আমার দিকে তাকিয়ে বললেও আমাকে উদ্দ্যেশ করে নয়। দোকানীর কথা শুনে আমার পাশে একটু পেছন করে ঘুরে বসা দীর্ঘ কান্তি বৃদ্ধ জোব্বার পকেট থেকে কিছু টাকা ও পয়েসা বের করে গুনতে লাগলেন খুব স্লথ গতিতে। জোব্বা? এই মে মাসের গরমে জোব্বা? একটু অবাক হয়ে মুখের দিকে তাকিয়ে তো আমি একদম থ! শিট! এ যে রবি ঠাকুর! একদম জেরক্স কপি। সেই ঋষি সুলভ চাউনি, ঝক-ঝকে চোখ, পাতলা হয়ে আশা সাদা চুলদাড়ি গোঁফ। ভুল হবার কোন জো নেই!
“কি পাইনি, তার হিসাব মেলাতে মন মোর নহে রাজি …একটু হাথ বাড়িয়ে দামটা দোকানীকে দিয়ে দেবে, ভাই?”, বৃদ্ধ বললেন। আর সন্দেহ রইল না বিন্দুমাত্র – গাড়িতে ভয়েস অফ টেগোর সি ডি তে কতবার ওই খনাগলায় “তবু মনে রেখো” শুনেছি। ডাইভ দিয়ে পড়লুম পায়ে। ভট করে মুখ থেকে বেড়িয়ে গেল – “আমায় বাঁচাও রবি ঠাকুর, আমি নোংরা এক আস্তাকুর …।” সস্নেহে বুকে টেনে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে গলফ গ্রীনের দিকে যেতে টুকরো কথা হল ওনার সাথে …।

আমি: এমনি আচমকা চলে এলেন যে?
রবিঃ অনেক কথা শুনতে পাই ওপরে বসে। আমার লেখার, গানের প্রসার – তারপর আমার গল্প নিয়ে ছবি। ছবিতে আমার গান। কপিরাইট উঠে যাবার পর আমার গানের বিবর্তন। অনেক কিছু শুনি। চক্ষু কর্ণের বিবাদ বেশিদিন রাখা সমীচীন না – তাই সরেজমিনে ভাবলুম দেখে যাই।

আমিঃ ভালো করেছেন! প্রথম প্রতিক্রিয়া?
রবিঃ ভাবলুম, বাঙ্গালীদের থেকে বাইরে লোকেরা আমাকে কেমন চিনেছে একটু বাজিয়ে দেখি। গেলুম উত্তর ভারতে। পরিচয় দিতেই কিছু লোক “আপনি সাইফ আলি খানের দাদাজি আছেন?” জিগ্যেস করলো। ইশ্বর জানেন কে এই আমার পড়ে পাওয়া নাতি। কিছু লোক জারা চিনল তারা গাক গাক করে “আপনি টেগোর আছেন? ভালবাসি, ভালবাসি … রসগোল্লা রসগোল্লা। একলা চল রে … চল রে” বলে ধেয়ে এল। বোঝো কাণ্ড! তাদের কাছে এই হল আমার পরিচয়। আর আমি এদের নিয়ে কবিতা লিখেছিলুম “পঞ্চনদের তীরে, বেণী পাকাইয়া শিরে”?

আমিঃ কিন্তু খানিক বিশ্বায়ান হয়েছে, এইটে কিন্তু মানতে হবে গুরুদেব
রবিঃ হ্যা, শুনলুম এক মহিলা নাকি অক্লান্ত ভাবে আমার গান হিন্দিতে গেয়ে চলেন? এই কি বিশ্বায়ান? কি নাকি এক ক্রিকেট ম্যাচের আগে মাঠে স্টেজ বেঁধে তারস্বাওরে আমার গান গাওয়া হয়েছে? এই কি বিশ্বায়ান? আমার লেখা শুনলুম ইন্টারনেটে দিয়েছে যাতে লোকে আর কষ্ট করে বাঁধানো বই এর ত্রিসীমানা না মাড়ায়। এক ছোকরা আই-প্যাড না কি বস্তুতে দেখাল। সে বানানের কি ছিরি। শোন ভাই, খান কয়েক ড্রাম বা ইলেকট্রিক গিটার বাজিয়ে “তোমায় নতুন করে পাব বলে” গাইলেই তো বিশ্বায়ান হয় না। বিশ্বের দর্পণে ধরতে হবে আমার লেখা, আলোচনা করতে হবে অন্তর্নিহিত বানীর। দেখতে হবে আজকের সমাজে আমার চিন্তাধারা খাপ খাচ্ছে কি না।

আমিঃ একটু ট্যান খেয়ে যাচ্ছি। তা এখন তো এই শহরে কান পাতলেই আপনার গান। ভালো লাগে?
রবিঃ তা লাগে! আগের মোড়ে শুনলুম “মরণ রে, তুঁহু মম শ্যাম সামান” বাজছে। একটু দাঁড়িয়ে পরেছি আর একটা ট্যাক্সি একদম দিয়েছিল আর কি ফের বাইশে শ্রাবণ করে। তবে কিনা এই গানগুলি আমি লিখেছিলুম একান্তে শোনার জন্যে – একাকীত্বের শূন্যতাকে পরিপূর্ণ করার জন্যে। তাই রাস্তার মোড়ে সেই গান বাজলে একটু বুকে বাজে – বাজে লাগে

আমিঃ এখনো কিন্তু আপনার গানের সি ডি, বই ভালো বিক্রি হয়। বাঙালি এখনো আপনাকে পেতে চায়
রবিঃ সে তো আমার শেষ যাত্রা থেকেই চাইছে। বাপরে – শকট জোড়াসাঁকো পেরিয়েছে কি পেরয়নি – লোকেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে চুল, দাড়ি পটা পট ছিঁড়তে শুরু করে দিলে? নাকি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রাখবে! নোবেলটাও ঝেঁপে দিল। ভাগ্যিস নাইট খেতাব প্রত্যাখান করেছিলুম, নাহলে হয়েত কারো বৈঠকখানায় সেই মণিহার শোভা পেত এতদিন। আমাকে পেতে গেলে আমার জোব্বা থেকে কাপড় কেটে নিলেই তো হবে না – আমার মতবাদ কে গ্রহণ করতে হবে, সংকীর্ণতা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। “আপন হতে বাহির হয়ে বাইরে দাড়া, বুকের মাঝে বিশ্বলোকের পাবি সাড়া” – এইটাকে সর্বান্তকরণে আঁকড়ে ধরতে হবে

আমিঃ কলকাতা শহরটাকে কি বলবেন?
রবিঃ বলার মত কিছু রেখেছ নাকি? বড়লোকের মল আর ছোটলোকের মুত্র – এই তো আছে এই শহরে। হ্যা, আর কিছু হত কুচ্ছিত আমার মূর্তি। সাধে কি আমি সুযোগ পেলেই পালাতাম শিলাইদহ, শান্তিনিকেতন। আর বাছা, এই ব্রিজের রেলিঙগুলো সব সাদা নীল রঙ কেন?

আমিঃ আগ্যে গুরুদেব, ওইটি এখনকার মুখ্য মন্ত্রীর প্রিয় রঙ। উনি কিন্তু আপনার বিশেষ ভক্ত
রবিঃ সুনিছি ওনার ব্যাপারে – এই সেদিন সুনীল – মানে সুনীল গাঙ্গুলির সাথে কথা হচ্ছিলো। কোন সভায় জানি মধু কবির ছবির বদলে আমার ছবি লাগিয়ে দিয়েছিলেন! বোঝো কাণ্ড! তবে হ্যা, মানতেই হবে যে উনি আসার পর থেকে পার্টি আফিস গুলিতে আমার গানের চাহিদা বেড়ে গিয়েছে – বছরে তিরিশবার চিত্রাঙ্গদা আর শ্যামা শাপমোচনের অশ্রুমোচন এখন একটা গতানুগতিক ধারায় এসে গিয়েছে।

হাঁটেতে হাঁটতে থমকে দাঁড়িয়ে পরলেন রবীন্দ্রনাথ। মুখ তুলে চাইলেন পথের ধারে সার বাঁধা কৃষ্ণচূড়া গাছগুলির দিকে। রক্তরাগের আগুন ঝড়িয়ে গাছগুলি পথের ওপর লাল ফুলের গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে। “এখনো শহরে এমন ফুল ফোটে? ফুরিয়ে বেলা, চুকিয়ে খেলা তপ্ত ধূলার পথে ঝরা ফুলের রথের চাকা এখনো শহর ছোঁয়? কি অনাবিল সৌন্দর্য”, বলে উঠলেন কবিগুরু। হাল্কা হাওওায় চুলগুলি উড়ছে। দুহাথ সামনে প্রসারিত করে গুনগুন করে গান ধরলেন কবিগুরু “রাঙিয়ে দিয়ে যাও, যাও গো এবার যাবার আগে রাঙিয়ে দিয়ে যাও”

“কি কেস দাদু? রাঙিয়ে দিয়ে যাও? পঞ্চায়েত ভোটের আগে সি পি এম নাকি?”, আচমকা দেখি গোটা দুয়েক পাড়ার মাস্তান টাইপের লোক এসে দাঁড়িয়েছে সামনে। “এই পাড়া থেকে সব মাকুদের ঠেঙ্গিয়ে বের করেছি। এখন এখানে শুধু রোবিন্দ সঙ্গীত বাজবে – দিদি তাই বলেছেন। সেই সময়ে কে বস আপনি মাওবাদি দাড়ি চুমরে রাঙিয়ে দিয়ে যাও কপচাচ্ছ?”
“আরে দাদা, করেন কি! ইনি তো স্বয়ং রবিঠাকুর!”, আমি ঝটপট সামাল দিতে চেষ্টা করি
“বাওওাল করবেন না দাদা, বিলা হয়ে যাবে। আমরা সবাই বাইশে শ্রাবণ দেখেছি। আমরা জানি উনি লাস্ট সিনে নিজেকে গুলি করে মরেছেন। এখন আবার কেষ্ট ঠাকুর সেজে কে বে এই সং – শালা লাল রঙের সং গাইছেন?”, দু জনের ভিড় দেখলাম মুহূর্তে চার পাঁচে দাঁড়িয়ে গেল। বুঝলাম হাওওা গোলমেলে।
“চলুন তো দাদু পার্টি অফিসে – দেখি আপনার এই লাল টমেটো মার্কা গান কদ্দিন চলে! ওরে কচি, তোল দাদুকে সুমোতে আর নিয়ে চল অফিসে”।
হতভম্ব হয়ে দেখলুম দীর্ঘ কান্তি মানুষটিকে ঠেলে গাড়িতে তুলে নেয়া হল। ঋষি প্রতিম মুখে কোন ভাবান্তর নেই। আমার পানে চেয়ে স্মিত হাসলেন। গান গাইছেন “বাঙালির প্রাণ, বাঙালির মন, বাঙালির ঘরে যত ভাই বোন, এক হউক, এক হউক, এক হউক হে ভগবান”