চশমান্বেষী

choshmaপুজোর উপন্যাস লেখা সমাপ্ত হইয়াছে – গত সপ্তাহে প্রকাশকের জিম্মায় ছাড়িয়া হাঁফ দিয়া বাচিয়াছি। আজকাল অকালবোধনের কতটা প্রাক্কালে কে পূজাবার্ষিকী প্রকাশ করিবে তার জমজমাট রেষারেষি শুরু হইয়াছে। বাঙালি পূজা মন্ডপে পূজার নুতন লেখার পর্যালোচনা করিতে পারিবার অঢেল সময় পায়। ব্যোমকেশের হাতে কোন বড় কাজ নাই। সরকার বাহাদুরের পুলিশ অত্যন্ত পারদর্শিতার সহিত দুশমন দমন করিতেছে – ব্যোমকেশ কে বিরক্ত করার কারণ তাহাদের ঘটে নাই। ব্যোমকেশকে কয়েক মাস পূর্বে ইষৎ তিক্ততার সহিত সাধারণ নাগরিকের পুলিশ ভক্তির কটাক্ষ করিতে শুনিয়াছি। তবে গত হপ্তায় বার দুয়েক ব্যোমকেশের ফোন আসে এবং ও দিনের বেলায় বেশ কিছুক্ষণ বাড়ির বাহিরে কাটায়। আমার অসমাপ্ত উপন্যাসের নায়ককে সংসারের জটিল ও কুটিল পথ হইতে সিধে রাস্তায় অবতরন করাইতে ব্যাস্ত থাকায় আমার ব্যোমকেশের সঙ্গ দেয়া হয়ে ওঠে নাই। এদিকে কলকাতা শহরে গত তিন দিন ধরিয়া অবিশ্রান্ত বৃষ্টি হইয়াছে – পথ ঘাট কর্দমাক্ত। তাই বিশেষ দরকার ছাড়া গৃহের বাহিরে যাইবার তাগিদও অনুভব করি নাই। সত্যবতীও খিচুরী, ডিম ভাজা, বেগুনি ইত্যাদি লোভনীয় খাদ্য সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমানে রান্ধিয়া আমাদের গৃহে থাকিবার কারণের পাল্লা ভারী করিয়া তুলিয়াছে। তদসত্তেও ব্যোমকেশ বার দুয়েক ছাতা বগলে করিয়া বাহিরে গিয়াছে। প্রথম দিন সত্যবতী জানিতে চাহিয়াছিল কি এমন কর্ম ব্যোমকেশের যাহা না সম্পন্ন করিলে মহাভারত অশুদ্ধ হইবে তবে সঠিক কোন জবাব না পাইয়া হাল ছাড়িয়া দেয়। দ্বিতীয় দিন ব্যোমকেশ বাহির হইবার উপক্রম করিতেই শুনিলাম রান্নাঘর থেকে সত্যবতী গুন গুন করে গান ধরিল – গহন কুসুম কুঞ্জ মাঝে, মধুর মধুর বংশী বাজে। বুঝিলাম সংসারে নামক রণভূমিতে যুদ্ধ জিতিবার জন্যে সরাসরি আক্রমণই এক মাত্র অস্ত্র নহে।

যুগপৎ স্বামীর অভাব ও তার প্রতি বিরুপতার কারণে সত্যবতী উপুরজুপরি চায়ের সরবরাহ ও চিঁড়ে ভাজা, পোস্তর বড়া ইত্যাদির মাত্রা বাড়াইয়া তুলিল। দুপুর গড়িয়ে যেতেও যখন ব্যোমকেশের পাত্তা পাইলাম না, তখন আমরা দুইজন মধ্যাহ্ন ভোজন সারিয়া পান মুখে দিয়া গল্প করিতে বসিলাম। কয়েক বৎসর যাবত ব্যোমকেশের গল্প লইয়া ছবি বানাইবার হিড়িক পরিয়াছে। আমরা এই সব ছবির চিত্ররূপ লইয়া চায়ের পেয়ালায় পর্যাপ্ত তুফান তুলিয়াছি। ছবিতে ব্যোমকেশের শানানো, ছিপ ছিপে চেহারার পাশে আমার ঈষৎ স্থুল ও জড়ভরত চরিত্রায়নের পরিহাস করিতে ব্যোমকেশ ছাড়ে নাই। শেষে একটা ছবিতে সত্যবতীর আবির্ভাবে গৃহে শান্তি পরিস্থাপিত হয় – বিবাহিত নায়কের স্ত্রীচরিত্র বর্জিত চিত্ররূপ নাটকীয়, সংসারীয় ও নানা বিস্তর কারণে একেবারেই কাম্য নহে। যাই হোক, ব্যোমকেশের আর একটি কীর্তি অবলম্বনে একটি নূতন ছবি মুক্তি পাইবার দোরগোড়ায়। পাড়ায় পাড়ায় দেয়ালে হ্যান্ডবিল সাঁটানো হইয়াছে – দৈনিক কালকেতুর পাতায়ও ছবির কিছু স্থিরচিত্র ছাপানো হইয়াছে। সেই সূত্র ধরিয়াই আমি ও সত্যবতী আলোচনা করিতেছিলাম যে  ব্যোমকেশের কোন কীর্তি লইয়া এক নাটকীয় ছবি করা যাইতে পারে, এবং তাহার নায়ক নায়িকা চরিত্রে কাহাদের অভিনয় করা সমীচীন হইবে  বাহিরে বৃষ্টি থামিলেও বিদ্যুৎ ও বাজ পরিবার বহর দেখিয়া অনুমান করা যায় দুর্যোগ এখনো সরিয়া যায় নাই। ঠিক এমন সময় হুড়মুড় করিয়া দরজা ভাঙ্গিয়া ফেলার উপক্রম করিয়া ব্যোমকেশের প্রবেশ! চটি কর্দমাক্ত, কাপড়ে কাদার ছিটে – কিন্তু মুখে একগাল হাসি। “ওহে কপোত কপোতী, তোমাদের প্রেমালাপে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্যে ক্ষমা চাইছি!”, বলিয়া মিটি মিটি হাসিয়া দাঁড়াইল – তার ভাবসাব একদমই ক্ষমাপ্রার্থীর নহে। “জামা জুতো ছেড়ে আসছি অজিত, তারপর দারুন গপ্পো শোনাব। ওগো প্রিয়ে, এক কাপ চা হবে কি খানিক আদার কুচি দিয়ে?”, ব্যোমকেশকে মুখে মুখে ছড়া কাটতে বহুদিন শুনি নাই। সত্যবতী মুখ টিপিয়া উঠিয়া রান্নাঘরের দিকে গেল। খানিক পর শুনিলাম গান ভাসিয়া আসিতেছে – বধু এমন বদলে তুমি কোথা । বিরহী যক্ষ কখনো মেঘ, কখনো সঙ্গীতকে প্রেমের হাতিয়ার করে।

আরামকেদায় বসিয়া, আমার টিন হইতে সিগারেট ধরাইয়া একরাশ ধোঁয়া ছাড়িয়া ব্যোমকেশ শুরু করিল। “অপরাধের মহামারি, মক্কেলের মহামারি এই সবের মধ্যে যখন একটা সামান্য কেস আসে, সেইটাই খড় কুটোর মতো আঁকড়ে ধরতে হয়, বুঝলে অজিত। কর্নওয়ালিস স্ট্রিটে দুর্জয় ঘোষের বাড়িতে যখন চুরি হল, উনি আমাকে ডাকলেন স্রেফ এই কারণে যে পুলিশ তার অতি পুরনো ও বিশ্বস্ত চাকর নলেনকে ধরে নিয়ে গিয়ে হাজতে ভরে রেখেছে”।

“কি চুরি গেল?”

“বাড়ির দলিল। দুর্জয় ঘোষের শ্যামবাজারে একটা বাজারের আংশিক মালিকানা আছে। বিস্তর আয় হয় সেখান থেকে। সেই মালিকানার দলিল। থাকতো যে সিন্দুকে সেইটা থেকে নলেন নাকি পূর্বে কয়েকবার তার বাবুর জন্যে কাগজ বের করে দিয়েছে – তাই তার পক্ষে সিন্দুকের বাকি জিনিষের হদিশ জানা সহজ ছিল। বরাট দারোগার তাই মত”।

“দুর্জয় ঘোষ তো বিষয় সম্পত্তির রাঘব বোয়াল – তার সিন্দুক থেকে দলিল চুরি করলে আংশিক মালিকানার কেন? অংশীদারদের সঙ্গে মেলা হ্যাপা করতে হবে না?”

চা আসিয়াছিল ও তাহাতে আদার সুগন্ধ পাইয়া বুঝিয়াছিলাম বাহিরে মেঘ ঘনীভূত হইলেও ঘরের আকাশে রোদের ঝিলিক খেলিয়াছে। চায়ের পেয়ালা টানিয়া লইয়া তাহাতে লম্বা চুমুক দিয়া ব্যোমকেশ কহিল “শুধু কি তাই নাকি? ওই দলিল নিয়ে নলেন করবেটা কি? বরাটের ধারণা ও বাকি অংশীদারদের ওই দলিল মোটা টাকায় বিক্রি করার ধান্দা ফাঁদছিল। কিন্তু সেই যুক্তিতেও বিস্তর গলদ। যতই শহুরে হোক না কেন, আদতে গ্রাম্য নলেনের পক্ষে চুরির পর এই জটিল কাণ্ড ঘটানো প্রায় অবাস্তব”।

“নলেনের ওপর সন্দেহ পড়ল কি করে গা?”, সত্যবতী স্টোভ নিভাইয়া দিয়া বৈঠকখানায় ফের আসিয়া বসিয়াছিল।

“চশমা”

“চশমা?”, আমি ও সত্যবতী যুগপৎ প্রশ্ন করিলাম

“হ্যাঁ, চশমা। অকৃতদার দুর্জয় বাবু বাড়িতে একলাই থাকেন। চুরির সেই রাত্তিরে উনি বাজ পড়ার আওয়াজে জেগে যান ও রাস্তার ল্যাম্প পোস্টের আলোয় চোরের চেহারা খানিক দেখতে পান। সবটা ভালো না দেখলেও এইটে পরিষ্কার দেখেন যে চোরের চোখে চশমা আছে। একে তো বাড়িতে আর কেউ নেই আর নলেন চশমা পরে। ব্যাস, মারে হরি রাখে কে – সোজা বরাটের শ্রীগৃহে “।

“আহারে, বেচারা হয়েত সত্যি চুরি করেনি। তা তুমি এই সবের মধ্যে কি করলে গা?”

ব্যোমকেশ ত্রিপয়ের উপর পা তুলিয়া দিয়া কহিল “আমি সত্যান্বেষী – সত্য খুঁজে বের করা আমার কাজ। তাই করলুম”।

“সেই সত্য কি কর্নওয়ালিস স্ট্রিটেই ঘোরা ফেরা করছিল নাকি?”, প্রশ্ন করিলাম

“কর্নওয়ালিস নয় অজিত, সে অনেক দূর। সত্যের নিবাস লোয়ার সার্কুলার রোডে!”

“হেঁয়ালি না করে বলবে একটু খুলে”

“দুর্জয় ঘোষের পুরনো বন্ধু নীলাঞ্জন দত্ত – থাকেন লোয়ার সার্কুলার রোডে। পেশায় চিত্রপরিচালক – বেশ কিছু জনপ্রিয় ছবি তৈরি করেছেন যার কিছু তোমরা পয়সা খরচা করে হলে দেখতেও গিয়েছ। ইদানিং তার দুর্দিন শুরু হয়েছে – গোয়েন্দা গল্পের ছবি করবেন কিন্তু প্রযোজক হাথ উল্টো করতে নারাজ। নীলাঞ্জন দুর্জয়কেও অনুরোধ করেছিল ছবি তৈরির পয়সা দিতে, কিন্তু দুর্জয় রাজি হয় নি। মন্দার সময় চলছে তার ব্যবসায় – এই কারণে। পরে নীলাঞ্জন জানতে পারে যে এই দুর্জয় কিছুদিন আগে গোপনে এক পরিচালককে আর্থিক সাহায্য করে সেই একই গোয়েন্দা ছবি তৈরি করতে। ক্রোধে এই নীলাঞ্জনই সেই রাত্তিরে দুর্জয়ের সিন্দুক থেকে দলিল চুরি করে”।

“বাবা, তা তুমি ধরলে কি করে?”

“চোরের মন বোঁচকার দিকে, অজিত। আমার প্রথমেই মনে হয়েছিল চশমাটা রেড হেরিং – ওইটা যুক্তিকে বিপথে চালাবার জন্যে ব্যবহার করা হয়েছে। সেইদিন বিকেলে দেখি নীলাঞ্জন দত্ত হাজির দুর্জয়ের বাড়িতে। যিনি চশমা পরেন না অথচ চশমাকে কুকীর্তির জন্যে ব্যবহার করবেন সে কিন্তু কিছুদিন চশমা চোখে ঝালিয়ে নেবে নিজেকে সড়গড় করতে। অনভ্যাসের চশমা – তায় পুরু কাঁচ। নীলাঞ্জন দত্ত কে লক্ষ্য করে দেখলাম উনি মাঝে মাঝেই চোখ ছোট বড় করছেন – যেন চোখে কোন সমস্যা আছে। জিগ্যেস করাতে এড়িয়ে গেলেন। তারপর কাছ থেকে দেখি নাকের দুই পাশে, চোখের নিচে অল্প ছড়ে যাবার দাগ। পরিষ্কার বুঝলাম যে ইনি কোন কারণে ইদানিং হটাতই চশমা ব্যবহার শুরু করেন ও অনভ্যাসের দরুন ভারি চশমায় চামড়ায় কাটাকুটি”।

“বাঃ, এই তো সব মিলে যাছে। নীলাঞ্জন চশমার জন্যে চুরির সময় ঠিক দলিল না নিয়ে একটা আংশিক মালিকানার দলিল চুরি করলেন আর ফাঁসাবার জন্যে বেছে নিলেন বেচারা নলেনকে”

ব্যোমকেশের সিগারেট পুড়িয়া ইঞ্ছিখানিক মাপের ছাইয়ের ডাণ্ডায় পর্যবসিত হইয়াছিল। সামনে ঝুঁকিয়া আমার টিন হইতে আরেকটি সিগারেটে অগ্নিসংযোগ করিয়া ব্যোমকেশ কহিল, “সাবাস, অজিত। তুমি ছেঁদো প্রেমের উপন্যাস ছেড়ে গোয়েন্দা গল্প লেখ দেখি – পাঠকরা অনেক বেশি খাবে! যাইহোক, আজকে নীলাঞ্জন যখন আমার আর দুর্জয়ের সঙ্গে দুর্জয়ের বাড়িতে তখন বরাট নিলাঞ্জনের লোয়ার সার্কুলার রোডের বাড়ি তল্লাশ করে সেই দলিল ও চশমা উধহার করেছে। নীলাঞ্জন এখন বরাটের জিম্মায় – ব্যাটা সব কবুল করেছে”।

“বাবা, চশমার চমৎকার – কি বল?”

ব্যোমকেশ মুচকি হাসিয়া পকেট হইতে একটা মোটা ফ্রেমের চশমা বাহির করিয়া ত্রিপয়ের উপর রাখিল।

“এইটে কি? পারিশ্রমিক?”, এক প্রিয় ছবির শেষ দৃশ্যে শোনা এক সংলাপ কে ব্যোমকেশের দিকে ছুঁড়িয়া দিয়া প্রশ্ন করিলাম। সত্যবতী খানেক হতভম্ব খাইয়া বসিয়া রহিল।

ব্যোমকেশ টেবিলের ওপর পড়ে থাকা  দৈনিক কালকেতুটি টানিয়া লইয়া সেই পাতাটি মেলিয়া ধরিল যাহাতে তাহার কীর্তির মুক্তি-আসন্ন ছবির নায়ক নায়িকাদের কিছু স্থিরচিত্র ছাপা হইয়াছে। মূল ছবিটিতে নায়কের খানিক উদাস চাহুনি – ডিটেকটিভ হিসাবে অনুপযুক্ত হইলেও দৃষ্টির প্রখরতা মনের ভাবকে খানিক বুদ্ধিদীপ্ত করিতে সক্ষম হইয়াছে। নায়কের প্রাজ্ঞ ভাব ফুটাইয়া তুলিতে পরিচালক তাহার নাকের ওপর একটি মোটা ফ্রেমের চশমা আঁটিয়া দিয়াছেন। ব্যোমকেশ মুখায়বে খানিক তিক্ততা, খানিক ব্যাঙ্গ মিশাইয়া চশমার ডাঁটি দিয়া সেই ছবিটির দিকে ধরিয়া কহিল, “আমাকে কখনো চশমা পড়তে দেখেছ?”

মানিতে বাধ্য হইলাম যে নেহাত ছদ্মবেশ ধারণ করা ব্যাতিত ব্যোমকেশকে কখনো চশমা ব্যবহার করিতে দেখি নাই। তার দৃষ্টিশক্তি ক্ষুরধার – বরং রাত জাগিয়া লেখালেখি করিতে করিতে আমার মাঝে মাঝে চোখ ব্যথা করিয়া থাকে।

“তাহলে?”, এইবার ব্যোমকেশকে বেশ উত্তেজিত দেখিলাম। সদ্য জ্বালানো সিগারেট টি চায়ের কাপে ডুবাইয়া সে কহিতে লাগিল। সত্যবতী দেখিলাম আঁচলের আড়ালে মুখ লুকাইয়া হাসির দমক চাপার চেষ্টা চালাইতেছে।

“কেন বল দেখি, চশমার সঙ্গে বুদ্ধির এই বেয়াড়া যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা? এই চশমাটাই এই ছবির নষ্টের মূল। দুর্জয় ঘোষের পয়শায় তৈরি এই ছবি আর এই সেই উদ্ভট চশমা। বাংলা চিত্র পরিচালকরা যে হারে আমাকে চশমা পরাতে শুরু করেছেন অজিত, তাতে আমাকে – বা আমার গল্পের ছবির নাম – সত্যান্বেষী না রেখে চশমান্বেষী রাখতে পারত”।

সত্যবতী আর পারিল না, উছস্বারে হাসিয়া উঠিল। আমি স্থাণুবৎ বসিয়া রহিলাম। দেখিলাম ব্যোমকেশ তাহার আক্রোশ ফলাইয়া চশমাটির ডাঁটি ভাঙ্গিয়া বস্তুটিকে অকেজো করিয়া তুলিল। “বাঁশ না থাকলে দেখি কানুর বাঁশি বাজে কি করে”।

“পারিশ্রমিকের এমন অপচয় করতে আছে? বাঁটুল সর্দারকে দিয়ে দিলে চোর বাজারে বিক্রি করে নাহক কিছু টাকা তো উদ্ধার করা যেত?”, আমার বৈষয়িক মন আমাকে তাহার চেনা পথে টানিয়া লইয়া গেল।

“পারিশ্রমিক ওইটে নয় – এইটে”, বলিয়া ব্যোমকেশ জামার পকেট হইতে দুইটি মোটা ছাপা কাগজের ফালি বাহির করিল। কোন খানদানি অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ পত্র বোধকরি।

“এইগুলি কি গা”, সত্যবতী প্রশ্ন করিল

“দুর্জয় ঘোষের ছবি দেখার অগ্রিম নিমন্ত্রণ। আগামি শুক্রবার রিলিজ করছে ছবিটা আর বিস্যুদবার বিকেলে কিছু গন্যমান্য লোকদের চিত্রবাণী হলে অগ্রিম দেখানো হবে ছবিটা। চোর ধরে দেবার এই পারিশ্রমিক দিলেন দুর্জয় ঘোষ”।

“কিন্তু দুটো কেন – ঠাকুরপো যাবে না আমাদের সাথে?”

আরামকেদারায় মাথা পেছন হেলাইয়া, কণ্ঠে ভারি বর্ষার একরাশ ক্লেদ লইয়া ব্যোমকেশ কহিল “ঠাকুরপোই যাবে। আমি না। আমি সেইদিন আমার গল্পের ছবি দেখতে যাব যেদিন আমার সত্যি সত্যি চশমার প্রয়োজন হবে!”

বুঝিলাম সত্যান্বেষীর অন্ন্যেষণ এর ধ্রুবতারা হইল সত্য, সেই সত্যের কোন নাটকীয় রুপ সত্যান্বেষীর মোহ আকৃষ্ট করে না।

Traffic Nirvana

I have witnessed car drivers do a wide variety of chores stuck in the infamous Bangalore traffic. Conference callers are easy to spot. The moment you think someone has lost it, shouting or smiling or as is mostly the case – smirking – at oneself, you will notice the tiny hint of something sticking out of the ear. Hail our early morning time-zone conqueror! These days cars have built-in bluetooth, which makes it impossible to distinguish a mental case from a corporate go-getter (and you’ll argue the dividing line was blurry to start with). Ladies who have to rush in the mornings use their jam-time to powder their noses. Curling their lips to a near kiss on the rear-view mirror (and stopping heart beats of many a male driver in the trailing vehicle) they bring out vibrant color sticks to brighten their days. Once, I saw a lady sit up straight and do her eye lining while chomping on a piece of toast.

sleepToday I witnessed something different and definitely more pragmatic. Stuck in a half-a-km-in-half-an-hour traffic, I was scanning the rearview when I noticed this gentleman. I was aware of the derisive “asleep at the wheel” as a corporate leadership epithet but had never seen its origin in action. Our man had pulled down his seat to a recline and tilting his head back he took heavy odds that Old Madras Road will not clear up in a hurry. He was fast asleep. Suddenly the road (of a kind you may find on Mars) opened a patch in front and I, like a drive-deprived carnivore ate up the space with first gear glee. I then looked back at the rear-view. Our man took slim interest in such territorial aggression – he was still fast asleep. Soon the driver in the goods truck behind him started shouting for him to go conquer the 10m space between his car and mine. Our man woke up. Slowly he brought his seat upright, fired his engine and holding out a hand that blessed no one in particular, restarted his journey towards nirvana

শাপমোচন

শেষ বয়েসে বেশ কিছু বছর আমার দিদিমা আমাদের সঙ্গে থাকতেন। তখনও অহর্নিশি টেলিভিশনের যুগ শুরু হয়েনি। স্বাভাবিক ভাবেই অনেক বিকেল ছটায় কৃষি দর্শন না দেখে আমার দিদিমা সন্ধে দিয়ে আমাকে একটা অনুরোধ করতেন। শাপমোচন শোনাতে।

Shapmochonরবীন্দ্রনাথের গীতিনাট্য “শাপমোচন”: আর সেইটে শোনা হত গ্রামোফোন রেকর্ডে। ছোট্টবেলা থেকে আমাদের বাড়িতে প্রচুর গ্রামোফোন রেকর্ড দেখে এসেছি। কিছু রেকর্ড খুব পুরনো – কিছুর সামান্য ঐতিহাসিক মূল্য আছে হয়েতো (যেমন আমাদের পড়শী টিকুর মাসি পূর্বা দাম – যাকে আমরা শিশুসুলভ বালখিল্যে “গুড় বাদাম” বলতাম – এর সই করা একটা রেকর্ড) “রেকর্ড” নামক রচনা লিখতে দিলে হয়েত পড়ুয়ারা শুরু করবে – রেকর্ড তিন প্রকার – এই বলে। ঠিকই। তেত্তিরিশ, পয়তাল্লিশ আর আটাত্তর – এই হলো রেকর্ডের কাস্ট সিস্টেম। এইগুলি রোটেশন পার মিনিট – এক মিনিট সময়ে চাকতিগুলি এতগুলি চক্কর কাটত। আর একটা ছোট্ট পিন রেকর্ডের গায়ে ঘষটে বের করত আওয়াজ। আটাত্তরে দু পিঠে দুটি গান – অথবা তখনকার দিনের খুব চলতি – একটা গানের দুটি অংশ। এই অংশ ভাগ করে গান ব্যাপারটা আমার দিব্যি লাগতো। বেশ মাথা খরচা করে তৈরী হত এই গানগুলি। রেকর্ডের পিঠ পরিবর্তন মানে গানের ভাবের বা গল্পেরও একটা দিক পরিবর্তন। একপিঠে তার প্রিয়তমার সঙ্গে সাতটি বছর আগের প্রথম দেখার স্মৃতি মেলে ধরলেন জগন্ময় মিত্র। আর অন্য পিঠে সময়কে এগিয়ে নিয়ে গেলেন সাতটি বছর, ফিরে গেলেন সেই মালতী তলে “যেখানে দাড়ায়ে প্রথম, বলেছিলে ভালবাসি”। সেই মালতী তলায় আজও ফুল ফোটে, বাঁশী বাজে – কিন্তু সেই প্রিয়তমা আর নেই। হয়েত মৃত্যু তাকে কেড়ে নিয়ে গিয়েছে তার প্রিয়র কাছ থেকে। দুঃখ যেমন সুখের অন্য পিঠ বই কিছু না তেমনি একটা রেকর্ডে ধরা থাকত জীবন গল্পের দুটো পিঠ। ঠিক একই ভাবে সলিল চৌধুরী রেকর্ডের এক পিঠে রচনা করলেন ঘুঘু ডাকা ছায়ায় ঢাকা গ্রামের শান্ত ছবি আর অন্য পিঠে শোনালেন দূর্ভিক্ষের ডাকিনী যোগিনীদের উদ্দাম মরণ নৃত্যের কথা।

এইরকম ভাবে ভাঙ্গা হত রবীন্দ্রনাথের গীতিনাট্যগুলোকে। সঙ্গীত পরিচালক বেশ কায়দা করে কাজটি করতেন – ভিনাইল রেকর্ডের খাঁজ আর ঘোরবার গতি, এই দুই ভেরিয়াবেল নিয়ে তৈরী হতো গান আর কথায় সমৃদ্ধ মোটামুটি এক ঘন্টার অনুষ্ঠান। শাপমোচন রেকর্ডটি বেশ চোস্ত ভাবে তৈরী – অযথা শিল্পীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েনি। অরুনশ্বরের গান গাইছেন হেমন্ত মুখার্জী আবার উনিই অরুনশ্বরের সংলাপ বলছেন। দরাজ ভরাট গলায় সূত্রধরের ভূমিকায় নজরুল পুত্র কাজী সব্যসাচী। গল্পের প্রথম ভাগে – বা রেকর্ডের প্রথম পিঠে অরুনেশ্বর ও মধুশ্রী স্বর্গ থেকে বিতরিত হলেন, মর্ত্যে এলেন ও বিবাহ বন্ধনে বাঁধা পড়লেন। বধূর পতিগৃহে যাত্রা দিয়ে আনন্দের প্রথম পিঠ শেষ হয়। ভালবাসার উল্টো পিঠে সংঘাত – কাব্যেও তাই ও রেকর্ডেও তাই। সন্তোষ সেনগুপ্তের সঙ্গীত পরিচালনায় জীবন্ত হয়ে উঠলো জীবন কাব্য।IMG_20130817_141428

গাড়ি চালাতে চালাতে তো আর ভিনাইল রেকর্ড শোনা যায় না – আর আজকাল আবার রিমেকের দৌরাত্য। তাই সহজলভ্য সি ডি তে কিনলুম নতুন শাপমোচন। দৈর্ঘ্যে পুরোনোটার থেকে বড় – পুরনোটাতে যেমন সময়কে মাথায় রেখে অরুনেশ্বর “আনমনা আনমনা” গানটি পুরোটি গাননি – কিন্তু নতুনটিতে যেন শ্রোতার অঢেল অবসর। আর যেহেতু সি ডির পিঠ হয়না তাই গীতিনাট্যটাও কেমন জানি সিধে রাস্তায় চলে – নাটকীয় মোড় গুলি নেই বললেই চলে।

অনলাইনে খুঁজে পুরোনো শাপমোচন পেলাম – সি ডি তে। বার্ন করে নিতেই কয়েক জি বি তে নেমে এলো কৈশোরের সঙ্গীতময় সন্ধের স্মৃতি। কিন্তু কিছু জিনিস তো ফিরবে না। যেমন দিদু ধীর পায়ে এসে বলবে না “ভাই, রেকর্ডের পিঠটা বদলাইয়া দিবা?”

ব্রাউন সাহেবের বাড়ি

দুহাজার সালে বোম্বাই শহরের পাট গুটিয়ে রওনা হলাম ব্যাঙ্গালোর পানে। মন খুব খুশি। বোম্বাই শহরটা ঠিক ধাতে পোষায় নি – খানিক রবীন্দ্রনাথের খাঁচার পাখির মতো নিজেকে বোঝানোর প্রবোধ দিয়ে টিঁকে ছিলুম। ব্যাঙ্গালোর সম্বন্ধে শোনা ছিল সামান্য কিছু: সামান্য হলেও কিন্তু সেইগুলি আমাদের কাছে ছিল বেশ জরুরি। সুন্দর আবহওয়া, মাঝারি মাপের শহর, চোখ চাইলে সবুজ প্রলেপ আর জীবনের গতি একশো মিটার দৌড়ের মত না। শহরের ভূগোল বলতে জানা ছিল স্রেফ দুটি অঞ্চল – ইনফ্যান্টট্রি রোড – আমার হবু অফিস আর ফ্রেজার টাউন।

যে যাই বলুক না কেন আমার পুরনো সাহেবী নাম ছেটানো শহর দিব্বি লাগে। তার লেখা পড়ে বড় হয়েছি ঠিকই কিন্তু ক্যামাক স্ট্রিটকে অবনীন্দ্রনাথ সরণী বললেই কেমন জানি কৌলিন্য চলে যায়। ক্যামাক স্ট্রিট নাম থাকলে মনে হয় যেন ঠিক মত ঝাড়ু পড়বে, খানা খন্দ বোজানো হবে, পথের ধারের গাছগুলি বেশি সবুজ থাকবে – সবাই সম্ভ্রমের চোখে দেখবে। আমার দাদু সব সময় নিউ মার্কেটকে হগ মার্কেট বলতো – শুনেই কেমন জানি কেক পেস্ট্রির গন্ধ আসত নাকে। এই সব কারণে ফ্রেজার টাউন নামটা ভীষণ মনে ধরেছিল – আর ধরেছিল একদম ক্ষুদে বয়েসে। সত্যজিত রায়ের “এক ডজন গপ্পো” র একটা ছিল “ব্রাউন সাহেবের বাড়ি” – একদম গায়ের লোম খাড়া করা গল্প। সেই গল্পের পটভূমি ব্যাঙ্গালোর আর অকুস্থল ফ্রেজার টাউনের এক পোড়ো বাংলো বাড়ি – যেখানে মরা সাহেবের ডায়রীর রহস্য উদঘাটন হয় আর ফিরে আসে মৃত সাইমন। এক মার্জার – বেড়াল – সাহেবের পোষা আর নাম সাইমন। সেই ফ্রেজার টাউন – ছোট্ট বেলার স্মৃতির একটা কোনা আঁকড়ে ধরে আসা ব্যাঙ্গালোরে।

IMG_20130810_162550আর হলো গিয়ে এক অবাক কান্ড – আমার অফিস আমাদের বাসা ঠিক করে দিল বেনসন টাউনের এক ফ্ল্যাটে। ব্যাঙ্গালোরের পূব দিকে (তখন সবাই পূব বলতো – এখন পুরো অঞ্চলটাই মধ্য ব্যাঙ্গালোর হয়ে গিয়েছে। ভৌগলিক পূব আর শহুরে পূবের মধ্যে গড়ে উঠেছে অনেক মাইলের দুরত্ব!) এই বেনসন টাউন। বাড়ির পাশ বরাবর একটা রেল লাইন আর রেল লাইনের উল্টোদিকের অঞ্চলটাই সেই ছোট্ট বেলার ফ্রেজার টাউন। বড় দোকানপাট বলতে সবই ওই ফ্রেজার টাউনে – তাই হামেশাই রেল লাইন পেড়িয়ে যেতে হত ফ্রেজার টাউনে। সুন্দর ছবির মতো সাজানো এই অঞ্চলে হটাতই একদিন দেখলাম বাড়িটাকে। প্রমেনএড রোড আর সন্ডার্স রোডের সংযোগ স্থলে বাড়িটা যেন বেওয়ারিশ পড়ে আছে। পরিতক্ত কতদিন কে জানে। অনেকটা জায়গা নিয়ে বেশ একটা বড় মাপের বাংলো বাড়ি। সামনের বাগানে – মানে এক কালে যেখানে বাগান ছিল – এখন আগাছার জঙ্গল। পাঁচিল দিয়ে ঘেরা বাড়িটার বিশাল মাপের জানলাগুলি কয়েকটা ভেঙ্গে পড়েছে, সামনের বারান্দায় অবর্জনার স্তুপ। পিরামিডের মতো টালির ছাদ – সেটি বিলকুল অক্ষত আছে। না – ঢোকার একটা গেট থাকলেও সেই গেটের বাইরে “এভারগ্রীন লজ” কথাটা লেখা নেই। সত্যি বলতে কি – কিছুই লেখা নেই। কিন্তু একটা ফলক গোছের কিছু যে ছিল সেইটে দাগ দেখে পরিষ্কার বোঝা যায়। একদিন সন্ধে বেলায় ওই বাড়িটার সামনে, একটা টিমটিমে ল্যাম্প পোস্টের (তখনও ব্যাঙ্গালোরে হ্যালোজেন আলোর দৌরাত্ব শুরু হয়েনি) নীচে দাঁড়িয়ে আমার আর সন্দেহ রইলো না যে এইটেই ব্রাউন সাহেবের বাড়ি। ইষৎ লালচে আকাশের গায়ে কালো ভুতুড়ে ভাবে মেলে আছে নিজেকে। আর গাছগুলো থেকে যে কালো কালো জন্তুগুলি উড়ে যাচ্ছে ইতি-উতি সেইগুলো যে বাদুড় তা বলে দিতে হয় না। একটা কোনো পাখি বিকট ক্যা-ক্যা করে দেকে উঠছে থেকে থেকে। আমার সাহস একটু কম – হয়েত খানিক্ষণ দাঁড়ালে শুনতে পেতাম বুড়ো ব্রাউন তার প্রিয় বেড়ালকে ডাকছেন – “সাইমন, সাইমন – কাম হিয়ার”।

IMG_20130810_162603আর তারপর দেখুন কান্ড – গত বছর যখন সত্যজিতের ছেলে সন্দীপ এই গপ্পটা নিয়ে ছবি করলে তখন তার খোল নলচে এমন বদলে গেল যে ব্যাঙ্গালোর হয়ে গেল উত্তরবঙ্গের চা বাগান! বেচারা ব্রাউন সাহেবের বাড়ি – মানে আমার ব্রাউন সাহেবের বাড়ি – সেই একলাটি ই রয়ে গেল। আগাছা অনেক বেড়ে গিয়েছে, বাড়ির গায়ের চলটা উঠে গিয়েছে বেশ কয়েক জায়গায় – হটাত করে যেন বয়েস বেড়ে গিয়েছে বাড়িটার। ওই অঞ্চলের পাট গুটিয়ে আমিও কেটে পড়েছি অন্য পাড়ায়। তবে মাঝে মাঝেই আসা যাবার পথে দেখে যাই আমার ব্রাউন সাহেবের বাড়ি। একটু বেশি পথ হলেও বাড়িটার পুরোটা ঘুরে যাই – নাহ, এখনো কোনো প্রমোটারের বোর্ড লাগেনি। বুড়ো ব্রাউন বুক পেতে ধরে রেখেছে তার প্রিয় বেড়ালের স্মৃতি বিজরিত আধ ভাঙ্গা বাড়িটা। কোনো অন্ধকার রাতে এখনো মখমলের আরাম কেদারায় হয়েত ঘুমোতে আসে সেই কালো বেড়ালটা – আর সেই সুখেই ভরে ওঠে বুড়ো ব্রাউনের বুক।

ICANN Launches Special dot mafia Domains

After repeated requests from several quarters, the Internet Corporation for Assigned Names and Numbers, ICANN, has decided to launch internet domains with the dot mafia extension. Spokesperson from ICANN, who chose not to be named, confessed that they have received copious requests for allowing the use of that domain. The person confessed that a couple of request letters had US Dollar notes (several of them later detected as fake) stapled to them while some had generous sprinkling of anthrax. “The pressure was mounting and then we decided that, hell, let everyone make some money”, the spokesperson said with a touch of exasperation

The announcement was greeted with deafening sounds of gunfire in several locations across India and hurriedly arranged cultural programs by organizations that curiously were all into community welfare activities. “Ours is a country of technology savvy people. This (allowing dot mafia domains) will not only let us build our own brand equity but will also allow people to discover and participate in different schemes that we launch time to time”, exalted Mutthubhai Bhattikatti, also known as “Pandi” Bhatti for his unlicensed activities around handling pigs and pork. Originally a rowdy sheeter from Mangalore, he explained his tech-strategy that included adding Andriod apps to provide an experience continuum across devices to his clients. “We are seriously planning a industry-platform focused around group-deals and micro-mafias. Imagine a road-rage situation where you need to immediately eliminate the other fellow. Just login to the mobile app, find services in your vicinity, place a request and your supari will be completed. That simple”, explained Jaggu Kalia, who for several formative years worked for a Noida based BPO company before joining the more attractive and less stressful local sand mafia. “Talent attraction has been a big issue for us. Using razor focused web strategies we will better reach out to gain access to both national and international talent”, said Sabu Alem, long known as a scout operating in the hinterlands of the cow belt in India

Though ICANN confirmed they have not yet opened bookings of domains, insiders from the association say domains like sand.mafia, liquor.mafia, garbage.mafia have already been booked under a pre-booking scheme. Some ICANN insiders have expressed surprise at inquiries coming in for domain names like middaymeals.mafia, religiousgurus.mafia and cleanchits.mafia. “Very strange”, a person familiar with these developments said. “We have gotten in touch with the Indian government as almost 90% of these requests have been coming from there”

Official spokesperson for the government, veteran politician Parhad Shawar confirmed that the government will not tolerate anyone from its party owning dot mafia domains. Receiving a call on his mobile phone, he hurriedly excused himself from the interview. On his way out he was overheard negotiating a bulk domain booking deal with the customer service department of popular web domain registrar Godaddy