সালমান রুশদী

Rushdieভারতের একই পাঁঠা পেরেকেতে ক্রুশ দি
আয় তবে ধরে আন সালমান রুশদী।
ভোট হবে জোট যাবে বিরোধীকে বাঁশ দি
দাও ব্যান করে তাকে সালমান রুশদী।
মাইনরিটি মন-জয় এজেন্ডায় পুশ দি
পুড়িয়ে দে এফিজি সালমান রুশদী।
আধশতক  ধ্যেরিয়ে এখন কাকে দুষ দি
আছে ওই নন্দ ঘোষ সালমান রুশদী।
লিবারাল মন যারা কি প্রকারে ঘুষ দি
তোয়াজে ভরিয়ে দাও সালমান রুশদী।
শোনো বাছা বলি তোমে ঘটে কিছু হুঁশ দি
তোর কোন ধানে মই দ্যাছে সালমান রুশদী?

গলির গল্প

সুরি লেন আর গোমস  লেন। মধ্য কোলকাতার শিয়ালদা অঞ্চলের দুটো পাশাপাশি গলি। গোমস  লেনকে কেন জানি সবাই গোমেশ  লেন বলতো – একগাদা বাঙালি নামওালা রাস্তার মাঝে বেচারা ওই একটা ইংরেজ নামের রাস্তা – একটু উচ্চারণ বিভ্রাট তো হতেই পারে। এই সুরি লেন আর গোমস  লেন এর মধ্যে ছিল একটা সরু গলি – একপ্রান্তে সুরি লেনের কালি বাড়ি আর অন্য প্রান্তে গোমস  লেনের তেলেভাজার দোকান। ইংরেজি এল হরফের মত গলিটা এত সরু ছিল যে দুজন পাশ কাটিয়ে যেতে পারতো না।এমনকি একজন গেলেও তেরছা হয়ে যেতে হত – কাঁধে ঠেকত স্যাঁতসেঁতে দেয়ালের ঠাণ্ডা। নিয়মই ছিল যে কাশতে কাশতে ঢুকতে হবে আর যদি হটাত মাঝপথে ওই এল এর কনুইএ দেখা যায় উলটো পথগামি দিগভ্রান্ত কাউকে তাহলে স্রেফ নার্ভের খেলা। যিনি দুর্বল চিত্ত তিনি পিছে হেঁটে যাবেন আর অন্যজন জেনেরাল মানেকশর মত গিয়ে পাশ কাটিয়ে যাবার সময় বলবেন “আওয়াজ দিন, আওয়াজ দিন”।

গলিটা কখনো সূর্যের মুখ দেখেনি। এদিকে হয়েত আবার কত কি দেখেছে। সাতচল্লিশের দাঙ্গায় হয়েত কেউ এই গলি দিয়ে দৌড়ে প্রাণ বাঁচায় – হয়েত আবার কেউ হটাত অন্য প্রান্তে গিয়ে দেখে সড়কি বা কাটারি অপেক্ষা করে আছে।গলির প্রান্ত বদলালে হয়েত ধর্মও বদলে যায়! এক নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখত যে মেডেল পাওয়া ছেলেটা, যে মার অসুখ শুনে রাতের আঁধারে বর্ধমান থেকে লুকিয়ে এসেছিল মাকে একবার দেখতে -একাত্তরে এই গলিতেই হয়েত ভোরের আলো ফোটার আগে পুলিশের গুলি তার বুকটা এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়েছিল। ওই তো – ওই যে দেয়ালে সিমেন্টের কিছুটা চলটা উঠে আছে – ওইখানেই নিশ্চয় গুলিটা গিয়ে লেগেছিল।ইটগুলো মুখিয়ে রয়েছে কত গল্প শোনাবার জন্যে। বোবা হয়ে দেখেছে কত পথ চলতি উপাখ্যান।

ওই গলিটা পেড়িয়ে একটু দূরে সুরি লেনের কোনা ঘেঁষে সেনবাবুদের বাড়ি। জবাকুসুম তেলের সেনবাবু। যাদের তেলের বিজ্ঞাপনে স্বয়ং শরত পণ্ডিত – দাদাঠাকুর – পাঞ্চলাইন  লিখে দিয়েছিলেন। এক সুন্দরী যুবতী শ্যামা পুজায় রত – এই ছবির সঙ্গে এক ছত্র লেখা – “সাধনে জবাকুসুম, প্রসাধনে জবাকুসুম”।

Golir Golpoলাল রঙের তেলের সঙ্গে মিলিয়ে গোলাপি রঙের বাড়ী। কি বিশাল গেট। ছিল। এখন আর নেই। “তুষিত  প্রেয়সী চিত্ত যদি ইছছা চিতে, অনুরোধ  করি মোরা এই তৈল নিতে” গানে যে জিনিষ এক কালে বিকত সে কি আজকের দিনে চলে? চলে না। তাই সে তৈলর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ীর সামনের বাগানটাও লোপ পেয়েছে। লোপ পেয়েছে বলা ভুল – সুন্দর ছিমছাম গোলাপি বাড়ীটা ঢেকে দিয়ে একটা বেখাপ্পা ওনারশিপ ফ্ল্যাট তৈরি হয়েছে। দুটো ফুটফুটে বাচ্চা কে খেলতে দেখতুম ওই সামনের বাগানটায়। তাদের এক্কা দোক্কা খেলার চৌখুপিতে এখন কারো দশ ফুট বাই দশ ফুটের স্বপ্ন।

“ওরা দরজা বন্ধ করে না কেন, দিদু”? বাড়ীটার অদ্ভুত একটা নাম ছিল – ভূতের বাড়ী। পুরনো আমলের সাবেকি দালান বাড়ী। দরজাটা সব সময় খোলাই থাকত – বিশেষ করে দুর্গা পূজার সময়। দিদিমার হাত ধরে যেতাম ঠাকুর দেখতে। দিদিমার হাঁটুতে বাত ছিল – তাই বাড়ীর কাছের ঠাকুর গুলি দেখিয়ে আনতেন একদিন সন্ধেবেলা। ভূতের বাড়ীর খোলা দুয়ার দিয়ে ঢুকলে একটা বিরাট ঠাকুর দালান আর তারই মাঝবরাবর ডাকের সাজের প্রতিমা। ডাকের সাজ কথাটা দিদুর কাছেই শেখা। তবে ওই বাড়ীর দরজাটা কেন কখনো বন্ধ হয় না তার সদুত্তর আমার দিদিমা দিতে পারেন নি। পারবেনও না – বারো বছর হল মারা গিয়েছেন। ভূতের বাড়ী কবে মারা গিয়েছিল জানি না – বাড়ীটা আর নেই। সারপেনটাইন লেনের ভূতের বাড়ী এখন পঞ্চ ভুতে বিলীন।নতুন বাড়ীর ভিত শুরু হয়েছে – বাইরে একটা ছবি – নতুন বাড়ীটা কেমন হবে। কিনতে চাইলে ফোনও করা যায়া। নাহ, এই বাড়ীতে কি আর টানা টানা চোখের মা দুর্গা সবুজ রঙের অসুরকে বধ করবেন? একদিক থেকে ভাল হয়েছে – আমার ছেলে যদি আমাকে সেই প্রশ্নটাই করে বসতো যেইটা আমি দিদুকে করেছিলাম তাহলে বড়ই বেগতিক হত! ভালই হয়েছে বাড়ী ভেঙ্গে দিয়ে – না রইল বাঁশ, না বাজবে বাঁশরী।

মামাবাড়ির আশেপাশের এই গলিগুলোতে ছোটবেলার কত গল্প চাপ বেঁধে আছে। শীতের দুপুরে হাটতে হাটতে মনে হল এই বাড়িগুলো কত গল্প জানে। কিছু কিছু বাড়ী তো স্বয়ং গল্প। ওই তো, ওই বাড়ীটাই তো গগন চৌধুরীর স্টুডিও। ওই তো আধ-বন্ধ চিলেকোঠা ঘরের জানলা যেখানে মাঝ রাত্তিরে মারা যাওয়া লোকেরা নিজের ছবি আঁকাতে আসেন। গগন চৌধুরী কি জানলা দিয়ে দেখে ভূতের বাড়ীর ছবি এঁকেছিলেন? ওই দালানটাই না – যেখানে সোনার কেল্লার দুষ্টু লোকেরা ভুল মুকুলকে ফেলে রেখে গেছিল? আর ওই তো ওই বিশাল থামওয়ালা বাড়ীটা – সামনে পুরো আগাছার জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে! ওর বৈঠকখানাতেই তো দাবার ঘুঁটি সাজিয়ে দুঁদে পুলিশ অফিসার – প্রাক্তন – প্রবীর রায় চৌধুরী বসে আছেন – আর খুঁজে চলেছেন নিজের হারিয়ে যাওয়া অতীতে ফিরে যাবার ভয়ঙ্কর সুন্দর কবিতাময় রাস্তা।

অতীতের সঙ্গে আজকের বড্ড সংঘাত – থমকে থাকা সময়কে কে যেন ঘাড় ধাক্কা দিয়ে সামনের পথে ঠেলে দিয়েছে। সে যেতে চায়নি, জানেন, কিন্তু তবু তাকে যেতে হয়েছে কালের নিয়মে। ওই যে সর্বাধিকারীদের বাড়ীর সিং দরজার সিংহগুলো – পায়ের চাপে একটা বলকে ধরে রেখেছে। বাড়ীটা এখনো আছে – একটা ক্লিনিক না কি হয়েছে। সিংহগুলো একটু ভেঙ্গে গেলেও বেশ আছে এখনো। ছোটবেলায় এগুলোকে কি বিশাল মনে হত। এখন আর হয় না। বড় হয়ে গেছি কিনা! পাল্টে গিয়েছি কিনা!

শীতের দুপুরের রোদ হাল্কা লাল হয়ে আসছে – বেলা ঢলে এল। “পাল্টে গেলি তুই, আমিও পাল্টে গিয়েছি মাঝ পথে হাঁটতে হাঁটতে …”

কালের ক্যালেন্ডার

পয়লা জানুয়ারির অনেক আগে থেকেই শুরু হয়ে যেত। দুম করে বছরটা উল্টে গেলে তার হিসেবটা তো রাখতে হবে – না কি? আর সেইটে করার জন্যে যদি ক্যালেন্ডারই না রইলো তবে থাকলো কি? আমার ছেলেকে ক্যালেন্ডার দেখাতে জাদুঘরে নিয়ে যেতে হবে, সে আমি জানি। কিন্তু আমাদের, যাদের জীবনের সঙ্গে ক্যালেন্ডার ওত প্রত ভাবে জড়িত তাদের সঙ্গে নিয়ে চলুন স্মৃতির বকুল বিছানো পথে একটু ব্রিস্ক ওয়াক করে আসি।

ক্যালেন্ডারের কিন্তু একটা কাস্ট সিস্টেম আছে। সেই শ্রেণীবিভাগের উপরের সারিতে তেরো পাতার ক্যালেন্ডার – তাদের পাতায়ে পাতায় ছবি। সেই ছবি ইভলুশনএর গোড়ার দিকে বেখাপ্পা গোছের হত – তাদের কোনো সামঞ্জস্য থাকতো না। ডালিয়া ফুল দিয়ে শুরু হয়ে সমুদ্রতট ঘুরে ফুটফুটে বাচ্চার ফচকে হাসিতে ডিসেম্বর গড়িয়ে যেত। পরের দিকে শুরু হলো থীম। একটি বিষয় ধরতে হবে আর তার উপর ছবি। ইদানিং বিজয় মাল্য নামে এক বালখিল্য এই ব্যাপারটা ভালো রপ্ত করেছে – তবে ওনার থীমে বৈচিত্র কম – পোষাক-আসাকও কম কিন্তু সেইটেই থীম! কৌলিন্যর নিম্নগামী পথে ক্যালেন্ডারের পৃষ্টা সংখ্যা কমতে থাকে। যারা সেলস বা বেচুবাবুর চাকরি করেন তারা “কোটা ” নামক ভয়ানক সিরিয়াল কিলার সম্বন্ধে অবহিত আছেন জরুর। প্রতি তিন মাস অন্তর এই আততায়ী হানা দেন রাতের ঘুম ও দিনের টুইটারবাজির চৌদ্দটা বাজাতে।ক্যালেন্ডার-কৌলিন্যর পরের লেভেলে যিনি প্রতি পাতায় তিন মাস গুঁজে দিয়েছিলেন তিনি নির্ঘাত সেলসের লোক – কোয়াটারলি কোটায় কাটা পড়া প্রাণ। যাই হোক, এই ভাবে পাতার সংখ্যা কমতে কমতে বেসিক নো -ফ্রিল মডেল – মানে একপাতায় বছরে এসে দাড়ায়। ক্যালেন্ডারের ব্রাহ্মন শ্রেনীর চাহিদা খুব – অন্তত এক কালে খুব বেশি ছিল। পল্টুর মায়ের মামাতো ভাই – মানে মামাতো মামা – তার নভেম্বর থেকেই খোজ পড়ে যেত। “দেখো ভায়া, এই বার কিন্তু আই টি সির ক্যালেন্ডারটা চাই। আর বছর পড়লেই দিও কিন্তু – আগের বছর পুরো জানুয়ারী মাস আগের বছরের মে মাসের পাতাটা লাগিয়ে চালিয়েছিলাম। পাঁচ বাই দুইয়ের বসাক ট্যাক-ট্যাক করে কত কথা শুনিয়ে গেলো।”

বারো পাতার বসার ঘর, চার পাতার শোবার ঘর আর এক পাতা ঠাকুর ঘরের দরজার পেছনে। ছোট করে এই ছিল ক্যালেন্ডারের বাহিক প্রদর্শন সুত্র। খুব সন্তর্পনে ক্যালেন্ডারের শিরদাড়ার মাঝ বরাবর একটা ফুটো করে তার ভিতর দিয়ে সুতো গলিয়ে পেরেকে লটকে দিতে হত। সদ্য ইউক্লিডের সঙ্গে পরিচয়্প্রাপ্ত অনেক পড়ুয়ার ওপর বর্তাত এই বাইসেক্ট দা শিরদাড়া কাজটি। একটু এদিক ওদিক হলেই কিন্তু ক্যালেন্ডার বাম বা দক্ষিণ পন্থী হয়ে পরবে এবং পুরো সাল আপনাকে মনে করিয়ে দেবে আপনার নিপুনতার কমজোরী। এই দোদুল্যমান দৃষ্টিনন্দন – প্রায় “ফর্ম অফ আর্ট” – বস্তুটির আসে পাশে কিন্তু ক্রমেই দুটো ওপেন ব্রাকেট ক্লোস ব্রাকেট আবির্ভূত হতো। মার্চ পেরোতে না পেরোতে ফুল স্পিডে পাখা চালাতে হতো আর সেই হওয়া নাড়া দিত ক্যালেন্ডারে – সে দিন দুজনে দুলেছিনু ওয়ালে, পেরেকের বাঁধা ঝুলোনায়। সেই দুলুনিতে শিরদাড়ার দুই প্রান্ত তাদের আপন মনের মাধুরী মিশায়ে রচনা করত দুটি বঙ্কিম রেখা – প্রবল হওয়ায় তারা বেঁকে যেত একে অপরের দিকে কিন্তু মাঝখানে নদী ওই বয়ে চলে যায় – বনের পাখি খাঁচার পাখির মিলন আর হতো না। ঘরের ডিকর পুরো বদলে ফেলতেন দাসবাবু কিন্তু দেয়ালে ক্যালেন্ডারের স্থান পরিবর্তন করতে বুক কাপত – থাক ওখানেই, অন্য কথাও দিলে তো আবার সেই দাগ হবে। এই ক্যালেন্ডারের স্বাভাবিক ভাবেই পাতা উল্টে দিতে হত সময় উল্টে গেলে।ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টানো কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও আদপে বিলকুল নয়। বুচকি কে বললেন “মা, টুল টা নিয়ে দেতো এপ্রিল করে – বারো তারিখের বন্ধটা শুক্কুর না সোম দেখে নি” – চলবে না। ভীষণ রিস্ক। কারেক্ট আপ্রোচ হলো একটা লাঠি নিয়ে ক্যালেন্ডারে প্রথমে জোরে টোকা দেয়া। দিলেই দেখবেন পেছন থেকে পেট মোটা দুটো টিকটিকি দুরদুর করে পালাবে। দোষ কি – পোকা খেতে এসে দেখা, তারপর প্রেম য়্যান্ড পরিণয় ও ক্যালেন্ডারের পিছনে সুখী গৃহকোণ। এইটে যদি না করেন তাহলে বুচকির টুল থেকে পতন ও আপনার কিছু বেমক্কা হয়রানি কিন্তু অপেক্ষা করে আছে।

সুধীগণ এই পড়েই বুঝতে পেরেছেন যে সাবেকি ক্যালেন্ডারের মহা ঝক্কি। তাই মানুষের মন, বাড়ির মাপ, পরিবারের পুষ্যি এই সবের মতই ক্যালেন্ডার হ্রস থেকে হ্রশতর হতে লাগলো। হেড আপিসের শান্ত বড়বাবু যে বস্তুটি নিজের টেবিলের ওপর রাখতেন, সেই টেবিল ক্যালেন্ডার বাড়ির চৌকাঠ পেড়িয়ে সোজা বৈঠকখানায় হাজির হলো। মাপে ছোট তাই দেখতে গেলে নাকের সামনে লাগাতে হয়। কিন্তু কি করা – মিসেস সেন প্রচুর টাকা খসিয়ে এশিয়ান পেন্টস এর স্পেশাল এফেক্ট করেছেন দেয়ালে – কমলা দেয়ালে হাল্কা হলুদ হরতন সূর্যাস্তের ইলুশন ছড়িয়ে ফুটে বেরোচ্ছে – সেই ভ্যানিটি ওয়ালে তো আপনি টি এম সি কনক্রিট বারের ক্যালেন্ডার ঝোলাতে পারেন না। অগত্যা মুজিক সিস্টেমের বাম স্পিকারের ওপরেই লাগানো হলো ডেস্ক ক্যালেন্ডার।

সেই কবে গানের জলসায় ধুতি পাঞ্জাবি পড়ে মাইকের দিকে ত্যারচা হয়ে উত্তমকুমার গান গেয়েছিলেন – “জীবন খাতার প্রতি পাতায়, যতই লেখ হিসাব নিকাশ।” কি সত্যটি না কয়েছিলেন – কিছুই রবে না। রইলোও না। ক্যালেন্ডার এখন গিয়ে ঢুকেছে স্মার্টফোনে। বুড়ো আঙ্গুল চালিয়ে খুলে নাও দিনপঞ্জি – তর্জমার তর্জনে বয়ে চলো ভূতে, ভবিষতে আর দেখে নাও বাংলা বন্ধটা সুক্কুরে পড়েছে না সোমে। সব কিছু ছোট হয়ে আসছে – আর সব কিছু চলে আসছে তোমার আঙ্গুলের ডগায়। তবু মাঝে মাঝে মার ঠাকুর ঘরে গিয়ে কমলা বস্ত্রালয়ের ডাগর ডাগর চোখের লক্ষী ঠাকুরের ক্যালেন্ডারটা দেখতে বেশ লাগে – তাই না। কেমন যেন অভয় দেয়ার হাথটি দেখিয়ে বলছেন “সব ঠিক হয়ে যাবে – ভাবছিস কেন?”

ওই দেখো – দেয়ালের টিকটিকিটাও বলে উঠলো – “ঠিক ঠিক ঠিক”