ছবি দেখিয়া কিনিবেন

“আমাদিগের কৃতী ব্রিটিশ ব্যবসায়ীরা তাহাদের ব্যবসা সামগ্রীতে নিজদিগের নাম জুড়িয়া দেয়। ইহাতে অপরিসীম সাহস লাগে। কিন্তু ইহা করিলে ব্যবসার মান উন্নত হয় – সামগ্রীর প্রতি ক্রেতাগনের বিশ্বাস বৃধি পায়। আমরা ইহাকে পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং কহিয়া থাকি। উদাহরণ – কার্থবার্টসন য়্যান্ড রবার্টস।”
“কিন্তু স্যার, আপনাদের দেশে কি কেবল একজনই কার্থবার্টসন আর একজনই রবার্টস আছেন?”
“তোমার প্রশ্ন বোধগম্য হইলো না – তুমি কি বলিতে চাহ, বাবু?”
“স্যার, লোকে যদি চিনতেই না পারলো কোন কার্থবার্টসন আর কোন রবার্টস তাহলে আর নাম দিয়ে কাম কি? ঘোষ য়্যান্ড কোং দিলেই হয়। “
“তোমার নিকট ইহার অধিক বেশি উত্কৃষ্ট কোনো সমাধান আছে?”
“আছে স্যার। এক্সট্রিম পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং শুনেচেন? না? শুনুন স্যার। আমি আর আমার এই বন্ধু ঠিক করিচি আমাদের ব্যবসা সামগ্রীতে শুধু নিজেদের নামই নয় – নিজেদের ছবিও লাগাবো। ক্রেতাগনের কোনো ভ্রান্তির জায়গাই থাকবে না। সারা জগৎ খুঁজে দেকুন তো স্যার এই রকম আর কোতাও দেকেচেন কিনা?”
“তোমাদের সাহসের আমি কুর্ণিশ করি বাবু – ভেরি ব্রেভ তোমরা। আমি প্রফেসর ফিলিপ কটলারসন সারা পৃথিবীতে শিক্ষা প্রদান করিয়াছি কিন্তু ইহা হেন সাহসের পরিচয় ইতিপূর্বে কোথাও দেখি নাই। আমি ভবিষ্যতবাণী করিতেছি – এক শতাব্দী অতিক্রম করিয়াও কোনো ব্যবসায়ী ইহাহেন সৎ সাহস দেখায়িতে পারিবে না। উঠিয়া আইস বাবু তোমরা দুই জন – কি নাম তোমাদিগের?”
“এই স্যার আমার নাম শ্রী দুলাল চন্দ্র ভড় আর এই আমার বন্ধু শ্রী বেণীমাধব শীল। “

রামনামী

Ramnami guru Mehtr Ram

Ramnami guru Mehtr Ram

এদের সমাজের নাম রামনামী। অস্পৃশ্য। বাস ছত্তিশগড়। এরা নিজেদের দেশে পরিত্যক্তই বলা যায়। এদের গ্রামের সন্ধান চাইলে কেউ দেখিয়ে দেয় না – চট করে কথার প্রসঙ্গ ঘুড়িয়ে ফেলে। কিম্বা স্রেফ না শোনার ভান করে। স্বাধীনতার আগে কিন্তু এরা পুরোপুরি গান্ধী ভক্ত ছিল। খুব আশা ছিলো এদের যে নতুন ভারতে নতুন ভাবে বাঁচবে – অস্পৃশ্যের তকমা আর তাদের থাকবে না। স্বাধীনতা এলো কিন্তু এদের দিন বদলালো না। বছর দশের ঘুরতেই রামনামীরা বুঝলো যে তারা যে তিমিরে, সেই তিমিরেই থাকবে। বিদ্রোহ করলো রামনামীরা। ধর্ম বিদ্রোহ। হরিজন তারা – ভগবানের সন্তান, তাই ভগবান রামকেই বেছে নিল নিজেদের পরিচয় হিসেবে। রামের সন্তান বলে নিজেদের ঘোষণা করলো। তাদের রাম কিন্তু অযোধ্যার রাম নয় – তারা রামকে নিজেদের মতো করে তৈরী করে নিল| তৈরী করে নিলো নিজেদের রামায়ণ। এমনকি তাদের ধর্মগ্রন্থ রামচরিতমানসের প্রতিটি দোহার বিকল্প ব্যাখ্যা তৈরী করলো তারা। এই কি শেষ? নিজ সৃষ্ট ঈশ্বরের কাছে এই কি চরম আত্মসমর্পণ? না। ভগবান প্রদত্ত দেহটিকেও রামনামীরা অঞ্জলী দিল তাদের ভগবানের কাছে। সর্বাঙ্গে উল্কি করে আত্মস্থ করলো রামচরিতমানসের এক একটি দোহা। সূচ্যগ্র দেহপটও ছাড়া গেল না এই সমর্পণের মহালীলায়। পরের প্রজন্ম অবিশ্যি উল্কির ব্যাপারটা এড়িয়ে গিয়েছে। তাই এখন রামনামী সমাজে স্রেফ চারজন বেঁচে আছেন যাদের শরীর জুড়ে রামচরিত মানসের উল্কি!

রামনামীদের গল্প শুনছিলাম আমার আলোকচিত্রী বন্ধু জয়দীপ মিত্রের কাছে। চত্তিশগড়ের  মাটি ফাটা গরমে ঘুরে বাবু কয়েকদিন কাটিয়ে এলেন রামনামীদের গ্রামে। রামনামীদের নাম হয় – পদবী হয় না। নিজেদের মতো পদবী বেছে নেয় তারা। কেউ শর্মা, কেউ প্যাটেল কেউ মেহতা। একজন নাকি ব্যানার্জীও আছে! সকাল হলেই রামনামী সমাজে শুরু হয় গান আর নাচ। এক অদ্ভূত সুরে এরা রামচরিতমানস আবৃত্তি করে, রাম নাম লেখা একটা বিশাল চাদর গায়ে জড়িয়ে দুলে দুলে নাচে। মাথায় ময়ূরপুচ্ছের মুকুট!

আজকে সকালে সপরিবারে গিয়ে প্রজাধর্ম পালন করে এলাম – বোতাম টিপে ভোট দিয়ে। বোতাম টেপার সময় মনে পড়ে গেল – ছত্তিশ গড়ের জঙ্গলে রামনামীদের গ্রামে নিশ্চয় এখন সভা বসেছে – ময়ূরের পালক মাথায় পরে নেচে চলেছেন মেহতার রাম। নিজের মনে, নিজের সনে। তার সর্বাঙ্গে বিরাজ করছেন ঈশ্বর – গণতন্ত্রের ঈশ্বরে প্রয়োজন তাদের অনেক দিন হলো মিটে গিয়েছে।

পূঃ: ওপরে মেহতার রামের ছবিটি জয়্দীপের তোলা

ঘুষ

কম্পিউটার এর মনিটরটা বন্ধ করে চেয়ারটা ঠেলে দাঁড়াতেই রঞ্জনের মনে হল সব্বাই তার দিকে দেখছে। রঞ্জন বড়াল আজ সাত বছর হয়ে গেল আবগারি বিভাগে চাকরি করছেন। আবগারি মানে এক্সসাইস অ্যান্ড কাস্টমস। নির্ঝঞ্ঝাটের চাকরি – সকাল নটায় সীটে এসে বসা, ফাইল দেখা, দুপুরে অফিসের বেয়ারা উমেশকে দিয়ে পাশের গলির চাইনিজ দোকানের চাউ মিন, দিনে অন্তত তিন কাপ চা আর পাঁচটা বাজলেই কাজ গুটিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা – এই হোল রঞ্জনের দিন-নামচা। বাড়িতে রঞ্জনের বউ আর বছর পাঁচেকের ছেলে। ছোট্ট ছিম ছাম সংসার। কিন্তু আজকেই সব কিছু গড়বর।

আজকে রঞ্জন জীবনে প্রথম ঘুষ নিয়েছে।

ব্যাপারটা সামান্যই। কলকাতা শহরে আর মদের দোকানের পারমিট দেয়া হয় না। তবে পুরনো পারমিট যাদের আছে তারা অনেক সময় পারমিট বেচে দেয়। নতুন প্রজন্মের কাছে মদের দোকান চালানোটা একটু দৃষ্টিকটু লাগে হয়েত! কিন্তু কোর্ট কাছারি করে সেই পুরনো পারমিটে একখানা নতুন সীলমোহর লাগাতে পারমিট ক্রেতাকে আসতে হয় এই আবগারি বিভাগে। গত একমাস ধরে পাইকপাড়ার এক মদের দোকানী ঘুরে চলেছেন এই সীলমোহরের জন্যে। ওনার কেনা পারমিটটি বহু পুরনো – সেই ফাইল খুজে, ঘেঁটে বের করতেই অনেক সময় গেছে। আজকে রঞ্জন অন্তত জানতে পেরেছে যে পুরনো ফাইলটা আছে – হারিয়ে, পুড়ে যায়নি। আর দিন তিনেকের মধেই বাকি কাজ হয়ে যাবে। এইটে যেই না রঞ্জন দোকানের নতুন মালিককে বলেছে অমনি লোকটা একটা ব্রাউন পেপারে মোড়া এক ইঞ্চি মোটা একটা প্যাকেট রঞ্জনের সামনে রেখে বললেন “এইটা রাখুন স্যার। প্লিজ, না বলবেন না। আপনি যে আমার কত উপকার করলেন স্যার”। নিচু, গদগদ স্বরে এইতুকু বলেই লোকটি হাথ জোড় করে নমস্কার করে হাওয়া। ঘটনাটার জের কাটতে সময় লাগল রঞ্জনের। কিংকর্তব্যবিমুরহ হয়ে বেশ অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল প্যাকেটটার দিকে। সবুজ রবারব্যান্ড দিয়ে দুই প্যাঁচে আটকান। গোটাগোটা অক্ষরে লেখা “ফোর  মিস্টার এল কে আদক” – যদিও যিনি রেখে গিয়েছেন তার নাম আদক নয়। খামের নীচে বাঁ দিকে একটা ঠিকানা – পাইকপাড়ার। নির্ঘাত ওই লোকটার অন্য কোনও ব্যবসার। ঘণ্টা খানেক জবুথবু হয়ে বসে থাকার পর এক কাপ আদা চা খেয়েই রঞ্জন ঠিক করে নিল – যা থাকে বরাতে, নিয়ে নেবে সে টাকাটা। সরকারি মাইনে আর কততুকুই তার – আর জিনিষপত্রের দাম তো সরকারি-বেসরকারি দেখে বাড়ে না! না হয় কুন্তলার জন্যে একটা দামি শাড়িই কিনে নেবে টাকাটা দিয়ে – আগামী ছাব্বিশে বৈশাখ রঞ্জনের বিবাহ বার্ষিকী।

“চললেন নাকি রাঘব বড়াল? আজকে খানিক আগেই বেরচ্ছেন যে? কোনও স্পেশাল প্ল্যান আছে নাকি?” ইন্সপেকশনের রায়বর্মণ মাথা তুলে জিগ্যেস করলো। ঠোঁটের কোণে হাল্কা কেন? রায়বর্মণের টেবিল খুব দূরে নয় – তবে কি ও শুনতে পেয়েছে কথাগুলো?

“নাহ, শরীরটা খুব জুতের লাগছে না”।

“দেখো হে, সিজিন চেঞ্জের সময় – সাবধানে থেকো। পথে যেতে যদি কোনও খদ্দেরের দোকান পাও তবে ঢুকে এক ঢোঁক মেরে দিলেই দেখবে অনেক ভালো লাগছে। হে হে হে”।

রঞ্জন মদ খায় না। তবে এইটা ঠিক যে দুপুর থেকেই – মানে খাম পাওয়ার পর থেকেই মাথাটা ঢিপ ঢিপ করছে। শরীর খারাপটা স্রেফ অজুহাত নয়।

পাঁচতলার আফিস থেকে রঞ্জন সিঁড়ি ভেঙ্গেই নামে। দিব্বি লাগে ঘোরানো সিঁড়ি দিয়ে নামতে – মাঝের ফাঁকটা দিয়ে দেখা যায় কারা উঠছে নামছে। আজকেও রঞ্জন লিফট না ধরে সিঁড়ি ভাঙতে শুরু করলো। চারতলায় পৌঁছাতেই গলা বাড়িয়ে দেখতে পেল দু জন উর্দি ধারী পুলিশ সিঁড়ি ভেঙ্গে উঠে আসছে ওপরে। চরাং করে মাথায় শক খেলে গেল রঞ্জনের। রেইড! মুহূর্তের মধ্যে সব্বাইকে আফিসে আটকে রেখে পকেট, ব্যাগ, দেরাজ খানাতল্লাশি চালাবে এরা। আর রঞ্জনের হাথে ছোট্ট ফলিও ব্যাগে রয়েছে এল কে আদক মার্কা এক ইঞ্চি পুরু টাকার খাম। মানে ধরা পড়া ও শ্রীঘর। নিজের ছেলের কাছে মুখ দেখাবে কি করে রঞ্জন? চটজলদি ঘুরে গিয়ে রঞ্জন লিফটের বোতামটা টিপে দিল। পুলিশ আছে এক আর দোতলার মধ্যে – তার ভেতরে রঞ্জনকে সটকে পড়তে হবে অন্য পথে। ঘড়ঘড় শব্দে পেল্লায় গ্রিলের দরজা ওয়ালা লিফট হাজির হোল। দৌড়ে ঢুকে পরে হাঁপাতে লাগল রঞ্জন বড়াল। চৈত্রের গরম খুব তেমন না – তবুও বেশ বুঝতে পারল শিরদাঁড়া বেয়ে ঘামের ফোঁটা গেঞ্জি ছাপিয়ে শার্ট ভিজিয়ে দিচ্ছে।

রাস্তায় বেড়িয়ে অনেক ভালো লাগতে শুরু হোল রঞ্জনের। বিকেলের হাওয়াটা মন আর শরীর, দুইই চাঙ্গা করে তুলল। রঞ্জন মেট্রো ধরবে – আপিস থেকে মহাত্মা গান্ধী রোড স্টেশন অবধি অন্য দিন অটো ধরে রঞ্জন – আজকে ভাবল হাঁটা যাক, মনটা স্থিতি হবে খানিক। কোনার পানের দোকান থেকে একটা গোল্ড ফ্লেক ধরিয়ে মানুষ আর ফুটপাথে বসা ব্যাপারির পসরা বাঁচিয়ে হাঁটা দিল রঞ্জন। কত টাকা হবে, খামটাতে? কত টাকার নোটে ঘুষ দেয় লোকে? হাজার না পাঁচশো? একশর তো আকজের দিনে কোনও দামই নেই। বেশ মজা পেল রঞ্জন মনে মনে হিসেবটা কষতে। ধরা যাক হাজারের নোট আছে। কটা হাজারের নোট রাখলে এক ইঞ্চি খানেক উঁচু হবে? একশ? মানে একশ ইনটু হাজার টাকা এখন রঞ্জনের ফলিও ব্যাগে ওই অঙ্কের টাকা? খুব ইচ্ছে করছে রাস্তায় কোথাও বসে টাকাটা গুনে নিতে। নিরাপদ হবে কি? কাউকে কখনও তো রঞ্জন দেখেনি রাস্তায় বসে টাকা গুনতে। কোনও রেস্টুরেন্টে বসা যায় বটে, কিন্তু রঞ্জনের একা একা রেস্টুরেন্টে যাবার অভ্যাস নেই। মনে মনে হিসেব কষাটাই বেশ – রঞ্জন আজকে পথ হাঁটার একটা অদৃশ্য সঙ্গী খুঁজে পেয়েছে!

ট্রেন আসতে মিনিট পাঁচেকের দেরি। রঞ্জন আজকে ফলিও ব্যাগটাকে ভালো করে আঁকড়ে ধরে রেখেছে – অন্যান্য দিনের মত বগলের নীচে চেপে রাখেনি। আঁকড়ে রাখার কারণ আছে। মেট্রোতে ঢুকে রঞ্জন একটা বিশেষ থামের পাশে দাঁড়ায় – বরাবর। জায়গাটা ট্রেনএর মাঝামাঝি পড়ে, যেই কামরা গুলোতে বিশেষ ভিড় হয়েনা। আজকে সেই থামের নীচে দাঁড়ানোর একটু পরেই রঞ্জন খেয়াল করলো একজন লোক – মাঝারি হাইট, কদম ছাঁট চুল, একটু নোংরা গোল গলা টি শার্ট আর কালো প্যান্ট – তাকে আড়চোখে নিরীক্ষণ করে চলেছে। লোকটাকে যেন কোথায় দেখেছে রঞ্জন। বিদ্যুতের মত মনে পড়ে গেল – পানের দকানে সিগারেট কেনার সময়। লোকটা দাঁড়িয়ে হিন্দিতে পানওয়ালার সাথে কথা বলছিল। এই ধরনের লোকেরা রঞ্জন শুনেছে বিহার ইউ পি থেকে আসে আর ছিনতাইবাজ হয়। শিকারি বেড়ালের ঘ্রাণ শক্তি এদের – হয়েত বুঝতে পেরেছে রঞ্জনের কাছে মাল আছে।

ট্রেন এ উঠে বসতে পেয়ে গেল রঞ্জন। কদম ছাঁটও রঞ্জনের কামরায় উঠলো – দাঁড়িয়ে রইল দরজার কাছে হ্যান্ডলে হাথ রেখে। চোখে চোখে রাখতে হবে একে, ভাবল রঞ্জন। “আগামী স্টেশন সেন্ট্রাল, প্ল্যাটফর্ম ডানদিকে … আগলা স্টেশন সেন্ট্রাল …” বেজে উঠলো প্রতিদিনের শোনা ঘষিকার কণ্ঠস্বরের চেনা শব্ধগুলো। রঞ্জন যাবে কবি সুভাষ – মানে গড়িয়া বাজার, কলকাতা শহরের দক্ষিণ শহরতলিতে – প্রায় প্রান্তিক স্টেশন। সেন্ট্রাল স্টেশনে রঞ্জনের কামরায় এক দঙ্গল কমবয়েশি ছেলে উঠলো। এদের কারুর মাথায় গান্ধী টুপি, তাতে কালো দিয়ে লেখা “ইন্ডিয়া আগাইনস্ত করাপশন”। রঞ্জন জানে এদের ব্যাপারে – সারা দেশ জুড়ে চলছে দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। আর দেশের কমবয়েশি ছেলে মেয়েরা ভিড়ে পড়েছে সমাজের সুদ্ধিকরণে। এরা সভা করে, মিছিল করে, দুর্নীতিকে খোলসা করে লোকের সামনে ধরে সমাজের পরিবর্তন করতে চায়। সাধারন লোকও ভীষণ সমর্থন করে এদের। কয়েকটি ছেলে এসে দাঁড়ালো রঞ্জনের সামনে।

“কি বলছিলি বল। ইনকাম ট্যাক্সের আফিসের ব্যাপারে? ট্রেন আসায় শোনা হোল না”, একজন ছেলে অন্য একজনকে বলল

“ও, দারুন মজার ব্যাপার। ইনস্পেক্টরগুলো কি করে জানিস? দেরাজের অর্ধেক করাত দিয়ে কেটে ফেলে ফাঁকা জায়গার নীচে ওয়েস্ট পেপার বাস্কেট বসিয়ে রাখে। তুই ধর ঘুষ দিলি – লোকটা চট করে টাকাটা দেরাজে ঢুকিয়ে ঠেলে দেবে। টাকাটা আর দেরাজে থাকবে না, গিয়ে জমবে ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটএ!”

“হা হা হা … দারুন কেস। এইটা জানতুম না। তারপর কি করলি?”

“আমার বাবার ফাইল ছিল। প্রতি সপ্তাহে ঘুরিয়ে চলেছে আমাকে। পরিষ্কার বুঝতে পারছি ঘুষ চাইছে – দিলেই ছেড়ে দেবে ফাইলটা। একদিন দুপুরে গেলাম, খামে টাকা ভরে। কথায় কথায় বাড়িয়ে দিলাম টেবিলে আর লোকটাও একদম ছোঁ মেরে টাকাটা নিয়ে দেরাজে। তারপর এইটা ওইটা বকতে লাগল – এই নেই সেই নেই কিন্তু তবুও সে নিজের তাগিদে ফাইল পাস করিয়ে দেবে – এই সব। এর মধ্যে আমি হটাত বললুম ‘স্যার, মুখের চুইং গামটা দাঁতে আটকে যাছে। আমার রুট কানাল করা দাঁত – কষ্ট হচ্ছে। একটু ওয়েস্ট পেপার বাস্কেট টা দেবেন, ফেলে দেবো?’ যেই বলা, লোকটার মুখ চোখ পুরো লাল। প্যানিক! ধারনা করতে পারবি না কি হাল হোল!”

“দিস পিপেল শুড বি টট আ লেসেন। পাবলিক ফ্লগিং হওয়া উচিত এই সব লোকদের”, অন্য ছেলেটা বেশ গম্ভীর হয়ে বলে উঠলো। “দিস ইজ নো লাফিং ম্যাটার”

নতুন ট্রেনের বাতানকুল কামরা হলেও রঞ্জন ফের পিঠে ঘামের আবির্ভাব বুঝতে পারল। এতদিন রঞ্জন বুঝতে পারত না কেন তার পায়ের কাছে রাখা ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটটা মাঝে মাঝেই বেপাত্তা হয়ে যায়। আর নতুন এনে দিতে বললেই উমেশ মুচকি হাসি হাসে কেন। ইনকাম ট্যাক্সের রীতি যে আবগারি বিভাগেও চলবে এইটে আর তেমন কি ব্যাপার।

গাড়ি টালিগঞ্জ ছাড়িয়ে এখন পাতাল থেকে বেড়িয়েছে। অন্ধকার হয়ে গেছে, রাস্তার আলো, ট্রেন লাইনের পাশের বাড়িগুলোর আলো – সব জ্বলে উঠেছে। কোলের ওপর রাখা, হাথ দিয়ে চেপে ধরে থাকা ফলিও ব্যাগটার দিকে তাকিয়ে হটাত রঞ্জনের খেয়াল হোল – আচ্ছা, পাইকপাড়ার মদের দোকানী এই টাকাগুলো পেলো কোথা থেকে? নিশ্চয়ই ক্রেতাদের টাকা। রঞ্জন মদ খায় না, কিন্তু মদে ভেসে যাওয়া অনেক সংসারের কথা জানে। যাদের এই টাকা তারা কি মদ খেয়ে বাড়ি ফিরে বউদের মারে? কুন্তলার মুখাটা মনে পড়ে গেল রঞ্জনের। কি ধরনের দোকান এই পাইক পাড়ার লোকটার? ভদ্রলোক বেশি যায় না দিনমজুরি পাওয়া লোকেরা? বাড়িতে বউরা হয়েত অপেক্ষা করে থাকে টাকা আনলে বাজার হবে বলে আর এদিকে বাবু মদে চূড় হয়ে ঢোকেন বাড়ি। প্রশ্ন করলেই কিল চড় লাথি জোটে বউয়ের কপালে। মনটা বিষিয়ে উঠলো রঞ্জনের। পরক্ষণেই মনে পড়ে গেল একশ ইনটু হাজারের হিসেবটা। অত ভেবে লাভ নেই। এই যে সীটে বসে আছে রঞ্জন সেই সীটে আগে যে বসেছে সে হয়েত খুনি বা গাড়ি চোর – তার খবর তো আর রঞ্জন রাখে না। তবে এই টাকা কার এই নিয়ে ভাবা কেন?

গড়িয়াতে নেমে অটোর লাইনে দাঁড়ালো না রঞ্জন। একটু পেছনে হেঁটে গেলে অনেক সময় খালি অটো তাড়াতাড়ি পাওয়া যায়। বলতে বলতেই একটা অটো এসে পড়ল – ড্রাইভার মাথা বার করে নরেন্দ্রপুর নরেন্দ্রপুর বলে ডাকছে। পেছনের সীটে গা এলিয়ে একটাই লোক বসে। দৌড়ে গিয়ে উঠে পড়ল রঞ্জন। অটোটা দাঁড়িয়ে পড়ল বাকি সওয়ারি তুলবে বলে। কিছুক্ষণ সময় লাগবে ভর্তি হতে – পরের ট্রেন এলে লোক হবে। হটাত রঞ্জনের পাশে বসা লোকটি চিৎকার করে অটোর ড্রাইভারকে গালমন্দ করতে শুরু করে দিল। ছাপার অযোগ্য কুৎসিত ভাষা – আর ভক ভক করে দেশী মদের গন্ধ! আদি গঙ্গার আবর্জনার পচা গন্ধ আর এই মদের দুর্গন্ধ দুই মিলে রঞ্জনের যেন অন্নপ্রাশনের ভাত উঠে আসার জোগাড়। এর মধ্যে ড্রাইভার তার সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে চলে এসেছে – একটা হাতাহাতির আরম্ভ হবার অপেক্ষা। কোনও লোক আর এই অটোর দিয়ে আসছে না। রঞ্জনের মাথা ঘুরতে শুরু করলো – এ কি হচ্ছে আজকে? সেই দুপুরবেলা এল কে আদক মার্কা খাম পাওয়া থেকে শুরু হয়েছে। আর পারছে না রঞ্জন – একটা ভারি পাথর যেন কেউ তার মাথায় বসিয়ে দিয়েছে। ঠিক করে ফেলল রঞ্জন – নেমে পরবে। তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে পা জড়িয়ে গেল ওর – হুমড়ি খেয়ে রাস্তায় পড়ে যাচ্ছিল আর একটু হলেই – একজনকে ধরে নিজের ভারসাম্য ধরে ফেলল রঞ্জন। আর নয় – শান্তি চায় এখন সে। আদি গঙ্গার খালের ওপর ব্রিজটার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে ফছাত করে ফলিও ব্যাগটার জিপ খুলে খামটা বের করে ফেলল। একটু ঝুঁকে খালের জলে বিসর্জন দিল রঞ্জন তার বিকেলের একশ ইনটু হাজারের হিসেব – আর ভেবে রাখা ইতিউতি কিছু পরিকল্পনা। ঝুপ করে পড়ে গেল খামটা জলের মধ্যে। অন্ধকারে কয়েকটা বুড়বুড়ি দেখতে পেলো যেন রঞ্জন। খানিক জলতরঙ্গের পর খালের জল আবার শান্ত – যেমন ছিল তেমন।

“ইষ্টিকুটুম দেখছ না যে বড়?”, মহামায়াতলার দু কামরার ফ্ল্যাটে ঢুকে জুতো খুলতে খুলতে কুন্তলাকে জিগ্যেস করলো রঞ্জন। টি ভি তে একটা ইংরেজি চ্যানেলের খবর হচ্ছে।

“ঘুরোতে ঘুরোতে দেখলাম গো – কারা যেন গোপন ক্যামেরা নিয়ে গিয়ে এক আমলাকে ঘুষ নিতে ধরেছে! সেই দেখাচ্ছে। কেতা কেতা নোট গো – আমার খুব লোভ হচ্ছিলো সে তুমি যাই বল না কেন। আমাদের যে কেন কেউ ঘুষ দেয় না!”

“হুহ, ঘুষ দেয়াও যেন অত সহজ আর নেয়াও যেন জলভাত। ছাড় ওই সব। চায়ের জল বসাও দেখি – আমি চট করে গা ধুয়ে আসছি। আজকে কি হোল তার গপ্প শোনাবো”।

বছর দশেক পর

স্টেশনটা ছোট্ট। কয়েকটা ট্রেনের ডিব্বা তো প্ল্যাটফর্ম উপচে যায়। লোকেরা হেঁচড়ে নামে – বাচ্চাদের কোলে করে নামায়। টিটি বাবু থাকেন না বললেই চলে। স্টেশন থেকে বেড়িয়েই রিকশা পাবেন। সাইকেল রিকশা। মোটরের ভটভটানি একদম নেই – তবে লোকের গলার আওয়াজ শুনতে পাবেন। রিকশাতে উঠে বসে কোথায় যাবেন বলতে না বলতেই শুনতে পাবেন আপনার ট্রেন ভোঁ মেরে ফের চলা শুরু করলো। আরও শান্ত হয়ে পড়ল চারপাশ।

নাকে রুমালটা লাগিয়ে রাখবেন। লাল মাটির দেশ তো – তার ওপর ভরা বসন্ত। খুব ধুলো উড়বে। তা বলে যেন মাঝে মাঝে ফুসফুস বোঝাই করে প্রান্তরের বাতাস নিতে ভুলবেন না! আপনি যেখান থেকে এয়েচেন সেখানে এই জিনিষ নেইকো! হাওয়াটা একটু ভেজা ভেজা মনে হচ্ছে না? হবেই তো – ওইতো আর একটু দূরে গেলেই নদী। রাস্তা একটু ঢালু হয়েছে কিনা? দেখছেন না, রিকশাওয়ালা এখন আর অতটা বেগ পাচ্ছে না গাড়িটা চালাতে। গুন গুন করে গান ভাঝছে ব্যাটা!

ব্যাস ব্যাস – এসে গিয়েছেন। পথের ধারে ওই যে দোকানটা – ওইটেই তো গন্তব্যস্থল! সবুজের  দিকচক্রভালের মধ্যে লাল হলুদের ছোপ আর মেটে ধুলোর মাঝে ধপধপে সাদা দোকানঘরটা। নামটাও বেশ – “পান্থজনের”। এখানে তো কারুর তেমন তাড়া থাকে না – তাই সবাই চায় দু দণ্ড জিরিয়ে নিতে। শরীর জিরনোর জন্যে চা, শরবত আর মন জুড়োনোর জন্যে বাউল গান – অঢেল ব্যবস্থা। সত্যিকারের বাউল গান! বাউলদেরই তো দোকান। অতিথি আপ্যায়ন থেকে পরিবেশন – সে পানীয়ই হোক বা খাবার বা গান – সব তারাই করেন। আমি তো নিমিত্ত মাত্র। বসুন না খানিক – বেঞ্চিটা গাছের নিচে নিয়ে বসুন। ওই দেখুন – মদন বাউলের আবার এখন গান পেয়েছে! সব ছেড়ে ছুড়ে বাবু বসে একতারা বাজিয়ে গান করছে – মুরশেদি বাউল গান! ভাল লাগছে না? ট্রেন যাত্রার আর রিকশা চড়ার ক্লান্তি কমে আসছে না? এই কিছুদিন হল স্যার শহুরে ইঁদুর দৌড় থেকে নিজেকে অব্যাহতি দিয়ে এইখানে আস্তানা গেড়েছি। গানে, গপ্পে, নদীর হাওায়, পলাশের রঙ্গে দিব্ব্যি কাটছে দিন গুলো…

“হওয়াই আর ইয়উ টেলিং মি অল দিস?”

মনটা পিছিয়ে গেল স্যার। দশটা বছর। সেদিনও ওই একি প্রশ্নের উত্তরে আমি এই কথাগুলো  কয়েছিলাম। দশটা বছর যে কোথা দিয়ে চলে গেল বুঝতেও পারলুম না

“সো লেট মি আস্ক এগেইন – হয়ের ডু ইয়উ সি ইয়উরসেলফ ইন দ্য নেক্সট টেন ইয়ার্স?”

“স্রেফ বেঁচে থাকতে চাই স্যার। ব্যাস, বেঁচে থাকতে চাই”।

———————————————

লেখকের কথা: সব লেখার মন থেকে কলম বেয়ে পাতায় নামার পেছনে কোনো একটা প্রভাব থাকে। এই লেখার জন্যে সেই প্রভাব বন্ধুবর তন্ময় মুখার্জির একটা ছোট্ট টুইট। কাজে ভরা দুপুরবেলায় নচিকেতার একটা গানের লাইন অকস্মাত মনে করিয়ে দিলো সে কালকে – “আমি কোনো বাউল হব এইটাই আমার এম্বিশন”

ধন্যবাদ তন্ময়!

বধ্য উম্মাদ

রিকশাটাকে সামনের রাস্তাটা দিয়ে যেতে দেখেছিল চন্দ্রশেখর। দেখেই কেমন জানি সন্দেহ হয়েছিলো সওয়ারিটির ব্যাপারে। সাইকেল রিকশাতে একলা বসে অমন হাথ ছুড়ে কথা কয় নাকি আবার কেউ? আর সাইকেল রিকশাওয়ালাটা আপন মনে পেডাল করেই চলেছে – যেন পেছনে যেটা হচ্ছে সেইটা শুনতেই পাচ্ছে না। সেই রিকশাটাই গেট পেড়িয়ে চলে যাবার পর আবার উল্টো দিক থেকে ফেরত এল। এসে দাঁড়ালো গেটের সামনে। দোতলার ঘরের জানলা দিয়ে সব দেখছে চন্দ্রশেখর। লোকটা কথা বলেই যাচ্ছে অনর্গল! হাথ তো নানা ভঙ্গিতে নাড়ছেই, মাঝে মাঝে ঘাড় বেঁকিয়ে এদিক ওদিক তাকিয়ে হাসছে, কথা কইছে! চন্দ্রশেখর এই রকম ব্যবহার দেখে অভ্যস্ত কিন্তু খানিক কৌতূহলবশে দেখতে লাগল ব্যাপারটা কি দাঁড়ায়।

সওয়ারি লোকটা জামা প্যান্ট কিন্তু ভালই পরে আছে। মাথার চুল যদিও খানিক উস্ক খুস্ক। মোটামুটি এই দুরত্ব থেকে চন্দ্রশেখর সওারির চোখে চশমা আছে দেখতে পাচ্ছে। লাফিয়ে রিকশা থেকে নামতে গিয়ে একটু হড়কে গেলেন সওারিবাবু। রিকশাওয়ালাটা হাথ বাড়িয়ে সামলে দিলেন ওনাকে। সওারিবাবু একটা হাথ রিকশাওালার দিকে বাড়িয়ে ধরেছিল – কথা বলার দমকে খানিকক্ষণ ওই ভাবেই রেখে দিল! মুখ নড়ে চলেছে অবিরাম। এখন আবার ঘুরে ঘুরে কথা বলছে – যেন রিকশাটা কোন জাগ্রত বিগ্রহ আর তাকে ঘিরে ভক্তের প্রদখখিন। একবার বোধহয় রিকশাওয়ালাটা ভাড়া ছেয়েছিল – তার দিকে বরাভয় দেবার মত করে হাথ ওঠালেন সওারিবাবু। আর কয়েক মিনিট ওই মুনি ঋষির মত ঠুটো হয়েই দাঁড়িয়ে রইলেন।

চোখের সামনে এই দৃশ্য দেখে চন্দ্রশেখর প্রথমে মিটি মিটি হাসছিলেন। একটু একটু করে হাসিতে শব্দ যোগ হল। শেষে চন্দ্রশেখর মাথা নাড়তে নাড়তে জানলার সামনে থেকে সড়ে গেলেন। হাসতে হাসতে বললেন “শালা বধ্য উন্মাদ…পাগল কি গাছে ফলে?”

ওদিকে সাইকেল রিকশার সওয়ারিবাবু লাল বাড়িটার গেটের দিকে এগিয়ে এসেছে। কান থেকে মোবাইল ফোনের তার খুলতে খুলতে দ্বারওয়ানকে জিগ্যেস করলো – “ভাই এই কে এইচ এফ এম ডি টা কোনদিকে বলতে পারেন ভাই?” দ্বারওয়ান বলল, “সে তো এই বাড়িটাই দাদা। করুণাময়ী হাউস অফ দ্য মেন্টালি ডিরেঞ্জেড। বাগান পেড়িয়ে চলে যান। বারান্দার পরেই রিসেপশন। বারান্দায় জুতো খুলে যাবেন কিন্তু”।

ঠাকুমা

“দারুণ হয়েছিল ছবিটা – সব্বাই কেমন সটান তাকিয়ে ক্যামেরার দিকে। হাসছে সব্বাই। কিন্তু এই দারুণ ছবিটাকে ঝোলানর জন্যেই কি অপেক্ষা করছিলে ঠাকুমা? নইলে অমন মোক্ষম সময়ই বেরতে হল ঘর থেকে?”

সদর দরজা দিয়ে ঢুকে বাঁ দিকে অল্প একটু ফুলের কেয়ারি। কেয়ারির গা ঘেঁষে একটু দুরেই রান্নাঘর। রান্নাঘরের দুই পাশে স্নান ঘর আর কয়লা, কাঠ রাখার ঘর। কেয়ারির উল্টো দিকে, মানে সদর দিয়ে ঢুকে ডান দিকে চার ধাপ সিঁড়ি ভাঙলেই একটা লম্বা দাওয়া। আজকের দিন হলে লোকে দিব্বি এইটিকে প্যাঁটিও বলে চালিয়ে দিত। চলটা ওঠা সিমেন্টের মেঝে – ইতস্তত কয়েকটা চেয়ার ছড়ান। তাদের একটার সাথে অন্যটার কোন মিল নেই। আর রয়েছে একটা জুতোর তাক – শু র‍্যাক। দাওয়ার লাগা তিনটে দরজা – মানে তিনটে ঘর। একদম বাঁ পাশেরটা শোবার ঘর আর মাঝখানেরটা বৈঠক খানা। শুনতেই অমন জলসাঘর মার্কা লাগে, আদতে কিন্তু স্রেফ তিনটে কাঠের সোফা পাতার মত জায়েগা – আর একটা শো কেস। দাওয়ার একদম ডান দিকের ঘরটা ঠাকুমার। উঁকি দিলে প্রথমেই দেখা যায় ঠাকুরের আসন। তাতে অনেক দেবতা দেবীরা একে পরস্পরের গা ঘেঁষে বিদ্যমান। সরস্ঘবতী ছবিটা সব থেকে বড়।ঘররের এক কোণে একটা উঁচু খাট। ঠাকুমা ওতে ঘুমন।

ক্যামেরাটা মামার। রাশিয়ান। সদ্য কেনা, এবং এক রীল সাদা কালো ফিল্ম ভরা হয়েছে। আর একটা ছবি তুললেই ছত্তিরিশ – মানে রীল শেষ আর স্টেশন রোডে এস বি স্টুডিওতে ডেভেলপ করতে দিয়ে যাওয়া যাবে। আলাদা করে দুই ভাই, তাদের দুই মার, দুই বাবার – বিভিন্ন কম্বিনেশনে ছবি তোলা হয়ে গিয়েছে। বাকি একটা গ্রুপ ফোটো। মামা নেমে গিয়েছেন দাওয়ার নীচে, আর চেয়ার মেঝে মিলিয়ে তৈরি বাকি পরিবার। সটান ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে সবাই। ডানদিককে একটু ভেতরে এনে, সবাইকে তাদের সেরা হাসি বের করার কড়া হুকুম দিয়ে খছাত করে শাটার পড়ার সাথে সাথে সেই ঘটনাটা ঘটল যেইটার সবার ভয় ছিল। নিজের ঘর থেকে ঠাকুমা বেড়িয়ে এলেন। আশির কাছে বয়েস। সেমিজ আর সাদা থান পড়নে – চৌকাঠ ডিঙ্গনোর জন্যে কাপড়টা হাঁটুর কাছে তোলা। বেড়িয়েই ছবি তোলার দৃশ্য দেখে একটু অবাক ভাবে ক্যামেরার দিকে তাকানো। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। একটা হাথ হাঁটুর ওপর। বেঁকে যাওয়া শিরদাঁড়া খানিক সোজা কৌতূহল ভরে। একটা সম্মিলিত আওয়াজে ঠাকুমা বুঝলেন যে তিনি বেশ গর্হিত কোন কাজ করে ফেলেছেন।

একগাদা চার ইঞ্চি বাই ছয় ইঞ্চি প্রিন্ট করা ফটোগ্রাফের মধ্যে এই ছবিটা হাথে নিয়ে অমিত বলে উঠল “দারুণ হয়েছিল ছবিটা – সব্বাই কেমন সটান তাকিয়ে ক্যামেরার দিকে। হাসছে সব্বাই। কিন্তু এই দারুণ ছবিটাকে ঝোলানর জন্যেই কি অপেক্ষা করছিলে ঠাকুমা? নইলে অমন মোক্ষম সময়ই বেরতে হল ঘর থেকে?”

“বুঝি নাই ভাই। বুঝলে যাইতাম না”, ছোট্ট জবাব দিয়েছিলেন ঠাকুমা

—————————————————————————————————-

“আর কোন ছবি নেই? এই ছবিটা থেকে এনলারজ করে মুখ বের করতে গেলে দাদা প্রচুর পিক্সেল এসে যাবে। অন্য কোন ছবি আছে কিনা দেখুন না?” স্টুডিয়োর মালিক ফটোটা মন দিয়ে দেখে বললেন অমিত সেনকে। “বলছেন বিখ্যাত মানুষ অথচ এই একটাই ছবি?”

“বিখ্যাত তো বটেই। টাউনে বিদ্যুৎ আসেনি তখনও। হ্যারিকেন নিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মেয়েদের পড়াতেন। সেই পয়সায় সংসার চালাতেন আর কিছু জমাতেন মেয়েদের জন্যে স্কুল খুলবেন বলে। আমার ঠাকুমা। ওনার জীবনের ওপর একটা প্রবন্ধ লিখছি। কিন্তু এই গ্রুপ ছবিটা ছাড়া তো আর কোন ছবি নেই”।

 

Friend Request

Apurba’s fingers froze. Cradling the mouse, all of a sudden it seemed someone had soaked off all sensation from the index finger of his right hand. All he had to do was press the button that will click away a small green button on the screen of his Macbook Pro. The green button that said “Send Friend Request”. The autumn afternoons were getting shorter. The sun had lit up the tall buildings of midtown Manhattan ; they in turn radiating the golden orange glow across the Hudson. Chunks of ice floated down the river as Apu looked out from his twenty second floor apartment window on Washington Boulevard in Jersey City. His eyes roving between the profile picture of a lady looking slightly to the left of the camera, her pearl like set of teeth perfectly offset by the hint of red on the lips – curled in a smile. She was wearing glasses that reflected a large patch of green and some sky. The oval rimless glasses looked nice on Kaveri’s roundish face. Like a movie, Apu’s mind went back eleven years. There was the vastness of an open green – the maidan – and a stunning sunset playing out elaborate dramatics in the September Kolkata sky. The fierce battle of regime change between the monsoon and autumn, reflected in the glass facade of the Tata Center, almost like how the Empire State Building today reflected the autumn New York sun

————–oooooo—————

The evening was smelling of wet earth, of crushed leaves on the pavement and burnt diesel – a heady concoction. Apu was pacing the sidewalk across Everest House, a tall building in downtown Calcutta across the vast open space – the maidan, lush lungs of a three hundred year old city. Chartered buses plying from the northern suburbs of Barasat terminated here in the morning – and started from here for the return trip once office-time ended. Apu was not employed but Kaveri was. She worked in the public relations department of Tata Steel – the imposing building across the street. They had met each other at a friends place three years ago. They had fallen in love on the day a fire broke out at the Calcutta Book Fair; Apu had located Kaveri in the scramble and safely escorted her out from what was an impending situation of stampede. Over snacks at Ganguram on that day, they first held hands

Kaveri was keen on marriage – pressure from her parents now that she had a job was only catalyzing her intent. Her parents, though aware of Apu, did not know the relationship. Apurba on the other hand was reluctant. He was studying for his MBA and had only the final set of exams to write to qualify as a chartered accountant. Kaveri wanted to bring the matter to a head and for the whole week pestered Apu to at least accept that her parents should approach Apu’s father to broach the matter of marriage. It was tough for her, Kaveri explained, to even break the matter of their relationship to her parents – leave alone pressing for a marriage. For some reason, Apu had a one dimensional stance – cannot marry before getting a job and job will come only after academics concluded. Apu met Kaveri every evening and travelled with her back home, sharing a few moments of tenderness in a bus full of passengers.

Sitting next to the window that evening Kaveri at first was stern in her demand for a definite answer from Apurba and then, by the time the bus got onto the Eastern Bypass, had tears in her eyes. She turned away from the window, put her head on Apu’s shoulder and begged him in whispers to say yes. The light floral fragrance of Kaveri’s perfume choked Apu. He looked out into the darkness through which the bus cut through. At every streetlight the halogen cast a slanting sliver of glimmer on Kaveri’s face. Her eyeliner was running a bit, Apu noticed

“It will be Ultadanga soon, Apu”, Kaveri begged as the bus approached Apu’s stop. “Please, please tell me a yes. End my misery”. Apu remained stubborn and once again explained in his rational voice why they must wait for more time. By now the droplets of tears had transformed into steady trickles. And it had started drizzling outside. Pulling the half-glass window shut, Apu – for no particular reason said “I am not getting down here. I will go till your stop”. The rain splattered on the window, the halogen light shining through the droplets of water that struck on the glass. Yellow shadows crossed Kaveri’s roundish face as she shifted her head to rest on the window

Kaveri got off the bus at the airport. Apu reasoned that he will travel a bit farther to catch a bus from its terminal point – from where he will be able to get a seat. Kaveri asked if he could get down with her and walk the ten minutes to her home. “Busses from here are very crowded. And it is raining”, said Apu – rational as ever. Kaveri got down and stood for a while, oblivious that she should open her folding umbrella. She looked up at the window and smiled at Apu – the only time in the past ninety minutes that she had smiled. She raised her hand and extending her thumb and little finger made a gesture that asked Apu to call her over the weekend. The rain had already made the shoulder of her light pink kurta wet

Apu never called Kaveri. He left town for a month and went to live with his elder brother in Bombay – allegedly to study together with some friends he had made during a management school program in Calcutta. The truth was he wanted to get away from Kaveri. For a while. Not Kaveri as much as her relentless pressure to get married. Apu’s one month absence from Calcutta went on to become two

“Oh, how come you did not know Apu-da? Didi got married last month and they now live in Bombay”. Apu met Kunal, Kaveri’s younger brother, one day at the Chakrabarty Chatterjee bookstore at College Street in Calcutta. Apu had the inkling that something was amiss – his phone calls to Kaveri’s home went unanswered and the only thing he was able to learn from her office is that Kaveri Sarkar no longer worked there. “Jamaibabu works for Pepsi. And you know how much a Coke fan didi is. I am sure they are having a lot of fun!”

————–oooooo—————

Apurba enlarged the profile picture as much as he could. He could now see the little black mole at the corner of Kaveri’s upper lip. Happiness has a natural way of announcing itself from the eyes. Kaveri Sarkar-Ghosh by that measure looked very happy, radiant actually. Meanwhile, the sun over Manhattan had paled, reducing the Empire State and Chrysler buildings to a dull blackish orange glow. The Empire State Building today was lit in yellow. Apu remembered the glow of the yellow halogen on Kaveri’s face that evening in the chartered bus

Mustering up courage and then in a flourish Apurba Sen, Head of Mortgage Research at Wells Fargo, clicked on his laptop screen the little green button that said “Send Friend Request”

আমায় ডুবাইলি রে, আমায় ভাসাইলি রে

সৌম্য ব্যানার্জি এখন কি করছে জানি না তবে সেইদিন দুপুরে আমার সঙ্গে ব্যাটিং করছিল।

ইন্ট্রা কলেজ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের সেমি ফাইনাল। আমাদের থার্ড য়িয়ার বনাম কচি কাঁচাদের ফার্স্ট য়িয়ার। পঁচিশ ওভারের খেলা হতো। উত্তেজনা থাকত বেশি, আয়োজন তার চেয়ে ঢের কম। শীতের নরম দুপুরের রোদে ছাত্র ছাত্রীদের ভিড় জমত খেলার মাঠে। আম্পায়ার নিরপেক্ষ – যে দল খেলছে না তাদের থেকে দুজন। স্কোর রাখা নিয়েই হত মুশকিল। যুধ্ধুমান দুই দলই নিজেদের স্কোরার বসাতো – যাতে কারচুপি না হতে পারে। সেই প্রথম আমি স্কোরে জল মেশানো ব্যাপারটা জেনেছিলুম (পরে সেই পদ্ধতিতে বার্ষিক সেলস কোটায় জল মেশাতে চেষ্টা করেছি – উইথআউট এনি সাকসেস)

যাক, ম্যাচের কোথায় ফেরা যাক। পুটকেগুলো প্রথমে ব্যাট করে বেশ বেধরক ঠেঙিয়ে গুচ্ছের রান বাগিয়ে বসলো। সব থেকে বেশি প্যাদানি খেয়েছিল আমাদের লীড পেসার – সৌম্য ব্যানার্জি। ওর বোলিং তো মার খেয়েছিলই – তার থেকে বেশি মার খেয়েছিলো ওর প্রেস্টিজ। সবে কেমিস্ট্রির রেশমীর সাথে প্রেমটা অঙ্কুরিত হচ্ছে – বাস স্টপ থেকে বাড়ির দুয়ার অবধি এগোনোর সাহস সঞ্চয় হয়েছে। সেই রেশমী বাউন্ডারির বাইরে বসা আর তার সামনেই ফার্স্ট য়িয়ারের ছোড়া কিনা পর পর তিন বলে তিন চার চাবকে দিল? আর করবি তো কর বল করতে নেমে পটা পট আমাদের চার ব্যাটসম্যান নামিয়ে দিল সামান্য রানের বিনিময়? প্রেস্টিজ তখন রালি সিং এর ফালুদার মত কুচি কুচি।

আমি বরাবরই সর্ব ঘটে কাঠালির মত – স্লিপে ফিল্ডিং, হালকা স্পিন বল আর মিডিল অর্ডার নুন আনতে পান্তা টাইপ ব্যাট। আমার ওপর কিনা এসে বর্তালো এই রানের মহাসাগর পার। তবে কিনা আমিও তখন খানিক দেস্পো। থার্ড য়িয়ার হয়ে গিয়েছে, মেয়েরা স্রেফ এসে আঁক কষিয়ে ফুটে যায় – বেশ বুঝতে পারছিলাম ওই এক্সট্রা কারিকুলারএর ছিপেই খেলিয়ে তুলতে হবে কিছু একটা। এন্ড হওয়াই ওয়েস্ট সাচ এন অপ্পরচুনিটি? ক্রিকেটে দলের পিঠে দেয়াল – সামনে ফাইনালের হাতছানি আর রানের পাহাড়। এদিকে হাথে উইকেট বেশি নেই। পরে অবিশ্যি ওই একই থিমে আমির খান গ্রেসী সিংহ আর এক মেমসাহেবকে এক ছিপে গেঁথে তুলেছিল। তবে সেইদিন কলকাতার বুকে চলছিল মহারণ। আমি যত পাগলা মনটাকে বেঁধে মন দিয়ে খেলার চেষ্টা করি, সৌম্য ততই “ফাইট” “ফাইট” বলে প্রায় প্রতি বলের পরেই বক্সারের মতো হাথ ছোড়ে। বাঁকা চোখ রেশমীর দিকে। যাই হোক, কিছু কোদাল চালিয়ে, কিছু তানপুরা বাজিয়ে আমরা রান সংগ্রহে মন দিলাম।

এইবারে স্কোর রাখার ব্যাপারটা বলি। আমাদের হয়ে স্কোর রাখছিল শুভাশীষ। উঠতি গায়ক। কলেজ ফেস্টে মাইক খোলা পেয়ে গিটারিয়া দেবুকে বার খাইয়ে হয়েত তোমারি জন্য গেয়ে দারুন নাম করেছে। আর ওদের – মানে ফার্স্ট য়িয়ারের হয়ে স্কোর রাখছিলো অর্পিতা। শুভো আর অর্পিতা দুজনেই বাগবাজার অঞ্চলে থাকে – সুভোর পুরোদস্তুর নজর আছে অর্পিতার ওপর। স্কোর রাখা হত খাতায় আর একটা ওভার শেষ হতেই – বা দরকার পড়লে তার মধ্যেও – চিত্কার করে স্কোর বলা হত খেলোয়ারদের জন্যে। “আর বাকি দশ ওভার, দরকার সত্তর রান” – এই ধরনের। সুভাশিষের গানের গলা (গণসঙ্গীত নয়) – তাই অর্পিতার গলাটাই পাচ্ছিলাম বেশি। ব্যাট করতে করতে তো আর রান গোনা যায় না, কিন্তু যতই ঠেঙিয়ে রান তুলি না কেন, আস্কিং রেট্ যেন আর নামতে চায় না। আর সৌম্যও ফাইট এর ডেসীবেল বাড়িয়ে তুললো। কিন্তু সেই যাই হোক, শেষ রক্ষা হলো না। ঠিক মনে নেই, কিন্তু এই খানিক দশ বারো রানে আমাদের হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেল ফার্স্ট য়িয়ার।

কিছুদিন পরে ফাইনালের দিন জানতে পারলাম এই স্ক্যাম অফ দ্য সেঞ্চুরি র ব্যাপারে (নব্বই’এর দশক, তাই সেঞ্চুরি সম্বন্ধে একটা ভালো ধারণা হয়ে গিয়েছে। এই স্ক্যাম বোফর্স কেও হার মানায়) প্রথম সন্দেহ হলো অর্পিতাকে স্কোর রাখতে না দেখে। আমার বাড়ির গলিতেই থাকে ফার্স্ট য়িয়ারের সুগত – লাড্ডু নামেই বেশি পরিচিত। চেপে ধরলুম আর লাড্ডু হড় হড় করে উগরে দিল সেই কারচুপির গপ্প। সেইদিন দুপুরে আমাদের ব্যাটিং শুরু হতেই নাকি অর্পিতা সুভাশীষদার প্রতি প্রেম রসে চুপচুপে কিছু মান্না দের গান শুনতে চেয়ে আবদার করে। কেন শোনাবে না শুভো? ঘাড় একটু সোজা করে চোখ বন্ধ করে শুভো গান ধরলো “ঘর ও সংসার সবাই তো চায়” ও পরে “লতিতা ওকে আজ চলে যেতে বলনা” র মত কালজয়ী গান। প্রেমরসে ভারী হয়ে উঠলো পরিবেশ। এর মধ্যেই সৌম্য মারলো এক অনবদ্য কভার ড্রাইভ – হাক পাক করে দৌড়ালাম তিন রান। শুভ গান থামিয়ে জিজ্ঞেস করলো “কত হলো?” “এক রান শুভদা, তুমি গানটা শেষ কর দেখি!”, বলল অর্পিতা। এই ভাবেই চলল স্কোর রাখা। সৌম্য’র ফাইট কে তলিয়ে চলছে “তুমি অনেক যত্ন করে আমায় দুঃখ দিতে চেয়েছ, দিত পারনি” – ঠিক যেন বানর আর তৈলাক্ত বাঁশ। শেষে যখন “যেদিন লব বিদায় ধরা ছাড়ি প্রিয়ে ধুয়ো লাশ আমার লাল পানি দিয়ে” তখন আমাদের অবস্থা সেই বটগাছতলায় দেবদাসের মত। খেল খতম।

গত কাল ইহলোক ত্যাগ করেছেন মান্না বাবু – ওনার গান আমাদের ডুবিয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগেই!

School Bus

Poor Naveen was late

It was the day to get back after an extended weekend. A weekend that also involved the Durga Puja, which unfailingly means heaps of fun. Naveen was not a Bengali (for who the festival is real big) but had lived a couple of years at Durgapur, a town some one hundred miles west of Kolkata, built around a steel plant. The time, though short, was enough to indoctrinate him to the five days of sheer fun that Durga Puja was. It was this morning-after, however, that Naveen dreaded the most. The alarm clock would blare its gut even when the winter solstice sun barely peeped out to say hello. The mind was still groggy from the sweets of the previous evening. An inevitable shrill lady voice would announce shortly – Naveen you are late. The mad scramble then to get ready for yet another day

Naveen, short and not really very well built, now started to walk briskly to reach his bus-stop just outside the gate of the community where they lived. The bus arrives precisely at 7:10 am – and the driver (who in his past life must have been an army fellow) was least likely to wait that extra minute in case someone was late. Naveen noticed the door to Manish’s home was ajar – shit, Manish then must have already made it to the bus stop. Usually Naveen met Manish at his gate and chatted their final few meters to the bus stop. Clutching his shoulder slung bag to reduce swing, Naveen now broke into a run. Actually he had wanted to reach the bus stop early today. To take his chances of sitting next to Alpana, the drop-dead beautiful Bengali girl with large bewitching eyes. Alpana usually got great sweets the day after Dussehra – or Bijoya as she keeps referring to the festival. More than the sweets, it was Alpana’s fragrance mixed with the light petrol smell of the bus that Naveen felt was a heady olfactory concoction early in the morning. Taking the sharp turn at the clubhouse, Naveen could now see the gate and as he puffed his heart out he remembered he had forgotten his tiffin box on the dining table. For a moment he froze, trying to make the decision whether to rush back. He could visualize the lonely Tupperware “dabba” sitting atop the dining table. The digital watch on his wrists said 7:07. Ditch – he decided! On the day when everyone at lunch time will be hunched up at the desks hogging and exchanging dussehra goodies, Naveen will have to walk down to buy some food. But that is better than missing the bus. And Alpana. The bus, goddamn it, was already at the bus stop. The engine was running and it was just about to move – without Naveen – when Alpana sitting next to a window saw him running. Alpana half raised herself from her seat and gesticulated. The bus stalled and the driver put his flailing arm out to rush Naveen – as if he needed the hustle. Ahmed, the driver, was always in a hurry. Naveen barely had any breath left in his lungs or force in his legs as he pushed himself up the three steps and hauled himself and his bag onto the bus cabin. He was greeted with the usual cheer from his mates. The cheer of congratulations in making it to the bus combined with the good-to-see-you-again cheer after the extended weekend. Naveen slid the bag from his shoulder and noticed the seat next to Alpana was taken. Flopping down on a seat next to Gurdeep, Naveen gulped his own saliva to soothe the dry throat. Gurdeep turned towards Naveen, thrust his hand out and said, “Oye, happy dusserah yaar. How was last quarter for you? Targets met?”

The company bus, having picked up its final passenger, started the one hour drive towards Electronic City.

One cannot call this a short story. It is a mere chronicle of an incident involving office-going adults; parts of an event I often witness in my mornings. My memories take me back to my school days and it is impossible to not notice the sheer similarity of circumstances. Did a giant black hole devour the intervening years or are we destined to relive our pasts no matter how much we have walked ahead along the sands of time?

দুগ্গা পুজোর দশ

পূজোর আর মাত্র কয়েক দিন ঘন্টা বাকি। মোহনবাঁশি রুদ্র পাল পাঞ্জাবির হাতা ঠিক করে নিতে নিতে নিজেকে প্রশ্ন করছেন – হ্যাভ আই মেড ইট লার্জ? মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির দুঁদে ভাইস প্রেসিডেন্ট সান ফ্রান্সিসকোর কন কল ক্যানসেল করে দিচ্ছেন আলোকসজ্জা ফাইন টিউন করবেন বলে। কোন্দোমিনিউম এর কমুনিটি হল থেকে ভেসে আসছে “শুভ্র শঙ্খ রবে” এর কোরাস। কতক লজ্জা কতক কোমরের ঘের পেছনে ঠেলে রেবা, অর্পিতা, দেবযানী, দীপালি বৌদিরা পা মেলাচ্ছেন তালে তালে। মোদ্দা কথা হলো দা ফেস্টিভাল ইজ ইন দা এয়ার। কিন্তু আপনি? আপনি তৈরী তো? টু টেক দা বুল – মানে থুড়ি মহিষাসুর – বাই দা হর্ন? চট করে দেখে নিন আপনার দশভূজার দশটি মোক্ষম অস্ত্র। এইগুলি না নিয়ে মাঠে নেমেছেন কি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এর মতো কচু কাটা হয়েছেন (দরকার পড়লে একটা প্রিন্ট নিয়ে সঙ্গে রাখুন)

পুদিন হারা: অথবা রানট্যাক। বাগবাজারে জমিয়ে সিঙ্গারাটা খেলেন যে, গাড়ি যতক্ষণে পাঁচ মাথার মোড় আসবে তখন গোল বাড়ির কষা মাংসের গন্ধ কি ভ্যারেন্ডা ভাজবে নাকি? আর যদি মানিকতলা এড়িয়ে সেন্ট্রাল এভিনিউ ধরেন তাহলে গিন্নী কি চাট দেখে হতভম্ব কুইজারের মত “পাস” বলবেন? সঙ্গে রাখুন ছোট্ট সবুজ বড়ি – টুক করে চালিয়ে দিন। দেখবেন যতক্ষণে সব ঘাটের জল খেয়ে বেদুইনে পৌছেছেন ততক্ষণে পেটে গণেশের ইঁদুর ডিস্কো করছে। ঝাঁপিয়ে পড়ুন মশাই – ডরনেকা নেহি, পুদিন হারা খানেকা

ব্যান্ড এইড: হেঁটে যদি ঠাকুর না দেখলেন তো করলেন কি? ঔক্কে, মে মাসে কেনা আই টেন টা নিয়ে বেরোবেন? যেখানে পার্কিং করবেন সেখান থেকে বালিগঞ্জ কালচারাল প্রচুর দূর। আর পায়ে নির্ঘাত নতুন টাটকা শ্রী লেদার্স? ওই যে নরম সরম জেলি মার্কা জিনিষটা গোড়ালির কাছে উঁকি দিছে ঐটে খেয়াল করেছেন? একডালিয়া র দত্ত মেডিকেল বন্ধ। করবেন কি? নেংচে মরে পালিয়ে যাবার রাস্তা ধরবেন? তৌবা তৌবা। ঘাবড়াও মত পদাতিক – পকেট থেকে ব্যান্ড এইড বের করুন, লাগান আর হাজার বছর ধরে পথ হাঁটুন পৃথিবীর বুকে

খুচরো টাকা: বিশেষ করে যদি গাড়ি নিয়ে বেরোন। পার্কিংএর ছোকরা কে একশো ধরিয়েছেন কি কোথায় ধা হয়ে যাবে নেতাজীর মতো – আর টিকিও দেখতে পাবেন না। নেমে যে চেইজ করবেন প্রখর রুদ্রর মতো সেও সম্ভব নয় – পেছনে গাড়ি হর্ন এবং গলা বের করে হুড়ো – দুই ই দিতে শুরু করেছে। বুক পকেটে খুচরো টাকা রাখুন – ভুলবেন না। আজকে থেকে অটো অন্ধকারে যে কাটা দশগুলো গছিয়ে দিয়েছিল সেইগুলি জমিয়ে রাখুন।

পাতি নোকিয়া ফোন: মনে পরে সেই খুদে বিতিকিচ্ছিরি দেখতে ফোনটিকে? মাই ডিয়ার ফ্রেন্ড, এই পুজোয় ঐটিকে বের করুন, আর একটা প্রি পেইড সিম ভরুন। আরে বাবা জানি, আপনার কাছে কাম্পানি প্রভাইডএড আই ফোন ফাইভ আছে, নিয়ে বেরোবেন। কিন্তু যতবার মায়ের সামনে হাথ ওঠাবেন ভক্তিতে সেই ফাঁকে টুক করে একটা ছবি কি তুলবেন না? আর ছবি ই যদি তুললেন সেইটে কি টুইটার বা ফেসবুকে দেবেন না? আর দিলেনই যদি, কটা রি টুইট বা লাইক পেলেন ঘন ঘন দেখবেন না? মশাই, এই করতে করতে কলেজ স্কোয়ার থেকে মহম্মদ আলী পার্ক পৌছাতে পারবেন না ব্যাটারির চৌদ্দটা না বাজিয়ে। তখন সরলা মাসীকে কালকে বেলা করে আসতে বলার ফোনটা করবেন কথথেকে শুনি? বের করুন নোকিয়া, লাগান নাম্বার। ইউ আর অল সেট

এইচ এম টি ঘড়ি: ছাড়ুন মশাই ওই সব ট্যাগ হোগার, বউম মের্সিয়ার আর ওমেগা। সন্তোষ মিত্র স্কোঅরের লাইনের ভিড় ভুলে গেছেন? মানুষের স্রোতে আপনি স্রেফ একটি খরকুটো। ভেসে চলেছেন। কার হাথ ধরছেন টাল সামলাতে, কে আপনাকে খিমছে ধরছে কিছুই বুঝতে পারবেন না। বৌবাজারের মোড়ে এসে যখন “কটা বাজে রে?” বলে কব্জি ঘুরিয়েছেন ততক্ষণে মাল ফাঁকা। গেলো তো, গত বছরের বোনাস? ওই রাস্তাও মাড়াবেন নি (ধুর মশাই, নেবুতলা পার্ক যাবেন, বারণ করছি না) – কিন্তু হাতে রাখুন এইচ এম টি অশোক। যেমন নাম তেমন কাম – চলে গেলেও পস্তাবেন না। পরের মাসে পাঁঠার মাংস থেকে বিরত থাকুন – দেখবেন ঘড়ির দাম উঠে এসেছে। কলেস্টলও কম।

হাথ পাখা: আরে না বাবা – রথের মেলায় যে শক্ত ডাঁটি ওয়ালাগুলো পাওয়া যায় সেগুলি নয়। বেশ হাল ফ্যাশনের ফোল্ডিং পাখা। দেখতে মাউথ অর্গানের মতো কিন্তু খুলে ধরলে যেন সাওয়ান কা মাহিনা তে বানওয়া নাচে মাউর। সুক্ষ কারুকাজ করাও পাওয়া যায় – দাম একটু বেশি পড়বে। বগলে ডিও স্প্রে করা হয়ে গেলে এক পোঁচ খুশবু এইটেতেও মেরে দিন। ঝলকে ঝলেক গন্ধ ছড়াবে, পলকে পলকে পুলক। কি বললেন, কেন নিয়ে বেরোবেন? ও হরি – তা নেবেন না তো গাড়ির পেছনের সীটে বসে কি সেদ্ধ হবেন নাকি? এ সি চালাবেন? মশাই আশি টাকা পেট্রল – বাপের জমিদারী না শ্বশুরের মিনিস্টারি – কোনটা আছে? এ ছাড়া যখন কাকুড়গাছির হানি দা ধাবাতে ডিনার খাবার লাইনে বসে থাকবেন তখন মৃদু মন্দ হওয়া খেতে পারবেন – খিদেটা চনমনে পাবে, মেজাজ কন্ট্রোলে থাকবে।

ছাতা: নাক সিটকোবেন না – একদম না। এই রাজ্যে ওনারা সংখ্যায় কমতে থাকলেও বিধির কিন্তু বাম হতে এক সেকন্ডও লাগে না। মুদিয়ালির মোড়ে আকাশ ভেঙ্গে বৃষ্টি এলে করবেনটা কি? গাড়িবারান্দার নিচে কতক্ষণ দাড়াবেন? সঙ্গে ছাতা থাকলে নির্ভয়ে রাসবিহারীর দিকে হাঁটা দিতে পারবেন পথে এবার নামো সাথী পথেই হবে পথ চেনা গুনগুন করতে করতে। আবার নাক সিটকোচ্চেন? আরে মশাই স্টাইলের সাথে কে কম্প্রমাইজ করতে বলেছে? বার্গান্ডি রঙের কুর্তার সঙ্গে রং মিলিয়ে কিনুন না হালকা অ্যাশ কালারের ছাতা। দেখবেন ম্যাডক্সএর ভিজে সুন্দরীরা কেমন ঈর্ষার চোখে তাকাবে।

ডি এস এল আর: ছাড়ুন তো মশাই আপনার স্যামসাং এস থ্রির আট মেগাপিক্সেল। চাঁদে আর পোঁ … যাগ্গে। কম আলোয় তুলবেন শিব মন্দিরের প্রতিমার ছবি, কলেজ স্কোঅরের আলোর প্রতিবিম্ব জলের মধ্যে, শ্রীভূমির দুর্গার হাথে ঘুর্ণীয়মান চক্র, এক্সটেন্ডেড এক্সপোজারএ একডালিয়ার বয়ে যাওয়া ঝাপসা জনস্রোত। তখন ডি এস এল আর ছাড়া কিছুই পোষাবে না। মনে রাখবেন আপনি টেস্ট ম্যাচের খেলোয়াড় – আনতাবরি বিশ-বিশ এর জুয়াড়ি নন। ফেসবুকেই জীবন শেষ নয় – বিজয়ার অতিথি আপ্যায়ন আছে। কুচো নিমকি, নারকেল নাড়ু আর সিঙ্গেল মল্ট এগিয়ে দিয়ে টেবিলে ছড়িয়ে রাখবেন তোলা ছবিগুলো। দেখবেন মিসেস ঘোষ আপনাকে টোটালি অন্য চোখে দেখতে শুরু করবেন।

রুমাল: দুটো। মিনিমাম। পারলে একটা একটু টার্কিশ তোয়ালে গোছের। মনে রাখবেন এইটে দুর্গোত্সব – ক্রিসমাস নয়। গরম থাকবে – ভ্যাপসা ধরনের। কপালের দুই দিক দিয়ে পদ্মা গঙ্গা বয়ে যাবে। নাকের ডগায় ঝুলে থাকবে টলটলে ঘামের ফোঁটা। ঘাড়ের থেকে ডাউনস্ট্রিম নেমে ভিজিয়ে দেবে আপনার আনন্দ থেকে কেনা ডিজাইনার তসর পাঞ্জাবি। এই সবের কিছুই হবে না যদি মনে করে সঙ্গে রুমাল রাখেন। অঙ্কুরেই বিনাশ করুন ঘামকে। মুখ, ঘাড় আর মন – তিনটিই ফুরফুরে থাকবে।

১০ পুজো স্পিরিট: এইটে কিন্তু না নিয়ে বাড়ি থেকে একদম বেরোবেন না। ঠিক আছে – আপনি এমনিতে হায়াত ছাড়া বাইরে খান না – কিন্তু অষ্টমীর রাতে লেকটাউনের ফুঠপাথে যদি ডাবল এগ মটন রোল খেয়ে চোয়া ঢেকুর না তোলেন তো কল্লেন কি স্যার? এমনিতে ভিড় পছন্দ করেন না – অপরিচিতের গা ঘেষাঘেষি একদম নো নো। আরে বাবা, রোজ করতে তো বলছি না – পুজোর সময় কমন ম্যানের কাঁধে কাঁধ মেলান না – দিব্ব্যি লাগবে। মনে গুনগুন করে সলিল চৌধুরী ভাজুন – আরো বেটার ফীল করবেন। সসিয়ালিসম’এর প্রতি বিশ্বাসটা দেখবেন ফের অঙ্কুরিত হয়ে উঠছে।

কিছু মিস করে গেলুম নাকি? মারুন মারুন কমেন্ট মারুন জলদি।

বোলো দুগ্গা মাইকি – জয়!

Follow

Get every new post delivered to your Inbox.