ফ্রিডম অফ স্পীচ

ইদানিং সালমান রূশদী কে নিয়ে বেশ হুল্লোড় গেল | উনি আসবেন, আসবেন না, সশরীরে আসবেন না ভিডিও লিঙ্ক এর মাধমে আসবেন – এই সব গুচ্ছের ব্যাপার হলো | কিছু লোক “এলে লাশ ফেলে দেব” ইত্যাদি বলল আর আমাদের সরকার বাহাদুর রূশদী বাবুকে বললেন যে ভাই, বাপের দেওয়া পরানটা কেন খায়াবে শুনি – বাড়ি থেকে যাও, জয়পুর আসতে যেও না | কেন এইসব উষ্টুম-ধুষ্টুম লিখতে যাও? আর এদিকে যেই না মন্ত্রীমশাই এইটা কইসেন, পাড়ার লোক ক্ষেপে গিয়ে বলে “তাহলে ফ্রীডম অফ স্পীচ” ব্যাপারটার কি হবে? ওরে খোকা, ফ্রীডম অফ স্পীচ বলে তো আদৌ কিসসু নাই – ঠন-ঠন গোপাল | এই হক কথাটা আমি একবার আমাদের কলেজ ফেস্ট এ অনুধাবন করেছিলাম | গান লিখিয়ে, ব্যান্ড বিজয়ে হিসেবে তখন চন্দ্রিল এর নাম হয়েনি – নেহাতই ফার্স্ট ইয়ারের ছাত্র | তখন থেকেই লেখার হাথ খুব পাকা – তা বাবু একটা স্কিট লিকে পেশ করলেন কম্পিটিশন এ | পটভূমিকাটা এই রকম | মহাভারত এর যুগ – পান্ডব কৌরব দুজনেরই যাকে বলে আদল্স্সেন্ট – মানে দুষ্টুমি করে, একে-ওকে ক্ষেপায়ে | তা একদিন তারা স্কুল থেকে ফিরছে একে পরস্পরকে টিটকিরি দিতে দিতে

পান্ডব বর্গ: আজ ইশকুল বন্ধ, তোর বাবা অন্ধ, আজ ইশকুল বন্ধ তোর বাবা অন্ধ

কৌরব বর্গ : তোর বাবার নাম পান্ডু, সে একটা …

স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী লাইন শেষ না হতেই দ্রোণাচার্য এসে “চপ” বলে একটা ধমক দেবেন, কিন্তু সমস্যা হলো যে জজ রুপি অধ্যাপকরা ঠিক এই মূহুর্তে “disqualify , disqualify ” বলে বসলেন | লেগে গেল তুলকালাম | চন্দ্রিল রা জিগ্গেস করলো কেন disqualify ? অধ্যাপকরা বললেন যে অশ্লীল কথা ব্যবহার করা যাবে না | চন্দ্রিল বিনীত ভাবে জিগ্গেস করলো যে স্যার, আপনি বলুন না সেটা কি এমন শব্দ যেইটা আপনি মনে করছেন অশ্লীল? এবং কখন সেটা বলা হলো?অধ্যাপক পড়লেন মহা বিভ্রাটে – সত্যি তো কোনো অশ্লীল কথা বলা হয়েনি | তিনি বললেন “কেন ওই যে, পান্ডুর সাথে মিলিয়ে…” | চন্দ্রিল বললে “হাঁ হাঁ, বলুন স্যার বলুন স্যার অন্তমিলে কোন শব্দ বলা হলো?” সে এক ভয়ানক স্টেলমেট | শেষ পর্যন্ত সরকার পক্ষ  – মানে অধ্যাপকরাই জেতেন – স্কিটটি শেষ হয়েনি আর চান্দ্রিল্রাও পুরস্কার পায়েনি |

ফ্রিডম অফ স্পীচ বলে কিসসু নেই – বললেও নেই, না বললেও নেই

Leave a comment

1 Comment

  1. Gablu (@_Gablu)

     /  January 26, 2012

    ক্লাস নাইন এর বাংলা কোচিন হত সকাল সকাল ৭ টা থেকে। শমিক নামের এক বন্ধু বাংলা স্যার কে প্রতিদিন জ্বালিয়ে খেত কোচিন এ বক বক করে করে। এক পুণ্য প্রভাতে বাংলা পড়তে গিয়ে দেখি শমিক চুপ। আশ্চর্য হোয়ে স্যার জিজ্ঞেস করেন কি হয়েছে। শমিক কোনও সঙ্কোচ না করে বলে দেয়, “স্যার, গত রাতে আমার সুপ্তি স্খরন হয়েছে।” স্যার আর কোনোদিন ওকে বকেন নি। (আমি জানি না, বাংলা টা ঠিক লিখলাম কিনা, ভুল হলে শুধরে দেবেন।)

    যা সত্যি আর তা যদি কারও ক্ষতি না করে, বলে দেওয়া ভালো।

    Reply

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s

%d bloggers like this: